,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গয়েশ্বরের আত্ম-অহমিকা ও স্পর্ধায় নাখোশ বিএনপি’র হাইকমান্ড

লাইক এবং শেয়ার করুন

নুর এ আলম ছিদ্দিকী #  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে বাকসর্বস্ব বাঘ বলে মনে করেন নেতা-কর্মীরা। নানা সময়ে বিতর্কিত চটকদার কথা বলে মিডিয়ায় থাকতে পছন্দ করেন তিনি। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে পারেননি। তাঁর মনগড়া কিছু না হলে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে গালমন্দ দিতেও তিনি দ্বিধা করেন না। গত ২০ নভেম্বর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে ছোট-খাট বর্নাঢ‍্য আয়োজন করেছিল দলটি।

স্থায়ী কমিটির সদস্যবর্গ, ভাইস-চেয়ারম‍্যানগণ, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস‍্যগণ, অংগ ও সহযোগী সংগঠনের ২ জন নিয়ে ছিল আমন্ত্রিতদের তালিকা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে উপস্থিত ছিলেন না গয়েশ্বর-আব্বাস-আফরোজা আব্বাস ও তাদের অনুসারীরা। বেশ কিছু নেতা কর্মী সেদিন তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। গেল ১৯ জানুয়ারী দলের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১ তম জন্মবার্ষিকীতে জিয়ার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দলটি। সেখানেও অনুপস্থিত থাকেন গয়েশ্বর। অনুসন্ধানে জানা যায়, যুবদলের কমিটিতে নিরবকে বাদ দিতে যারপরনাই সব কিছুই করেছেন বাবু গয়েশ্বর। কিন্তু গত দুটি বড় আন্দোলনে নিরবের ভূমিকায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছিলেন দারুণ খুশি। তাই গয়েশ্বর-আব্বাস-বুলু-আলাল গংরা নিরবকে আটকানোর সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে সাইফুল আলম নিরবকে পুরষ্কৃত করেন। এতেই জ্বালা ধরে বাবুর এবং জিয়ার মাজারে না যাওয়ার মত স্পর্ধা দেখিয়েছেন। নেতা-কর্মীদের অভিযোগ আছে,এর আগে বোরখা পরে হাইকোর্টে হাজির হয়ে নেতা-কর্মীদের মনোবল তিনি ভেংগে দিয়েছেন।

যে ছাত্রদলের দুই-তিনশ’ নেতা-কর্মী এখনো গুম হয়ে আছে সে ছাত্রদলকে তিনি প্রকাশ‍্যে উপহাস করে থাকেন। দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম‍্যান তারেক রহমান আর কোনদিন দেশে না ও আসতে পারেন,এমন বক্তব‍্য তিনি প্রকাশ‍্য আলোচনা সভায় দিয়েছেন। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা সাথে সাথেই তীব্র প্রতিবাদ করে। নাসিক নির্বাচনে বাবুর ব‍্যক্তিগত লোভ ও দায়িত্বহীন আচরেই এত বড় পরাজয় বলে সকলের মুখে মুখে। এছাড়া স্থায়ী কমিটির অন‍্যান‍্য সদস্যদেরকেও বাবু নানা সময়ে কটূক্তি করে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস‍্য বলেন-“স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যদের মর্যাদা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বাবু ওয়াকিবহাল নয়। এ জায়গায় থেকে কি বলা যায় আর কি করা যায় এটাও তিনি বুঝেন বলে মনে হয় না। স্থায়ী কমিটির মিটিং গুলোতেও তিনি অশালীন আচরন করে থাকেন।

এসব নিয়ে নেত্রীর কাছে অভিযোগ করতেও রুচিতে বাঁধে”। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বেগম জিয়া তাঁর অনেক আবদারই রক্ষা করে থাকেন,কিন্তু নির্বাহী কমিটি গঠনে গয়েশ্বরের আত্মীয়-প্রীতিকে তীব্রভাবে ভৎসনা করেছেন। ইহা উল্লেখ‍্য যে,কন‍্যা ও পুত্রবধূ সমেত নিজ পরিবারের ৭ জন সদস‍্যকে নির্বাহী কমিটিতে রাখার নজির সৃষ্টি করেছেন গয়েশ্বর। তবে এই নিয়ে পারিবারিক আভ‍্যন্তরীণ কন‍্যা-পুত্রবধূ গ্রুপিং ও ফেসবুকের কল‍্যানে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব অপকর্ম ও আস্পর্ধায় হতাশ নেতা-কর্মীরা। অবাক বিএনপির হাইকমান্ডও। বিষয়গুলো খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নজরে আছে বলে জানা যায়। তবে এই সবের মাঝে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকাও বিরাজ করছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ