,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা

লাইক এবং শেয়ার করুন

নুর এ আলম ছিদ্দিকী # ব্রাহ্মনবারিয়া জেলা বিএনপিতে এখন চলছে সমন্বয়হীনতা। কেউ কারও কথা শোনেন না। এই মুহূর্তে অন্তর্কোন্দল, নেতা-কর্মীদের পারস্পরিক সন্দেহ-অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা, আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার অভাব প্রকট। এর ওপর সরকারের কঠোর দমননীতির কবলে রীতিমতো ভজঘট অবস্থায় পড়েছে বিএনপি। চলছে জেলার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অনৈতিক চাপ। খুব কাছের লোকের বেইমানি ও মোনাফেকি। ফলে দল গোছানো বা আন্দোলন—কোনোটাই হচ্ছে না। কেন্দ্রের একের পর এক নির্দেশনা দিলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বদলে নেতারা হচ্ছেন শতভাগ ঐক্যভ্রষ্ট।

এসব কারণে কাউন্সিলের সাড়ে এক বছর দশ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারছেন না জেলার নেতারা। যদিও বারবার বলা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘটনের কাজ চলছে। কিন্তু পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা এখন আর আস্থা রাখতে পারছেন না জেলার নেতাদের উপর, পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা এখন গুরছেন জেলার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অন্যতম কর্ণধার চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান, নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আনোয়ার হোসেনের সাথে। আর এদের সাথে সমন্বয় করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি ও যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু।

এরই মধ্যে নতুন করে জোর আলোচনা চলছে এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না।এতে অনেকের মাথায় হাত যারা সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ করে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পদের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন। দু বছর মেয়াদী কমিটির এক বছর দশ মাস অতিক্রান্ত। এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না এটা অনেকেই নিশ্চিত মনেকরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন। তবে যাই হোক কমিটির ভবিষ্যৎ কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর।

সরজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় জেলার রাজনীতিতে নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে, দীর্ঘ দিন যাবত জেলার রাজনীতির একক নিয়ন্ত্রন ছিল মুশফিকুর রহমানের তার অবস্থা কেন্দ্রে খুব নাজুক। তার সমস্ত অপকর্ম একে একে ফাঁস হয়ে আসছে, ইউনিয়ন কমিটি থেকে শুরু করে জেলা কমিটির পদ বানিজ্য এখন সকলের মুখে মুখে। এর মধ্যে আছে বিএনপি সরকারের আমলে জাতীয়তাবাদী এবং ইসলামি মূল্যবোধ প্রচারের জন্য যে দেশ টিভি চালু করেছিল, তাও বিক্রি করা হয় আওয়ামী ঘরনার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সাবের হোসেন চৌধুরী ও আসাদুজ্জামান নুরের নিকট। যে চ্যানেল এখন বিএনপি তথা জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত। আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক জাতিয় পার্টির সাংসদ কাজী আনোয়ার হোসেন। যিনি সাড়া রাজনৈতিক জীবনেই সরকারের দালাল হিসেবে জড়িত।

এই দু জনকে জেলা থেকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি ও যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু বেইমানী আর মোনাফেকি করে দলের এই দূর অবস্থা করেছেন সরকারী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। আর এদের সাথে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংগঠনিক দায়িত্বে সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোঃ শাহজাহান। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী সাংসদ এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চলে আসছিল। যার দরুন দীর্ঘ এক বছর দশ মাসে কমিটি করা সম্ভব হয়নি।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাথে দীর্ঘ দিন কাজ করা উদীয়মান নেতা পুরো বিষয়টি সামনে আনার জন্য একটি বিএনপি পন্থী মিডিয়া হাউজকে সামনে রেখে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে মিডিয়ার মাধ্যমে জেলা বিএনপিকে মিডিয়া সাপোর্ট দেয় আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে বিএনপি পন্থী কিছু সাংবাদিক।হটাত করেই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর পুরো ঘটনা সামনে তুলে আনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন লাইন মিডিয়ার মাধ্যমে।

এ পক্রিয়ার জন্য তাকে পুরো তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়। এটা মুলত বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির দূর অবস্থার পিছনে কারা কাজ করে, কেন করে? এই প্রশ্নটি সামনে রেখে কাজ করে। এই হ-য-ব-র-ল অবস্থার মুলে রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রের অঘোষিত নির্দেশনা সাবেক সাংসদদের ইচ্ছা মাফিক প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার উপজেলা পর্যায়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি হবে। বিএনপির এই দূর অবস্থার জন্য আরও দায়ী স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় নিজের কতৃত্ব বজায় রাখার জন্য পকেট কমিটি করা। ত্যাগী এবং দলের জন্য নিবেদিত নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের কাঠামোর বাহিরে রাখা। এর সাথে তাল মিলায় জেলার কিছু দুর্বল চিত্তের নেতা।

তাই বিএনপির উর্বর ভুমি খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির এই দূর অবস্থা। জেলা বিএনপির তেরটি সাংগঠনিক ইউনিটের ছয়টি নিয়ন্ত্রন করেন মুশফিকুর রহমান ও কাজী আনোয়ার হোসেন। এই দুটি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির কবর রচনা করেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস এখানে কেন্দ্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ বাঁধে এই জেলার রাজনীতি পূর্ণগঠন অসম্ভব। দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে এতে দল শক্তিশালী হয়। এমনটা নিশ্চিয় কোন সিনিয়র নেতার নিকট কেউ আশা করে না দেশনেত্রী বেগম জিয়া তারুন্যের অহংকার তারেক রহমানের ছবি সহ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির হাজারীর পোষ্টার ছিঁড়তে পারলে জেলা বিএনপি, কসবা আখাউড়া বিএনপি তার অঙ্গ ও

কমিটি। দল নির্ভর না হয়ে এমপি নির্ভর কমিটি এতে তৃনমুলে হতাশা বিরাজ করছে।একটা সফল সন্মেলনের মাধ্যমে জেলা কমিটি ৫ সদস্যের পরে ২ জনকে কো- অপ্ট করা দলের প্রভাবশালী একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ এখন সরকারি দল। তাদের কমিটি না হলেও তেমন সমস্যা নেই। বিএনপি বিরোধী দলের রাজনীতি করছে।কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আওয়ামীলীগ যথাসময়ে সন্মেলনের মধ্যে সব কমিটি করেছে বিএনপি এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এর জন্য একটা সিণ্ডিকেট দায়ী ওদের চিহ্নিত করা হয়েছে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে একটি টিম কাজ করছে গত ৩ বছর যাবত। ওদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে যাচাই বাছাই চলছে। এখানে আন্দোলন ও ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় রাজনীতি থেকে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। হতাশ হচ্ছে যোগ্য ও ত্যাগীরা। কমিটি দিলে কমবেশি সমালোচনা থাকবেই। তারপরও দ্রুত কমিটি দেওয়া উচিত। বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনগুলোর অবস্থাও নাজুক।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ