,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

নন্দীগ্রামে নেতৃত্ব সংকটে বিএনপি : হতাশায় নেতাকর্মী

লাইক এবং শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট # বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে। যেকারণে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতেই ভড়াডুবি হয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক থাকলেও ৪টি ইউনিয়নের প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় মাঠে ছিলোনা। উপজেলা ও পৌর বিএনপি প্রাণহীন হয় পড়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয়। অনেকেই নিজেকে এউপজেলার বিএনপির গডফাদার পরিচয় দিলেও তারা কেউই সক্রিয় নয়। নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেয়ার মত কেউ নেই। দু-এক নেতা নিজের ইচ্ছায় দল গোছানোর চেষ্টায় সফল হতে পারেননি। বিএনপি ত্রি-ধারায় বিভক্ত। দ্বন্দ্বে জর্জরিত হয়ে নেতৃত্ব না থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এউপজেলার বিএনপি। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপজেলা ও পৌর বিএনপির সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্বে হাতে দ্বায়িত্ব তুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, গত ৭ই মে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নন্দীগ্রামে ৫টির মধ্যে ৪টিতেই বিএনপির লজ্জাজনক ভড়াডুবি হয়েছে। উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নে ২৪হাজার ২৮ভোটের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে ১৩০ভোট পেয়েছেন। ৩নং ভাটরা ইউনিয়নে ২৫হাজার ৭৬৩ভোটের মধ্যে তৌফিকুল ইসলাম রানা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৩হাজার ৪৩২ভোট পেয়েছেন। ৪নং থালতামাঝগ্রাম ইউনিয়নে ২৫হাজার ৭৭৭ভোটের মধ্যে এ্যাড. ইলিয়াস আলী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫হাজার ৭১৬ভোট পেয়েছেন। ৫নং ভাগ্রাম ইউনিয়নে ২৭হাজার ২২৩ভোটের মধ্যে শামছুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২হাজার ২৬ভোট পেয়ে পরাজিত। তবে ২নং সদর ইউনিয়নে প্রভাষক আব্দুল বারী বারেক ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির দুই নেতা বলেন, নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে জনবিচ্ছিন্নদের মনোনীত করায় ৪টি ইউনিয়নে ভড়াডুবি হয়েছে। দুটি ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- ১নং বুড়ইল ইউনিয়নে নুর মোহাম্মদ ও ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ। এদের পক্ষেই দলীয় প্রার্থী নিধারনী সভায় মনোনয়ন সম্মতি দিয়েছিলেন নেতাকর্মীরা।

এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দলকে সুসংগঠিত করতে অনেক নেতা এগিয়ে এসেছেন। অথচ তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। উল্টো দল থেকে বিতারিত করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। মাঝেমধ্যেই অনেক নেতা নিজেদের গডফাদার পরিচয় দিলেও দলীয় কর্মসূচিতে কাউকেই মাঠে দেখা যায়না। সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সক্রিয়। নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে তিনভাগে বিভক্ত বিএনপি।

নেতাকর্মীরা বলেন, আমাদের নন্দীগ্রাম উপজেলার বিএনপি কর্মসূচি সমন্বয়কারি তিনজন ব্যক্তি। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. রাফি পান্না, জেলা বিএনপির ধর্মীয় বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা ও কেন্দ্রীয় জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। এরআগে নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক সাংসদ মোস্তফা আলী মুকুল। তার সাথে নেতাকর্মীদের তেমন একটা যোগাযোগও নেই। দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা বেশকটি মামলায় কারাভোগ করেছেন। প্রায় একবছর যাবত ধরে তিনি এউপজেলায় আসেননি এমনকি নেতাকর্মীদের খোজখবরও নেয়নি। এড. রাফি পান্না নিজেকে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করে আসলেও সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সাথে নেই।

তিনি গত চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫টি দলীয় প্রার্থী নির্ধারনী সভা করেন। এসময় সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাইন ও উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। দলীয় প্রার্থী নির্ধারনী সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি একে আজাদ ও বিএনপির কর্মসূচি সমন্বয়কারি আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন এবং ফজলে রাব্বি তোহাকে সাথে নেওয়া হয়নি। নেতাকর্মীদের সম্মতি ছাড়াই গোপনে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫জন প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেন। জন বিচ্ছিন্ন নেতাদের ধানের শীষের প্রার্থী করায় কর্মিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ফলে নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে আসেনি। ইউপি নির্বাচনে ৫টির মধ্যে একটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, দলীয় কর্মসূচি পালনে রাফি পান্না, মোশারফ ও তোহা নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ঘোষিত গত হরতাল-অবরোধে মোশরাফ ও তোহাকে পৃথকপৃথক ভাবে কর্মসূচিতে দেখা গেলেও অন্যকাউকে দেখা পাওয়া যায়নি। অনেক হেবিওয়েট নেতারা ফটো সেশনের রাজনীতি করেন। উপজেলা ও পৌর বিএনপির অস্তিত্ব ফেরাতে হলে যোগ্য নেতার প্রয়োজন। নেতাকর্মীরা জানান, মামলায় জর্জরিত হয়ে মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা এখন বগুড়ায় থাকেন। নেতাকর্মীদের খোজ নেয়ার সময় নেই। রাফি পান্না সপ্তাহে হঠাত করে একদিন এসে ফটোসেশন করে বগুড়ায় চলে যায়। কর্মসূচি পালনে তাকে ডাকলেও আসেন না। মোশারফ হোসেন ঢাকায় থাকেন। সেখানে তিনি ব্যবসা করেন। অথচ দলীয় কর্মসূচিতে তিনি উপস্থিত থাকেন।

পৌর বিএনপির ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। তবে সেগুলো নিষ্ক্রিয়। পৌর বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকের দ্বন্দ্বে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলেকজান্ডার ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, বর্তমানে দলীয় বা জাতীয় কর্মসূচি পালনে অনেক হেবিওয়েট নেতাদের ডাকলেও আসেনা। সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন মোশারফ হোসেন। তিনি ব্যস্ত থাকলেও আমাদের ডাকে সাড়া দেয়। দলীয় কর্মসূচির সকল সহযোগীতা আমরা মোশারফ হোসেনের কাছ থেকেই পাই। মামলা-হামলা এমনকি সরকার বিরোধী সকল আন্দোলনে নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে মোশরাফ ছাড়া অন্যকোনো নেতাকে পাওয়া যায়নি। অথচ জেলা থেকে দু-একজন নেতা হঠাত এসে নিজেদের গডফাদার দাবি করে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি একে আজাদ বলেন, ইউপি নির্বাচনে জন বিচ্ছিন্নদের মনোনয়ন দেয়ায় ভড়াডুবি। অধিকাংশ নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের পক্ষে মাঠে ছিলো। বুড়ইল ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীক থাকলেও ধান কেনাবেচায় ব্যস্ত ছিলো প্রার্থী। নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রে ৫টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের তালিকা দিয়েছিলাম। ওই তালিকার কেউই মনোনয়ন পায়নি। তিনি বলেন, বর্তমানে মোশারফ হোসেন একাই আমাদের সাথে দলীয় কর্মসূচি সমন্বয় করে চলেছেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ