,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

এই শিশুটি কোন রোহিঙ্গা শিশু নয়

লাইক এবং শেয়ার করুন

সাইফুল বাতেন টিটো # এই শিশুটি কোন রোহিঙ্গা শিশু নয়! গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে জন্ম নেয়া আপনার মতো আমার মতো একজন নাগরিক সে। এরকম হাজার হাজার শিশু আপনি দেখতে পাবেন ফুটপাতে, ওভার ব্রিজে, মসজিদের সামনে, রেলস্টেশনে, বাসস্টান্ডে। এমন শিশুরা একা ভিক্ষা করে না, সে আসলে ভিক্ষুকও না। সে ভিক্ষার একটি ‘টুল’ (বসার টুল না, উপকরণ) মাত্র। হতে পারে সে ভিক্ষুক সরদাদের ডেরায় থাকে কিংবা কোন মা তাকে রোজ হিসেবে ভাড়া দেয়। সুস্থ হৃষ্টপুষ্ট শিশুর ভাড়া কম, কারণ তাতে পথচারীর দরদ উথলে ওঠে কম, ভিক্ষা মেলে না। যে শিশু যত অসুস্থ যত বিকলাঙ্গ ভিক্ষার বাজারে তার দাম তত বেশী।

এই আজন্ম ভিক্ষুক শিশুটি যদি বেশী চঞ্চল হয় তবে তাকে অসুস্থ করার নানা কায়দা-কৌশল রয়েছে। সুস্থতা, অসুস্থতা, সৌন্দর্য, কুৎসিত ভেদে ভাড়ার তারতম্য হয়। কিন্তু তাতে শিশুটির জীবনযাপনে কোন পরিবর্তন আসে না। এমন যে চলে তা সবাই জানে। আমি জানি, আপনি জানেন, পাড়ার দোকানদার জানে, সাংবাদিকেরা জানে, মানবাধিকারকর্মী জানে, পুলিশ জানে, আইনজীবি জানে, জজ সাহেব জানে, মন্ত্রী মহোদয় জানেন, এমনকি আমার ধারণা প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিস্টারও জানেন। কিন্তু পতিতা ব্যবসার মতো এ ব্যবসাও চলে। শোনা যায় এই ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রকেরা নাকি বিশাল বড় হ্যাডোমওলা লোকজন, তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে। তাই সবাই দেখে, সবাই জানে কিন্তু কেউ কিছু বলে না। বরং রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পকেট হাতড়ে ছেঁড়া দুই টাকার নোট কিংবা বাসওয়ালার ফেরৎ দেয়া কয়েনটা ওর দিকে ছুড়ে দিয়ে যায়।

কেন? কিসের আশায়? আমি আমার অনেক বন্ধুকে দেখেছি সওয়াব কামাইয়ের আশায় এমন কাজ করতে। তখনই বলেছি ‘তুই কি জানিস এই টাকাটা শিশুটি পাবে না?’ তার ঈমানদারি জবাব, ‘না পাইলে না পাক, আমি তো নিয়ত কইরা দিছি।’ আমি পাপ পূণ্যের বিষয় কিছু বলতে চাইনা। ছেঁড়া অচল নোট দিয়ে এমন সোয়াব কামাই করার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। কিন্তু তাতে শিশুটির ভবিষ্যৎ কোথায় যায়, তা কারো ভাবার প্রয়োজন নেই। আমার বেহেস্ত, হুর পরি নিশ্চিত হলেই হলো।

এই সকল শিশুরা কি সুলতানা কামাল, মিজানুর রহমান খান, আবুল মকসুদ, রামেন্দু মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর’দের চোখে কিংবা সেভ দ্যা চিলড্রেন বা এরকম কারো চোখে পরে না? কে কবে ব্যবস্থা নিতে চেয়েছে? আমরা শিশু শ্রম নিয়ে কথা বলছি, শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন নিয়ে কথা বলছি, রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য চোখের পানি ফেলছি কিন্তু এই সকল শিশুর কথা কেউ কোনদিন বলেছে বা বড় ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে? আমার চোখে পরেনি। কেউ এদের নিয়ে ভেবে দেখেছেন এই শিশুটি যখন কিশোর হবে বা যুবক হবে তখন সমাজের কোন অংশে তার অবস্থান হবে? সত্যি বললে ছেলে শিশুরা হয় ছিনতাইকারী থেকে খুনি পর্যন্ত আর মেয়ে শিশু যায় স্রেফ পতিতালয়ে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ