,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কেমন আছেন বিএনপির পদত্যাগী নেতারা?

লাইক এবং শেয়ার করুন

সদ্য ঘোষিত বিএনপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ‘প্রত্যাশিত’ পদ না পেয়ে ‘অভিমানে’ পদত্যাগ করেছেন দলটির কয়েকজন নেতা। পদত্যাগ করা দলীয় নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় আছেন নতুন কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদ পাওয়া মোসাদ্দেক আলী ফালু, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম ও আসিফা আশরাফি পাপিয়া।

তাছাড়া দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করেননি। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার আগে বিভিন্ন সভা সেমিনারে তার উপস্থিতি নিয়মিত ছিল। কিন্তু এখন তিনি অনিয়মিত। তাই বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকের প্রশ্নথ কেমন আছেন দলটির পদত্যাগকারী নেতারা?

মোসাদ্দেক আলী ফালু : বিএনপির রাজনীতিতে মোসাদ্দেক আলী ফালু অত্যন্ত প্রভাবশালী বলে জনশ্র“তি আছে। দলটির রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না হলেও দলে তার অবস্থান অনেক শক্ত।

বিএনপির গত কমিটিতে ফালু ছিলেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব ও রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ধীরে ধীরে বিএনপির রাজনীতিতেও প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকার তেজগাঁও উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু সেই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে দলে তার অবস্থান আরো শক্ত থেকে শক্ত হয়ে ওঠে।

সদ্য ঘোষিত বিএনপির নতুন কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদ পাওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করে ফের আলোচনায় আসেন ফালু। তার পদত্যাগ নিয়ে দলটির অনেক সিনিয়র নেতাকেও নিশ্চুপ থাকতে দেখা গেছে। অনেক সিনিয়র নেতা এ ব্যাপারে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘যেভাবেই বলি, এক কথায় বিএনপির রাজনীতিতে খুবই প্রভাবশালী মোসাদ্দেক আলী ফালু। কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব কমিটিতে পদ পেতে তার সুপারিশের কোনো বিকল্প নেই। কারণ সব সংগঠনেই তার একক আধিপত্য রয়েছে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল সব পর্যায়ের নেতার কাছে তার গুরুত্ব অন্যরকম।’

দলটির আরেক নেতা বলেন, ‘মোসাদ্দেক আলী ফালু বিএনপির রাজনীতি করলেও তিনি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নন। এ ক্ষেত্রে সদ্য ঘোষিত বিএনপির নতুন কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদটি সরাসরি রাজনৈতিক। তাই তিনি নতুন এই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। কারণ তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম মূল হওয়ায় রাজনৈতিক সংগঠন থেকে দূরে থাকতে চান। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন তাকে কোনো দায়িত্বে রাখলে পুনরায় দেখা যেতে পারে।’

সূত্র জানায়, মোসাদ্দেক আলী ফালু তার মালিকানাধীন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিয়েই ব্যস্ত আছেন। মূলত ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চান এই ‘রহস্যপুরুষ’। তাই আপাতদৃষ্টিতে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

শামীমুর রহমান শামীম : সদ্য ঘোষিত বিএনপির নতুন কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনৈতিক মাঠে আলোচনায় ছিলেন দলটির আগের কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম। পদত্যাগ করার পর তিনি বলেছিলেন, বিএনপির আগের কমিটিতে তিনি ছিলাম ১ নাম্বার সহ-দপ্তর সম্পাদক। কিন্তু নতুন কমিটিতে তাকে তিন নাম্বার সহ-প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত তার প্রতি সাংগঠনিকভাবে চরম অবিচার করা হয়েছে। তাই তিনি মহাসচিবের বরাবর চিঠি দিয়ে অব্যাহতি চেয়েছেন।

এখন কেমন আছেন শামীমুর রহমান শামীম? যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-খুলনা আসা-যাওয়ার মাঝে আছি। পরিবারকে খুলনায় রেখে আসলাম। নিজের কিছু বিজনেস আছে সেগুলো দেখভাল করছি। এছাড়া পরিবার-পরিজনকে সময় দেয়ার চেষ্টা করছি।’

তাহলে কী রাজনীতিতে আর সক্রিয় হচ্ছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব। কারণ আমি তো পদত্যাগ করিনি। নতুন কমিটিতে আমাকে যে পদ দেয়া হয়েছে তা আমার জন্য অপমানজনক। কারণ আমি বিএনপির জন্য এত কাজ করলাম তার প্রতিদান এটা হতে পারে না। বিএনপির জন্য জেল খেটেছি। অনেক মামলা এখনো চলমান। তাই আমি মাত্র নতুন পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি। কিন্তু বিএনপি থেকে তো পদত্যাগ করিনি।’

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা শীর্ষ নেতার সঙ্গে পদত্যাগের পর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কিনা প্রশ্নের জবাবে শামীমুর রহমান বলেন, ‘চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা শীর্ষ কোনো নেতার সঙ্গে এখন পর্যন্ত আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে আশা করি শিগগিরই হবে।’

শিরীন সুলতানা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সার্বক্ষণিক ‘সহচর’ বলে পরিচিত আগের কমিটির মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা পদত্যাগ করে কম আলোচনায় আসেননি। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে শিরিন সুলতানাকে করা হয়েছে স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক। পদত্যাগপত্রে শিরিন সুলতানা বলেন, ‘নতুন পদ সম্পর্কে আমি কিছুই বুঝি না। সে জন্য এ পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। এছাড়া এক ব্যক্তির একাধিক পদ না রাখার সিদ্ধান্ত বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা দলেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিএনপির এ নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো বিএনপি থেকে পদত্যাগ করিনি। বিএনপির সঙ্গে আছি, ছিলাম ও থাকব। কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এক নেতার এক পদ। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি একটি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি মাত্র। আমি মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক পদে কাজ করে যাচ্ছি। এই পদে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’

আসিফা আশরাফি পাপিয়া : বিএনপির সদ্য ঘোষিত কাউন্সিলে নতুন পদ পেলেও সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অ্যাডভোকেট আসিফা আশরাফি পাপিয়া। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে মানবাধিকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপিরও সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। কিন্তু সর্বশেষ তিনি দুই পদ থেকেই অব্যাহতি চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো নেতার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি।

হঠাৎ দুই পদ থেকে পদত্যাগ কেন এমন প্রশ্নের জবাবে পাপিয়া বলেন, ‘আমি পদের জন্য রাজনীতি করি না। পদ ছাড়াই আমি বিএনপির সঙ্গে আছি, ছিলাম ও থাকব। পদ নিয়েই যে রাজনীতি করতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। আমার শৈশব, যৌবন সবই তো বিএনপিকে নিয়ে। এখন তো ইচ্ছে হলেই বিএনপি ছেড়ে যেতে পারি না।’

অনেকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে পাপিয়া বলেন, ‘দলের জন্য তো আর কম ত্যাগ স্বীকার করিনি। তার পরও যোগ্যতা অনুযায়ী আমার সম্মান দেয়া হয়নি। আমার চাইতে অনেক জুনিয়রকে বড় পদ দেয়া হয়েছে। এভাবে তো আর যাইহোক কাজ করা যায় না। তাই এখন থেকে পদ ছাড়াই কাজ করে যাব। আরো বেশি কাজ করব।’

–যায়যায়দিন


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ