,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের বাজেট কত কোটি?

লাইক এবং শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের বাজেট কত কোটি টাকা? এ প্রশ্ন রাজনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কিন্তু উত্তরটা সহজে মিলছে না! তবে ক্ষমতাসীন দলটির একেকজন নেতা একেক রকম বাজেটের কথা বলছেন। আবার কেউ বলছেন, দলীয় প্রধান ছাড়া এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর অন্য কেউ দিতে পারবেন না। সম্মেলনের মঞ্চ ও সাজসজ্জা, খাবার, বিদেশি অতিথি আপ্যায়ন, প্রচার ও প্রকাশনায় সিংহভাগ অর্থ ব্যয় হবে। আর সম্মেলনের পুরো খরচই বহন করা হবে দলীয় তহবিল থেকে।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈশ্বিক রাজনীতিতে দলীয় প্রধানের প্রাধান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং উপমহাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য তুলে ধরতে সবরকম চেষ্টা করা হবে এবারের সম্মেলনে। সে কারণেই অর্থের বিষয়ে কার্পণ্য করতে চাচ্ছে না দলটি। দুই দফা পিছিয়ে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর উপমহাদেশের প্রাচীন এ রাজনৈতিক দলটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সম্মেলনের খরচের বিষয়ে গত ৪ অক্টোবর দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সম্মেলনের জন্য কোনো চাঁদা উত্তোলন না করে দলীয় ফান্ড থেকেই সম্মেলনের ব্যয় বহন করার নির্দেশ দেন তিনি।

এর আগে প্রথম দফা পিছিয়ে গত ১০ ও ১১ জুলাই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে গত ১১ এপ্রিল সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে ১১টি উপ-কমিটি (অভ্যর্থনা উপ-পরিষদ, অর্থ উপ-পরিষদ, ঘোষণাপত্র উপ-পরিষদ, গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ, দফতর উপ-পরিষদ, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপ-পরিষদ, মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-পরিষদ, সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদ, খাদ্য উপ-পরিষদ ও স্বাস্থ্য উপ-পরিষদ) গঠন করা হয়। কিন্তু ঈদের কারণে সম্মেলন পিছিয়ে যায়। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, ওই সময় সাড়ে চার কোটি টাকার বেশি খরচের বাজেট চেয়েছিল কমিটিগুলো। তবে ৩ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা ছিল দলটির।

এদিকে সম্মেলন দ্বিতীয় দফা পেছানোর পর বাজেটের পরিমাণ কত দাঁড়িয়েছে তা নিয়ে দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। এমনকি অর্থ-উপপরিষদের সদস্যরাও এ বিষয়ে অনেকটা চুপ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপ-পরিষদের সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ. এন. আশিকুর রহমান বলেন, সম্মেলনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক মতই করা হচ্ছে।

তবে বাজেট কত নির্ধারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি বলতে পারব না। অন্য কারো সাথে যোগাযোগ করেন। এদিকে অর্থ-উপপরিষদের আহ্বায়ক কাজী জাফর উল্লাহ এর মুঠোফোন নাম্বারটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে অর্থ-উপপরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে ৫-৬ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

তিনি বলেন, খরচের বিষয়ে সব উপ-কমিটির সাথেই আমাদের আলোচনা হয়েছে। কেউ বলে ৩-৪ কোটি টাকার বেশি খরচ হবে। আবার কেউ বলে ১০ কোটি টাকা খরচ হবে। তবে আমরা যে হিসাব করেছি তাতে ৫-৬ কোটি টাকার মধ্যে খরচ করা হবে। কাজী আকরাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন কোনো চাঁদা না তুলতে। দলের ফান্ডে কত টাকা আছে তাও তিনি আমাদের বলেছেন। তাই এক টাকাও বাইর থেকে নেওয়া হবে না। তিনি নিজে যখন বিষয়টি পরিষ্কার করে দিয়েছেন এর উপর আমাদের তো কোনো কথা নেই।

তবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে দলীয় প্রধানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় সম্মেলনে খরচের বিষয়ে কোন কার্পণ্য করা হচ্ছে না- এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন এ নেতা। আকরাম উদ্দীন আহমদ বলেন, বিশ্বের শীর্ষ কয়েকজন নেতার মধ্যে এখন আমাদের নেত্রীর অবস্থান। আর ভারতীয় উপমহাদেশে আমাদের দলও অনেক বড় ও প্রাচীন। কারণ এ অঞ্চলের প্রাচীন দলগুলো আর আগের অবস্থানে নেই। কংগ্রেসের সেই অবস্থা আর নেই, বিজেপিও আমাদের মত পুরনো দল নয়। পাকিস্তানে তো নেই-ই। বাংলাদেশে বিএনপির অবস্থানও এখন তেমন না। আর আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের এমন একটি দল যার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর এখন এর হাল ধরেছেন তারই কন্যা। সেজন্য এবারের সম্মেলনে আমরা আমাদের দলকে প্রমাণ করতে চাই, যেভাবে বিশ্বে আমাদের নেত্রী প্রতিভাত হয়েছেন। উপমহাদেশে আমরা যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছি, সবচেয়ে সুশৃঙ্খল দল যে আমরা- তার প্রমাণ সম্মেলনে দিতে চাই।

সম্মেলনের প্রধান প্রধান খরচের খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, মঞ্চ ও সাজসজ্জায় সবচেয়ে বেশি খরচ হবে। আর খাবারেও অনেক খরচ হবে। এছাড়া বিদেশি অতিথি আপ্যায়ন, প্রচার ও প্রকাশনায় খরচ বেশি হবে। তবে অন্য কমিটিগুলোর খরচ কমই হবে। কাজী আকরাম জানান, খাদ্যে এক-দেড় কোটি টাকা ও সাজ-সজ্জায় প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ হবে। এদিকে উপ-কমিটিগুলো সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলের দুই দিনে কমপক্ষে ৩০ হাজার খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করা হবে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, ৩০-৩৫ হাজার চেয়ারের ব্যবস্থা, উদ্যানের প্রবেশপথগুলো ও ঢাকা শহরকে সুসজ্জিত করতে তোরণ নির্মাণে সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করবে মঞ্চ ও সাজসজ্জা কমিটি।

অন্যদিকে বিদেশি অতিথিদের সোনারগাঁও হোটেলে থাকা-খাওয়া, বিজনেস ক্লাসের রিটার্ন বিমান টিকিটে বাড়বে খরচের তালিকা। এছাড়া প্রচার ও প্রকাশনায় ৫০-৭০ লাখ, স্বাস্থ্যে ৪০-৫০ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দুই লাখ পোস্টার, প্রকাশনা ও উপহার সামগ্রী, সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক রিপোর্টের কপির খরচ। যার মধ্যে প্রতিটি প্রকাশনারই কমপক্ষে ১০ হাজার কপি করে করা হবে। আর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকবে স্বাস্থ্যসেবার জন্য বুথ, থাকবে অ্যাম্বুলেন্সসহ নানা ব্যবস্থা। সব মিলিয়েই ৬ কোটি টাকার মধ্যে সম্মেলন সফল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

—পরিবর্তন


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ