,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গভীর রাতে ‘অন্যধারা’ সম্পাদকের বাসায় সন্ত্রাসী হামলা

লাইক এবং শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোটার : গভীর রাতে নিজ বাসা থেকে সন্ত্রাসী হামলা ও ডাকাতির শিকার হলেন সাপ্তাহিক অন্যধারা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সৈয়দ রনো। বাবার মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই আরেকটি ঝড়ের কবলে পড়লেন তিনি। গত ২৭ অগস্ট অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাতে আনুমানিক রাত ২টার দিকে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বাসার কলিং বেল বাজায় দরজা খুললে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপরিচিত দু’জন সৈয়দ রনোর কক্ষে প্রবেশ করে। পরে আচমকা মো: ছাদ্দাম হোসেন (৩৫), আব্দুস সাত্তার(৪৫) ও মো: মোস্তফাসহ (৪০) মোট ৭-৮ জন বাসার ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সৈয়দ রনোসহ তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ এনামুল হুদাকে জিম্মি করে এবং তাণ্ডব চালায়।

সম্পাদকের কাছে গচ্ছিত রাখা সাপ্তাহিক অন্যধারা পত্রিকার ঈদ-উল-আযহা সংখ্যা প্রকাশের জন্য দুই লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পূর্বের জেরে আক্রমণকারী মো: ছাদ্দাম হোসেনের দেওয়া স্বাক্ষর সম্বলিত ত্রিশ লক্ষ টাকার মূল তিন ফর্দের ষ্টেম্পসহ মামলা সংক্রান্ত কাগজ-পত্র জোর করে ছিনিয়ে নেয়। হৈ-হুল্লোড়ের আওয়াজ পেয়ে সৈয়দ রনোর স্ত্রী নিপা আক্তার পাশের রুম থেকে এগিয়ে আসে। এতে সন্ত্রাসীরা তার ওপরও চড়াও হয়ে বাসায় রাখা চার লক্ষ টাকা সমমূল্যের সাত ভরী স্বর্ণালংকারের গহনা হাতিয়ে নেয়। পরে অস্ত্রের মুখে সৈয়দ রনোকে চোখ বেঁধে সন্ত্রাসীরা একটি মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। সৈয়দ রনো জানান, সন্ত্রাসীরা তার বাম হাতের আঙ্গুলে সিগারেটের আগুন ঠেসে ধরে, ধাঁরালো চাকু দিয়ে বাম পায়ে পোচ মারে, সেভেন আপের বোতল দিয়ে এলোপাথারী মারপিট করে। আশংকাজনক অবস্থা দেখে সন্ত্রাসীরা মুক্তিপন হিসেবে দুই লক্ষ টাকা দাবি করে এবং বিকাশে নগদ বিশ হাজার টাকা আনাতে বলে।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সৈয়দ রনোর আরেক ভাই সৈয়দ এনামুল হুদা সন্ত্রাসীদের চাহিদাকৃত মুক্তিপন হিসেবে দুই লক্ষ টাকা শনিবার বিকেল পাঁচটায় সাভারে রাজ্জাক প্লাজার সামনে জিম্মিকারীদের পাঠানো অপরিচিত এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়। পরে সন্ত্রাসীরা রাত দশটায় কালিয়াকৈর পলো মার্কেটের সামনে সামাদ মেম্বারের বাড়ির আশপাশে চোখ-মুখ বেঁধে নির্জন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ (মামলা নং- ৩০, তাং- ২৯/০৮/২০১৬; ধারা-৪৪৮/৩৪২/৩২৩/৩৮০/৩৮৫/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০) দায়ের করা হয়।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্র হতে জানা যায়- “১। অসামী মো: ছাদ্দাম হোসেন(৩৫), পিতা-আবু সাঈদ(নান্নু), সাং- বৈন্যা প্রসাদ, ২। আসামী আব্দুস সাত্তার(৪৫), পিতা-মৃত আলীম উদ্দিন, সাং-মাইলাগী, ৩। আসামী মো: মোস্তফা(৪০), পিতা-জলিল উদ্দিন, সাং- ছোট বন্যা, সর্ব থানা-ঘিওর, জেলা-মানিকগঞ্জ। উক্ত ১নং বিবাদী আমার ভাগ্নি জামাই এবং ২ ও ৩নং আসামী পরস্পর আত্মীয় স্বজন হচ্ছে। ১নং আসামী আমি সহ আমার ছোট ভাই সৈয়দ নাজমুল হুদা, ও আমার ভগ্নিপতি মো: আলমগীর হোসেন ১নং আসামী শশুর-কে কানাডা পাঠানোর কথা বলে তিন জনের জন্য ৪৫,০০,০০০/(পঁয়তাল্লিশ লক্ষ) টাকা চুক্তি পত্র ধার্য্য করে তার মধ্যে স্ট্যাম্প ডিডির মাধ্যমে মোট ৩০,০০,০০০/(ত্রিশ লক্ষ) টাকা স্বাক্ষীদের সম্মুখে গ্রহণ করেন।

কিন্তু মেয়াদকাল উত্তির্ণ হলেও কানাডায় পাঠায়নি, উল্লেখিত বিষয় নিয়ে কোর্টে মামলা চলছে। আমার ভাগ্নি সানজিদা আক্তার সিমকি আমাদের টাকা পরিশোধ করতে বললে তাকে মাঝে মাঝে মারপিট করত বিধায় সে নিরুপায় ও বাধ্য হয়ে নারী ও শিশু অধিকার আইনে মামলা দায়ের  করেন। যাহা বর্তমানে সহকারী জেলা জজ আদালত, মানিকগঞ্জ বিচরাধীন আছে।” সৈয়দ রনোকে চোখ-মুখ বেঁধে মাইক্রোবাস হতে নির্জনে ফেলে যাওয়ার সময় মামলায় দায়ের করা ১, ২ ও ৩ নম্বর আসামীরা বলে, ভাগ্নি নিয়ে অথবা বিদেশী টাকার বিষয় নিয়ে মামলা চালালে পূণরায় তাঁকে ধরে নিয়ে যাবে এবং কি তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকীও দেয়। শারিরীকভাবে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী নিন্মে দেয়া হলো।GD


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ