,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সরকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপিকে দোষারোপ : মওদুদ আহমেদ

লাইক এবং শেয়ার করুন

সম্প্রতি দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদঘাটনে সরকার তার ‘ব্যর্থতা ঢাকতে’ উল্টো বিএনপির বিরুদ্ধে দোষারোপের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণেই উগ্রবাদের উত্থান হচ্ছে উল্লেখ করে এই অবস্থার অবসানে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি পরামর্শও দেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন মওদুদ। বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে এই স্মরণসভার আয়োজন করে বিএনপি।দেশে সহিংসতা ও উগ্রবাদ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে যাচ্ছে দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন,  ‘একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে, অথচ সরকার প্রকৃত অপরাধীদের ধরছে না। তারা বিএনপিকে দোষারোপ করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চায়। সরকার এখন পর্যন্ত একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও শুরু করতে পারেনি। এটা তাদের ব্যর্থতা।’

সম্প্রতি একের পর এক গুপ্তহত্যার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার, বিরোধী দল ও দেশবাসীসহ সকলের জন্য এটি একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেকোনোভাবেই হোক, এটি বন্ধ করতে হবে। সেজন্য আগে ব্লেম গেমের সংষ্কৃতি বন্ধ করতে হবে। বিএনপি উগ্রবাদকে ঘৃণা করে এবং ভবিষ্যতে দলটির এই অবস্থান থাকবে বলেও এ সময় জানান মওদুদ। দেশ রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে দাবি করে মওদুদ আহমদ বলেন, এখন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নেই। বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নেই। রাজনৈতিক শূন্যতায় উগ্রবাদের সৃষ্টি হচ্ছে।

সরকার সত্যিকার অর্থেই উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের অবসান চাইলে তাদের সব  রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন অর্থাৎ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যমঞ্চ তথা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে বলেও মতামত দেন মওদুদ আহমেদ। এ সময় সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করে বিদ্যমান শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করুন। এই উদ্যোগে বিএনপি পাশে থাকবে।’

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে স্মরণ করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার একটু কিছু বলল না। এত নিচু মন হলে তো চলবে না। কী অসুবিধা হতো, যদি আজকে মোহাম্মদ আলী স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকত?’তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সম্মানিত করেছেন, সেজন্য মোহাম্মদ আলীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান দেখানো যাবে না? এই সরকার সমাজকে বিভক্ত করে দিয়েছে। সরকারের উচিত ছিল, জাতীয় পর্যায়ে মোহাম্মদ আলীকে যথোপযুক্ত সম্মান দেখান। এতে বাংলাদেশ আরো বড় হতো, ছোট হতো না।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ক্রীড়া সম্পাদক কর্নেল (অব.) আব্দুল লতিফ, বক্সার গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আমিনুল হক প্রমুখ।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ