,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধাদের সাথে বিসর্গ টিমের অন্যরকম একদিন

লাইক এবং শেয়ার করুন

হামাগুড়ি দিয়ে হাটতে শিখা সন্তানটি একসময় বাবা মায়ের পরম আদরে বড় হয়। তারপর আবার কোন একটা সময় ছোট্ট খোকা কিংবা খুকুটিও মা কিংবা বাবা হয়। একটা সময় দেখা যায়, যেখানে পরম আদরে যে সন্তানকে খেয়ে না খেয়ে মানুষ করেছে সেই সন্তানটিই তাকে পাঠাচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। কি করুণ সেই দৃশ্যপট।

উত্তরার মত বিলাসবহুল এরিয়ার খুব নিকটেই আপন নিবাস বৃদ্ধাশ্রম। যেখানে বয়সের একটা প্রান্তে এসে প্রিয় সেই সন্তানের অবহেলায় শিকার হয়ে পুরাতন একটি জরাজীর্ণ বাসায় ঠাই এই প্রায় ২৫ জন মায়ের। বিসর্গ টিমের সদস্যরা সুযোগ পেলেই ঘুরে আসে আপন নিবাস বৃদ্ধা আশ্রয় কেন্দ্রে। গত নভেম্বরে বিসর্গ টিম এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা কাটিয়েছিলাম একটি দিন।  বিসর্গ টিমের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করেছিলো ভালো মানের খাবার এবং প্রদান করেছিলো প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মধ্যে বেড।

মানবিকতা আর মায়েদের মমতা উপলব্ধি করে গত ১২ তারিখ আবারো বিসর্গ টিমের বন্ধুএবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের সাথে। নিজ হাতে রান্না করে প্রিয় মমতাময়ী মায়ের মত মুখে তুলে দেয় খাবার। বিস্ময় ভরা চক্ষু গুলো যেন খুঁজে পায় খানিক সময়ের জন্য প্রিয় সেই সময় এবং অনুভূতিগুলো। হাসি আড্ডা গান আর এক ঝাঁক তরুন তরুণীর পদচারণায় মুখর হয় বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিটি কক্ষ।

বিসর্গ টিমের সাথে বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধাদের সাথে সময় কাটাতে এসে অনুভূতি শেয়ার করতে এসে সবাইকে অনেকটা আবেগপ্রবন হতে দেখা যায়। বিসর্গ টিমের অন্যতম শুভাকাঙ্ক্ষী আব্দুস সালাম (লেকচারার,এইউবি) বলেন- “বিসর্গ, এমন একটি নাম যা কিনা হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসা মিশ্রিত হয়ে সমাজের অবহেলিত বঞ্চিত মানুষের পাশে সবসময় পাশে থাকবে।  জয়তু বিসর্গ,  জয়তু মানবতা। “

গাজীপুর থেকে আসা একাদশ শ্রেনীর সামিয়া বলেন- কিছু কিছু ফিলিংস থাকে যেগুলো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।  আজ এইখানে না আসলে হয়তো আমার জীবনে ৭০% দেখা হত না।  এখানে এসে জীবনে প্রথমবার আমি সত্যিকার আনন্দ খুঁজে পেয়েছি। ধন্যবাদ বিসর্গ-কে এমন একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য।

বিসর্গ টিমের অন্যতম সদস্য কামরুন্নাহার মিতু বলেন-  বিসর্গ টিম,যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে সুবিধাবঞ্চিতদের সাহায্য করার সুদৃঢ় স্পৃহা। এই স্পৃহা থেকে আবারো ঘুরে এলাম বৃদ্ধা আশ্রয় কেন্দ্র থেকে।২য় বারের মত দেখে এলাম পরিজনহীন করুন মুখী মায়েদের। আর সাথে মধ্যাহ্ন ভোজন। ঠিক যেন অন্যরকম চড়ুই ভাতি। এমন চড়ুই ভাতির লোভটা কিন্তু শেষ হবার নই। পুরো একটা দিন যেন রৌদ্রের সাথে পাল্লা দিয়ে আনন্দের ঢল নামিয়ে ছিল। চারদিকটা মা দিদাদের আলোড়ণে মুখরিত ছিল। আবার যদি কখনো এ ললাটে বাধা পরে মা দিদাদের চাঁদ মুখখানি দেখার সুযোগটা মিস করবো না।এসময় বিসর্গ টিমের প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন শ্রাবন বলেন সমাজের প্রতিটি স্তরের লোক নিজের মানবিকতাবোধ থেকে যতটুকু সম্ভব সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানান। পরিবারের সদস্যদের প্রিয় মমতাময়ী মাকে যেন কখনোই জীবনের এমন ক্রান্তিলগ্নে না দাঁড় করায় সেজন্য পারিবারিক বন্ধন ভালবাসায় দৃঢ় করার পরামর্শ দেন। এছাড়া ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন মিনহাজ, রুবেল, মহসিন, রিমা, রাজু, দিল,  মাহফুজ, হাশেম এবং অন্যান্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য গত বছরের ১৪ জুন যাত্রা করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিসর্গ ইতিমধ্যে মানবিকতাবোধ থেকে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে নিজের স্বেচ্ছাশ্রম এবং হাতখরচের টাকা বাচিয়ে। ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ করেছে করেকটি ইভেন্ট ও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শীতবস্ত্র বিতরন, ঈদের উপহার প্রদান, পথশিশুদের খাবার বিতরন, ব্লাড ক্যাম্পিং ইত্যাদি। কিছু নিয়মাবলী মেনে যেকেউ বিসর্গ টিমের সদস্য হতে পারবে। বিসর্গ টিমকে জানতে ফলো করুন তাদের অফিশিয়াল ফ্যান পেইজ


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ