,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সাংবাদিকতার আড়ালে বিএনপি বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত শ‍্যামল দত্ত

লাইক এবং শেয়ার করুন

নুর এ আলম ছিদ্দিকীঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হলে এক শ্রেণীর সাংবাদিকরা নিউজ বিট করার নামে সেখানে উপস্থিত থাকেন। প্রশ্নোত্তর পর্বের সুযোগে তারা প্রধানমন্ত্রীকে কোন রকম প্রশ্ন না করে সরকার ও তাঁর স্তুতি করে করা তাদের অভ‍্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ‍্যামল দত্তও তেমন একজন সাংবাদিক। ব‍্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক চর্চায় তাঁর একটা বিশ্বাস ও মতকে সমর্থন করে তিনি এমনটা করতেই পারেন। কিন্তু অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনসাইডার ও পূর্বপশ্চিম নামক দুটি অনলাইন পোর্টালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, লে.জে. মাহবুবুর রহমান ও ব‍্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে নিয়ে পর পর ৪ টি সাক্ষাৎকার ভিত্তিক বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। উল্লেখিত চার নেতাই এমন সংবাদে বিস্মিত হন এবং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রতিবাদলিপি পাঠান। কিন্তু নববার্তার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বিশ্বস্থসূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ব‍্যাপারে লন্ডন যাওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো নানাভাবে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে পারষ্পরিক অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরী করা অন‍্যতম উদ্দেশ্য। সে লক্ষ্যে আওয়ামী ঘরানার কিছু সাংবাদিককেও তারা কাজে লাগিয়েছেন। শ‍্যামল দত্তের নেতৃত্বে সৈয়দ বোরহান কবির, পীর হাবিবুর রহমান ও আনিস আলমগীরকে তারা মাঠে নামিয়েছেন বলে জানা যায়। আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর মিডিয়াসিন লিমিটেড নাইমুল ইসলাম খানের সম্পাদনায় ১৯৯২ সালে প্রকাশ করেন দৈনিক ভোরের কাগজ। সেখানেই তার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি। সে পত্রিকায় বিশেষ সংবাদদাতা, কুটনৈতিক সংবাদদাতা,নির্বাহী সম্পাদক হয়ে এখন তিনি সম্পাদক বনে গেছেন।

নিরপেক্ষতার আদলে প্রথমে ভোরের কাগজ প্রকাশিত হলেও দিন দিন এটা আওয়ামী মূখপাত্রে পরিণত হয়। সেজন্য নাইমুল ইসলাম খান, মতিউর রহমান, ও আনিসুল হকরা এক এক করে এই পত্রিকা থেকে অন‍্যত্র পাড়ি জমান। তাই সম্পাদক বনে যেতে পারেন শ‍্যামল দত্ত। এখন নামকাওয়াস্তে তার প্রকাশনা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় দৈনিকগুলো তাদের প্রকাশনার উপর ভিত্তি করে দৈনিক কাগজের উপর একটা ভর্তুকি পেয়ে থাকেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুব অল্প সংখ্যক পত্রিকা প্রকাশ করে সরকারকে বেশী সার্কুলেশন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন শ‍্যামল দত্ত। বেগম খালেদা জিয়াকে যেদিন বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়,সেদিন সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সাথে মঈনুল রোডের সে বাড়িতে যান শ‍্যামল দত্ত। বেগম খালেদা জিয়ার বেডরুমে পায়ের উপর পা তুলে অশ্লীল আনন্দ প্রকাশ করেন শ‍্যামল দত্ত ও এটিএন নিউজের জ.ই মামুন। তিনি সেই সময়ে নানা ধরনের দম্ভোক্তি করেন বলে জানা যায়।

সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে বেশ কয়েকটি লাভজনক পদ হাকিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা(বাসস) এর পরিচালনা পরিষদের সদস্য তিনি। হয়েছেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সদস‍্য। অধিকতর অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’ (রিচার্স এন্ড এনালাইসিস উইং) এর বেতনভোগী কর্মচারী শ‍্যামল দত্ত। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তার জন্মদিন উপলক্ষে হোটেল সোনার গাঁয়ে ঘরোয়া পরিবেশে তার শুভানুধ্যায়ীদের আমন্ত্রণ জানান তিনি। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত একজন অতিথির ড্রাইভারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৩-৪ জন অপরিচিত লোককে উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেখেন, যারা হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় কথা বলেছেন। তবে উক্ত অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে ৮-১০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে উক্ত ড্রাইভার জানিয়েছেন।

নানাভাবে সোনার গাঁ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, উক্ত হোটেলে প্রায় যাতায়াত করেন শ‍্যামল দত্ত। কিন্তু মাস শেষে অপরিচিত কেউ এসে মদ, নারী সহ যাবতীয় বিল পরিশোধ করে যান। প্রতিবারই নতুন কেউ এসে বিল দেন বলে তারা জানান। এর বেশী তারা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে খোঁজ পাওয়া যায়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাই এই বিলসমূহ পরিশোধ করে থাকেন। মূলতঃ র’ এর সহযোগিতায় আমেরিকা, ইউরোপের কয়েকটি সাংবাদিক সংস্থার তিনি সদস‍্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। গণমাধ্যমের টকশোগুলোতে তিনি বেশ আক্রমনাত্তক ভাষায় বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে থাকেন। জুমার খোতবায় ইমামরা নাকি ভয়ংকর ভয়ংকর কথা বলে থাকেন বলে তার অভিযোগ। তারা নাকি অনেক বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলেন বলে একটি টকশোতে তিনি দ্ব‍্যর্থহীন ভাষায় উচ্চারণ করেন। অধ‍্যাপক অজয় রায় কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষা বন্ধের দাবি জানালে তিনি তা সমর্থন করেন। তার মৌলবাদী আচরণ শিবসেনা ও বালথ‍্যকারকেও হাড় মানায়। তার আদিনিবাস চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে হলেও তার পিতা বিমলেন্দু বিলাস দত্ত সন্দীপে বাড়ি করেন।

সেখানে সাংবাদিকতাসহ সরকারী প্রভাব খাটিয়ে বেশ কিছু স্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে খোঁজ পাওয়া গেছে। গত বছর সন্দ্বীপে একটি খুন হলে খুনীদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর পর্যন্ত তাকে দৌঁড়-ঝাপ করতে দেখা যায়। ২০১৬ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখে রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা শ‍্যামল দত্তের বিরুদ্ধে কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। সরকারের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তার রফা হয়। একাধিক বিশ্বস্থসূত্রে জানা যায়,বিএনপি বিরোধী এ ধরনের নানা কর্মকান্ডে তার সরব উপস্থিতি রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারকে টিকিয়ে রাখতে অনৈতিকতা ও অসততার সবকিছুই করে চলেছেন শ‍্যামল দত্ত।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ