,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিএনপি’র ঘরের শত্রু বিভীষন, সন্দেহের তির শামা ওবায়েদ ইসলামের দিকে

লাইক এবং শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি # বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের গোপনীয় সিদ্ধান্ত ও দলের জন্য গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত দলের পদ বঞ্চিত নেতা ও চেয়ারপারসন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেট। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে সরকারের উচ্চ মহলেরও। তাই তাদের ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড অবগত থাকলেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ঘায়েল করতে বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। সিন্ডিকেট সদস্যদের কর্মকান্ড এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তাঁরা কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে দলের প্রধান খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যকার কথাও ফাঁস করে দিতে কুণ্ঠা করে না।

এ নিয়ে দলটির সিনিয়র এক নেতা বলেন, চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন তারা সঠিকভাবে এই দায়িত্বটা পালন করেন তার নিশ্চয়তাটা বা কতটুকু। একাধিক নেতার সাথে আলাপ করলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সন্দেহের তীর বেগম জিয়ার সবচেয়ে আস্থাভাজন শামা ওবায়েদ ইসলামের দিকে। চারদিকে ব্যাপক গুঞ্জন এবার শেষ রক্ষা হচ্ছে না শামা ইসলাম ওবায়েদের। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে নারাজ। তাকে রক্ষা করার জন্য চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা, স্থায়ী কমিটির সদস্য, বেগম জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, তাকে রক্ষার জন্য এ গুলো অপপ্রচার বলে চালাতে চাচ্ছেন। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা এ যাত্রাই যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে ঘোষিত কমিটি নিয়ে এর বেশীর ভাগই মানসিক ভাবে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

সিনিয়র জুনিয়রের যে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে এতে সহজেই কেন্দ্রীয় কমিটি চূড়ান্ত করতে পারছেন না। ঘোষিত কমিটি পূর্ণ গঠন না হলে এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যারা এতদিন বেগম জিয়ার সব চাইতে বিশ্বস্ত ছিল তথ্য গুলো তাদের নিকট থেকে পাচার হয়েছে বলে ও নিশ্চিত বেগম জিয়া। এখন তিনি আশে পাশের কাউকেই ভরসা করতে পারছেন না। এরই মধ্যে নবগঠিত কমিটির এক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশুগঞ্জ ইফতার পার্টিতে জেলার উপস্থিত একাংশের নেতাদের হুংকার দিয়ে এসেছেন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা বিএনপি যদি কমিটি ঘোষণা না করে তাহলে তার নিকট জমা দিতে তিনি বেগম জিয়াকে দিয়ে আনুমোদন করে দিবেন। তার হুংকার শুনে জেলার অধিকাংশ নেতা হতবাক। এখন ও তাদেরকে নিয়ে বিতর্কের কারনে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সম্ভব হচ্ছে না। এক নেতা আক্ষেপ করে বলেন মান সন্মান নিয়ে আর বিএনপি করা যাবে না। শেষ বয়সে এসে জুনিয়র নেতাদের অশালীন ভাষা ব্যদনাদায়ক।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান একটা বিরাট দূরুত্বে অবস্থান করছেন। তাদের টেলিফোন আলাপটাও নিরাপদ নয়। সেক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মতবিনিময়টা কারো না কারোর মাধ্যমে করতে হয়। তিনি বলেন, সংবাদ পত্রের লোকেরা কিভাবে জানে এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কোন প্রযুক্তি দিয়ে তারা এসব সংবাদ সংগ্রহ করেন এটা আমি বলতে পারবো না। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান একটা বার্তা পাঠালো সেই বার্তাটা তো ফেবিকেটেড হতে পারে। সেই বার্তাটার সাথে তো অতিরিক্ত কিছু থাকতে পারে।

 দলের মধ্যে থেকে তথ্য ফাঁস করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম বলেন, দলের মধ্যে তথ্য পাচারের সঙ্গে কেউ জড়িত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে দল ও নেতাদের বিব্রত করতে, দেশে বিদেশে দলকে বিপদে ফেলতে সরকারের বিভিন্ন মহল ও এজেন্টদের মধ্য দিয়ে এই ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। দলের মধ্যে ভাঙন এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি করতে ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস ও বিএনপি বিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচারমূলক কথা ছড়াচ্ছে।

 বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি (আংশিক) ঘোষণার পর দলের ও নেতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রবণতা বেশী দেখা দেয়। যারা পদ পেয়েছেন বা যারা পদে আসতে পারেন তাদের বিরুদ্ধেই নানা তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংবাদ মাধ্যমের কাছে। নেতাদের চরিত্রহরণ, দলকে বেকায়দা ফেলার জন্য এসব করাচ্ছে। বিশেষ করে যারা ঘোষিত কমিটিতে কাক্ষিত পদ না পাওয়ার হতাশা থেকে। আবার বিভিন্ন সময় বিএনপি নেতাদের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনাকে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।

 বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, যারা দলের মধ্যে নেতাদের চরিত্রহরণ কাজে নিয়োজিত তারাই আবার নিজেদের অপর্কম ঢাকতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙ্গিয়ে দলের হাইকমান্ডকে বোঝান এসবই সরকার ও সরকার সমর্থক মিডিয়ার কারসাজি। বিএনপির হাইকমান্ড এসব বিষয়ে অবগত থাকলেও পরিস্থিতি অনুকুলে না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ম্যাডাম কাউন্সিলে স্পষ্টভাবেই বলেছেন দলের মধ্যে কিছু বেঈমান মীর জাফর রয়েছে। তাদের বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।

সূত্র জানায়, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও শমসের মবিন চৌধুরীর ফোনালাপ প্রথম ফাঁসের ঘটনা ঘটে। এরপর শিকার হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীন সদস্য ব্যারিস্টর মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ড. আবুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানসহ প্রায় ডজন খানেক নেতা। অতি সম্প্রতি বিএনপির নিবার্হী কমিটি গঠন নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মধ্যকার মা ছেলের মতবিরোধের ঘটনাটিও ফাঁস করে দেয়। এর বাইরে নেতাদের ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা ব্যাংকের লেনদেন সংক্রান্ত তুলে দেওয়া হয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে।

 সূত্র জানায়, ২০১২ সালে প্রথম এই সিন্ডিকেট সদস্যদের কর্মকান্ড প্রকাশ্যে আসে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ গোপন খবর-তথ্য ফাঁস করার জন্য চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ থেকে কলমসদৃশ ১৮টি গোপন ক্যামেরা, অডিও-ভিডিও ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। আর এই তথ্য ফাঁস ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

 ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে খালেদা জিয়া মোবাইল ফোনে নানা দিকনির্দেশনা দেন। পুরনো ওই ফোনালাপের পাঁচটি অডিও ফাঁস হয় বাংলালিক নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে। ফোনালাপ ফাঁসের শিকার হন বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতা শমসের মবিন চৌধুরীকে ফোন দেন তারেক রহমান। প্রায় ১০ মিনিটের কথোপকথনও ফাঁস করে দেওয়া হয়। ফোনালাপ ফাঁসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে প্রায় ২৩ মিনিট ফোনে কথা বলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

 ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল সিটি নির্বাচন বর্জন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ফোনালাপ ফাঁস করে দেয়া হয়। এরপর ফের ফোনালাপ ফাঁসের শিকার হন মওদুদ আহমদ। গত ৮ মে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিনি। এরপর তাদের দুই মিনিট ৮ সেকেন্ডের কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁস করা হয়। সর্বশেষ ফোনালাপ ফাঁসের শিকার হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। গত ৩ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা রইসউদ্দিনের সঙ্গে প্রায় ২২ মিনিট দলের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন তিনি। ৫ জুন তাদের ওই কথোপকথন ফাঁস করে দেয় বাংলালিক ইউটিউব চ্যানেল।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ