,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

দেশটা কি চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য ?

লাইক এবং শেয়ার করুন

(মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দাবি আদায় না হলে গোশত ব্যবসায়ীরা এবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। এর আগেও তারা রাজধানীজুড়ে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। তাদের সে যৌক্তি দাবি আদায় না হওয়ায় আবারও তারা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনার দাবি রাখে।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল ইসলাম তাদের কয়েকটি সমস্যা নিয়ে গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে চিঠি দেন। তাতে বলা হয়, এবারও যদি তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা না করে, তাহলে ৩০ এপ্রিল আবারও আন্দোলনের ঘোষণা আসবে, যা হতে পারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট।

চাঁদাবাজি বন্ধ, অতিরিক্ত খাজনা আদায়সহ বিভিন্ন দাবিতে মাংস ব্যবসায়ীরা গত ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ রাখেন। পরে সরকারের আশ্বাসে ওই কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। কিন্তু দাবি আদায় হয়নি। ফলে ওই ধর্মঘটের পর তারা গরু ও ছাগলের গোশতের দাম আরো বাড়িয়ে দেন। তার পরও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

গোশত ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো হলো- ইজারাদারদের যেসব শর্ত মেনে হাট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা; গোশতে দাম ক্রয়সীমার মধ্যে আনতে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, নির্দিষ্ট স্থানে জবাইখানা নির্মাণ এবং ট্যানারি বন্ধ নয় স্থানান্তর। তাদের দাবিগুলো সময়োপযোগী ও বাস্তবতার আলোকে শতভাগ সীঠক। এই দাবি পূরণে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা দরকার।

আগে সীমান্ত হয়ে ব্যাপক হারে গরু আসত। গরু আসার সময় পথে পথে চাঁদাবাজি হতো বলে গরুর গোশতের দাম বাড়ানো হয়। এতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হ,য় চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মির হওয়ার কারণে ভোক্তাদের বেশি দামে গরুর গোশত কিনতে হচ্ছে। গোশতের দাম ৬০ টাকা কেজি থেকে দফায় দফায় বৃদ্ধি প্রমাণ করে দেশ ও সমাজে চাঁদাবাজদের সংখ্যা কতটা বেড়ে গেছে।

রমজান আসন্ন। প্রতি রমজানের আগে গরুর গোশতের দাম বাড়ানো হয় ঘোষণা দিয়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। তার পরও সংশ্লিষ্টদের অবগতির জন্য বলতে হচ্ছে, ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের সময় সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলেছিলেন, চাঁদাবাজি ও ইজারাদারের নৈরাজ্য বন্ধ হলে ২৫০ টাকা কেজি গোশত বিক্রি সম্ভব।

চাঁদাবাজদের খুঁটির জোর কোথায়? দেশটা কি চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্য! কেন তাদের কাছে জিম্মি হতে হবে। কেন এর খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। তাদের নির্মূলে প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যর্থ হলে মানুষ যাবে কোথায়? তাহলে তাদের যাওয়ার কোনো পথ তো থাকল না। দেশটা চাঁদাবাজদের দিয়ে দিলেই তো হয়। তারাই সব করুক। তারাই যদি অপ্রতিরোধ্য হয়, তাহলে আমাদের এত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দরকার কি। এ প্রশ্ন, অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

ভোক্তারা ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্য কিনতে চায়। সে হিসেবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের খাবার গরুর গোশত। যেটা তারা স্বাভাবিক কারণেই কমমূল্যে পেতে চায়। বিক্রেতারাও তা চায়। সেটা করতে না পেরে তারা কারণ উল্লেখ করে অতীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়েছিল, বর্তমানেও তা চাচ্ছে। অথচ চোর না শোনে ধর্মের কাহিনীর মতো অবস্থা দৃশ্যমান।

রমজানকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির যৌক্তিক দাবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সে প্রত্যাশা আপামর ভোক্তার। সমস্যা তুলে ধরে সমাধানের পথ দেখানোর পরও আমাদের প্রশাসন বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেয়াটা সব বিচারেই আশাবাদী মানুষকে দুঃখ দেয় ও হতাশ করে। আমরা আর এমন নৈরাশ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক- ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)
ই-মেইল : jalam_prodhan73@yahoo.com


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ