,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বদলে যাচ্ছে আ.লীগ?

লাইক এবং শেয়ার করুন

নিয়ন মতিয়ুল : উপমহাদেশের প্রাচীন ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির বদল ঘটছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষাসহ জনকল্যাণমুখী কাজে আত্মনিয়োগ করতে নেতাকর্মীদের বার বার তাগাদা দেয়া হচ্ছে। অন্যায় কাজের জন্য কঠোর শাস্তি পেতে হবে বলেও সতর্ক করে দিচ্ছেন শীর্ষ নেতারা। দলটির কুড়িতম জাতীয় সম্মেলনে পর দলীয় প্রধানসহ শীর্ষ নেতারা এমন কঠোর মনোভাবই প্রকাশ করছেন। দলের ভেতরেও কঠোর অবস্থান নেয়া হচ্ছে। কোনো নেতাকর্মী অন্যায়-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এখন থেকে কারো ব্যক্তিগত দায়ভার দল নেবে না।

অন্যায়-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার দৃষ্টান্ত ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে। জাতীয় সম্মেলনের পর এক মাস পেরুতে না পেরুতেই কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ দলটি।

রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি আর দুর্বৃত্তায়নের কবলে পড়া সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমতাসীন দলের এ দৃষ্টান্ত স্বস্তিদায়ক হলেও কেউ কেউ এটাকে দেখছেন ভিন্নদৃষ্টিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত সময়ে স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে নানা অভিযোগ ওঠায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে আওয়ামী লীগকে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওইসব অভিযোগ এড়াতে কৌশল প্রয়োগে নেতাকর্মীদের নির্বাচনমুখী করা হচ্ছে।

কুড়িতম জাতীয় সম্মেলনে নব নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে ‘দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’ বলে একাধিকবার সতর্ক করে দিয়েছেন। তার সেই ঘোষণার অংশ হিসেবে ‘অ্যাকশন’ নেয়া শুরু করে দলটি।

গত ২৮ অক্টোবর গুলিস্তানে ফুটপাত মুক্তকরণ কাজে হকারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার অপরাধে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এরপর বহিষ্কার করা হয়েছে নাসিরনগরের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতাকে। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপির ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুধু তাই নয়, কক্সবাজারের বিতর্কিত এমপি আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাজা দেয়া হয়। এসব দৃষ্টান্ত অন্যায়কারী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দলের কঠোর অবস্থানকেই প্রমাণ করে।

নীতি নির্ধারকদের দাবি, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখেই শুধু দলীয় সন্ত্রাস নির্মূলের কথা বলা হয়নি। দু’বছর আগেও এমন মনোভাব দেখিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। দৃষ্টান্ত হিসেবে তারা গেল বছরে (২০১৫) যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। ওই সময় ভেতরে ভেতরে আওয়ামী লীগ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারের কঠোর মনোভাব তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। কেউ খারাপ কাজ করলে দল তাকে ছাড় দেবে না।’ রাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও একই প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবে না।’

কুড়িতম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন জনগণের সমস্যা ও সুবিধা-অসুবিধা চিহ্নিত করে সরকারকে জানাতে। এ প্রসঙ্গে দলীয় প্রধান বলেছেন, ‘দলের একটা দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে সরকারকে জানানো। সরকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন করবে। আর দল সরকারকে সহযোগিতা করবে।’

দলীয় প্রধানের এই দৃষ্টিভঙ্গি নেতাকর্মীদের জন্য বিশেষ মেসেজ। আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ‘ভিশন ২০২১’ আর ‘রূপকল্প-২০৪১’। গত ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ তথপ্রযুক্তি-ভিত্তিক ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর অঙ্গীকার করে। সেই সঙ্গে ঘোষণা করে ভিশন২০২১। এই অঙ্গীকারের মধ্যে এমন এক বাংলাদেশ নির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়, যেখানে সুশাসন থাকবে। সরকারের কার্যক্রমে দায়বদ্ধতা-স্বচ্ছতা থাকবে। দুর্নীতি কমে যাবে। এরপর ২০১৪ সালে এসে দশম জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করে। এতে স্বপ্ন দেখানো হয়, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের পর্যায় পেরিয়ে শান্তিপূর্ণ, সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত এক জনপদে পরিণত করা হবে।

আওয়ামী লীগ সরকাররের বৃহৎ পরিসরের এসব স্বপ্ন আর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান শর্ত সময়। আর সময়ের প্রয়োজনই দলটিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা দলটির জন্য অনিবার্য। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ইতিবাচক কৌশল বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন দলটি।

নিকট অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতা, ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা আর খুন-ধর্ষণ-গুমের ঘটনায় দেশে অস্থিরতা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতির পেছনের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণতাকে দায়ী করে সাধারণ মানুষ। তবে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে সেই গুমোট অবস্থা কেটে গেছে। মাঠে থাকা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দলগুলোও এখন সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো রাজনৈতিক দলের বদলে যাওয়াটা ভোটারদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর তাতে আগামীর রাজনীতির ধারা পুরোটা বদলে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই মনে করছেন তারা।

কুড়িতম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা অবশ্য নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক দলই নয়, একটি প্রতিষ্ঠানও।’ রাজনৈতিক সেই প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই ভিশন২০২১ আর রূপকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

সূত্র : সোনালী নিউজ


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ