,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আজ কিংবদন্তী হুমায়ুন ফরীদির ৬৪তম জন্মদিন

লাইক এবং শেয়ার করুন

বাংলাদেশের অন্যতম কালজয়ী অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। ১৯৮০ ও ৯০’র দশকে যে কয়েকজন অভিনয় শিল্পী মঞ্চ ও টিভি নাটককে অসম্ভব জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিলেন, ফরীদি ছিলেন তাদেরই একজন। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে হুমায়ুন ফরিদি নিজস্ব একটি অভিনয়-ধারা তৈরী করতে পেরেছিলেন যা তাঁকে সময়ের কোলে অনন্য করে রেখেছে। তিনি ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম সংগঠক এবং অভিনেতা।১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন ফরীদি। তাঁর বাবার নাম এটিএম নূরুল ইসলাম ও মা বেগম ফরিদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটারের সদস্যপদ লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।humayunবন্ধু আফজাল হোসেনের সাহস ও উৎসাহে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন হুমায়ুন ফরীদি। টিভি নাটকে হুমায়ুন ফরীদি আলোচনায় আসেন শহিদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে আবদুল্লাহ আল মামুন নির্মিত ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন। হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে নিখোঁজ সংবাদ, হঠাৎ একদিন, পাথর সময়, সংশপ্তক, সমুদ্রে গাংচিল, কাছের মানুষ, মোহনা, নীল নকশার সন্ধানে, দূরবীণ দিয়ে দেখুন, ভাঙনের শব্দ শুনি ইত্যাদি। তবে ‘সংশপ্তক’ নাটকে কান-কাটা রমজানের চরিত্রের তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে।humayun.01৯০ দশকে তানভীর মোকাম্মেলের ‘হলিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখেন হুমায়ুন ফরীদি। চলচ্চিত্রে তার জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশ তুঙ্গে। চলচ্চিত্রে নায়ক ছাড়াও খলনায়ক হিসেবে সবার মন জয় করা যায় তার জলন্ত প্রমান তিনি। খলনায়ক চরিত্রে তিনি বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। ভন্ড, পালাবি কোথায়, বিশ্বপ্রেমিক, মায়ের মর্যাদা, ব্যাচেলর, একাত্তরের যীশু, জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া, সন্ত্রাস, সিনেমাগুলো উল্লেখযোগ্য।২০০৪ সালে ‘মাতৃত্ব’ সিনেমার  জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। লেখালেখি খুব বেশি না করলেও বেশ কিছু টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক ও এক ঘণ্টার নাটক নির্মাণ করেছেন তিনি। এ অভিনেতা প্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন মিনুর সঙ্গে। এ ঘরে তাদের দেবযানী নামের একটি মেয়ে রয়েছে। মিনুর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর হুমায়ুন ফরীদি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত এ সংসারও টেকেনি তাদের। বেশ ক’বছর সংসার করার পর ২০০৮ সালে বিচ্ছেদ ঘটে সুবর্ণা-ফরীদির।অভিনয় করতে গিয়ে নিজের জীবনকে বেশি সময় দেওয়া হয়নি তার। ২০১২ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি কিংবদন্তী এ অভিনেতা লাখো ভক্তদের কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। তবে তার সৃষ্টি আর অভিনয় শৈলিতে ভক্তদের মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।

বাংলাদেশের নাট্য ও সিনেমা জগতে তিনি অসাধারণ ও অবিসংবাদিত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত ধারাবাহিক নাটক সংশপ্তকে অভিনয় করে তিনি নিজেকে নিযে যান অন্য উচ্চতায়। সংশপ্তক নাটকে ‘কানকাটা রমজান’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও যে সব নাটকে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি লাভ করেন তন্মধ্যেঃ

মঞ্চঃ ১। কিত্তনখোলা, ২। মুন্তাসির ফ্যান্টাসি, ৩। কিরামত মঙ্গল, ৪। ধূর্ত উই
টিভিঃ ১। নিখোঁজ সংবাদ, ২। হঠাৎ একদিন, ৩। পাথর সময়, ৪। সংশপ্তক, ৫। সমূদ্রে গাংচিল, ৭। কাছের মানুষ, ৮। মোহনা, ৯। নীল নকশাল সন্ধানে, ১০। দূরবীন দিয়ে দেখুন, ১১। ভাঙ্গনের শব্দ শুনি, ১২। কোথাও কেউ নেই ইত্যাদি

চলচ্চিত্রে ফরীদির প্রথম অভিনয় তানভীর মোকাম্মেলের হুলিয়ায়। চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়ে গ্রাম-গঞ্জের মানুষেরও খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান ফরীদি। বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে তিনি যোগ করেছিলেন এক নতুন মাত্রা। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র সমূহঃ ১। সন্ত্রাস, ২। দহন, ৩। লড়াকু, ৪। দিনমজুর, ৫। বীর পুরুষ, ৬। বিশ্ব প্রেমিক, ৭। আজকের হিটলার, ৮। মায়ের অধিকার, ৯। বিদ্রোহী চারিদিকে, ১০। মনে পড়ে তোমাকে, ১১। ব্যাচেলর, ১২। জয়যাত্রা, ১৩। শ্যামল ছায়া ইত্যাদি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ