,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে গুপ্তহত্যা বন্ধ হবে না: খালেদা

লাইক এবং শেয়ার করুন

সম্প্রতি দেশে ঘটে যাওয়া প্রতিটি গুপ্তহত্যায় আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। 
তিনি বলেন,  “আওয়ামী লীগ  ও তার সহযোগীরা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশে গুপ্তহত্যা, গুম, খুন, হত্যা  বন্ধ হবে না।” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ অভিযোগ করেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এ আলোচনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। বিকাল সোয়া ৬টার দিকে খালেদা জিয়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে এস উপস্থিত হন।
 
খালেদা জিয়া বলেন, “আজকে গণতন্ত্রহীন দেশ।দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। যারা আছে তারা স্বঘোষিত এবং অনির্বাচিত অবৈধ সরকার। তাই এই অবৈধ সরকার যত আইন পাশ করুক না কেন তা জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”  তিনি বলেন, “আজকে জাতীয় সংসদে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। নেই কোনো বিরোধী দল। যারা বিরোধী দলে আছে তারা সরকারেও আছে, আবার বিরোধী দল বলেও নিজেদের দাবি করে। তাই দেশের এই কঠিন সময়েও তারা প্রতিবাদ করতে পারে না, প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। কিন্তু বিএনপি শত বাধা অতিক্রম করেও আইনের শাসন , গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার আদায়ে লড়াই করে যাচ্ছে।”
 
বেগম জিয়া বলেন, “এখন বিচারভিাগ ও বিচারকদের কোনো স্বাধীনতা নেই। যদি আইনের শাসন থাকলে ন্যায় বিচার পেতাম। তাহলে সরকারী দল ও বিরোধী দলসেহ সাধারণ মানুষের জন্য আইন ভিন্নতর হতে পারতো না।” তিনি অভিযোগ করে বলেন, “স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ১৫ টি মামলা ছিল অথচ তার মামলাগুলো মিটে গেল আর আমার মামলাগুলো থেকে গেলো। তার কাছে কি জাদুর কাঠি আছে যে ছুয়ে দিলো এমনি মামলা চলে গেল।”
 
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নাইকো মামলায় আমাকে টানাটানি করা হচ্ছে অথচ এই মামলায় সঙ্গে আমি জড়িত নই,  হাসিনাই জড়িত। তাই নাইকো মামলা চলতে হলে হাসিনাকেও নিয়ে আসতে হবে।” খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ আজ কোর্টের নির্দেশ অবমাননা করে একের পর এক কাজ করে যাচ্ছে।” “আমি স্পষ্ট করে বলবো আজকে যদি সত্যিকার জাজ এবং বিচারে হাসিনাকে নিয়ে আসা হয় তাহলে হাসিনার সাজা হবেই হবে।”
 
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি মনে করে থাকে মামলা দিয়ে, সাজা দিয়ে নির্বাচন করবে তাহলে সেটা এতো সহজ নয়। সেই নির্বাচন দেশে বিদেশে কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা হবে একদলীয় নির্বাচন যা হয়েছে বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।” এরশাদ ও হাসিনার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কঠোর সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন,  “আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে তাহলে ৩০০ মিলিয়ন অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তাকে কেন আইনের আনওতায় নিয়ে আসা হবে না। এখনো কেন তিনি মুক্ত আছেন।”
 
আওয়ামী লীগ খুন, গুম হত্যায় জড়িত দাবি করে বেগম জিয়া বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের বিচার হচ্ছে না কারণ বিচার হলে স্বয়ং শেখ হাসিনার নাম উঠে আসবে। তাই এই হত্যাকান্ডের বিচার করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা জনবিছিন্ন তাই জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছেন। যার বড় প্রমাণ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইউপি নির্বাচন।”
 
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট বিচারপতি টি এইচ খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য  ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ স ম হান্নান শাহ, মাহবুবুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা মীর নাছির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবু উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, এছাড়ও এনপিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ ।

ব্রেকিংনিউজ


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ