,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

কেউ ‘আমিন’ না লিখে যাবেন না ।। ইলোরা জামান

লাইক এবং শেয়ার করুন

এটি বাংলাদেশের উঠতি অনলাইন প্রজন্মের চিত্র। যারা সংখ্যায় হাজারে হাজার। এই প্রজন্মটির বেশীরভাগ জড়িত রেডিও অমুক তমুক এবং অসংখ্য নারী ভেকধারী হিজাব পরা ইসলামিক দেখতে আইডিদের সাথে। এদের লাইক এক দুই হাজার নয়। এদের লাইক সংখ্যা তিরিশ হাজার থেকে শুরু করে ক্ষেত্রবিশেষে এক লাখ পর্যন্ত।
 
এরা ইসলামকে ব্যবহার করে এই কাজটি করছে। এটি একটি ভয়াবহ চিত্র। এদের স্ট্যাটাসগুলো যেরকম হয়ে থাকে তার কিছু নমুনা হলো, একটি বিকলাঙ্গ শিশুর ছবি দিয়ে বলবে কেউ ‘আমিন’ না লিখে যাবেন না, আল্লাহ তায়ালার নাম অমুক যায়গায় এখানে সেখানে পাওয়া গেছে। এসব ফটোশপ করে ছবি দিয়ে বলবে, ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না, হিজাব পরা কোনো আরব রমনীর ছবি দিয়ে বলবে এই মুসলিম বোনটির জন্য কতগুলা লাইক, কখনো শুদ্ধ কখনো জাল হাদিস ব্যখ্যা ছাড়া তুলে ধরে বলবে সবাই লাইক দিন যদি জান্নাতে যেতে চান, আদম আঃ এর পায়ের ছাপ, মা-ফাতিমার শাড়িও আমি আপলোড করতে দেখেছি (আল্লাহ মাফ করুন) এমনকি রাসুল সাঃ এর ব্যবহার করতেও এরা ছাড়ে না (নাউজুবিল্লাহ)।
.
অথচ সরলমনা মুসলিমেরা না বুঝেই এসবে লাইক দিয়ে থাকেন। শেয়ার করে থাকেন। যারা আমাদের সাথে যুক্ত নেই এবং যারা জানেন না যে এটি চরম মিথ্যে। অজান্তে তারা এভাবেই ইসলামের ভুল চিত্র তুলে ধরছেন সবার সামনে। অথচ তারা ভাবছেন এটি করে বুঝি পূণ্য হলো। তাদের বুঝিয়ে দেয়ার মত কেউ নেই যে, যদি এসবেই আপনি সওয়াব পেতেন তাহলে ইসলামের মত একটি স্মার্ট এবং আধুনিক ধর্মে অবশ্যই এসবের কথা উল্লেখ থাকতো যে, কলিযুগে এরকম কিছু পেইজ আসবে এবং তোমরা তাতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দিয়েই পূণ্য কামিয়ে নিতে পারবে।
 
এদের নিয়ে সাধারণ মানুষ মনে করবেন যে, এরা শুধুমাত্র লাইক পাবার জন্যই এইকাজ করে। আসলে তা নয়। এদের নিয়ে আমি স্টাডি করেছি। একটি ফেইক আইডি হাজার হাজার লাইক পেতে এই কাজ করেন না। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামকে বদ্ধ এবং খারাপভাবে একটি গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিতেই এবং মানুষকে ইসলামের আসল শিক্ষা থেকে দূরে রেখে ধর্মপ্রাণ মানুষকে যারা স্বল্প শিক্ষিত কিংবা প্রযুক্তিতে এগিয়ে নেই অথচ ফেসবুক চালাতে জানেন এমন মানুষদের টার্গেট করেছে। এদের উদ্দেশ্য ব্যাপক।
 
কারণ স্টাডিতে দেখা গেছে, এসবে যারা লাইক দিয়ে থাকে তারা একটি গোষ্ঠি থেকে টাকা পেয়ে থাকে। এদের কাজই হলো লাইক এবং শেয়ার দিয়ে টাকা ইনকাম করা। বাকিটা সময় এরা ফেসবুকে মেয়ে আইডিদের সাথে চ্যাট করে কাটায়। কয়েকজন ছেলে বন্ধুদের বলেছিলাম, এদের ব্যাপারটি দেখতে। ওরা যখন এসব লাইকারদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় তখন এরা কেউ কেউ সেই রকোয়েস্ট গ্রহণ করলেও চ্যাটবক্সে আসে না। কিন্তু যেই কোনো মেয়ে আইডি এদের রিকোয়েস্ট পাঠায় এরা সাথে সাথে গ্রহণ করে এবং ইনবক্সে তাদেরকে সেক্স চ্যাট করবার আমন্ত্রণ জানায়। প্রায় একশোতে নব্বই জনই এরকম করে থাকে।
 
এদের কোনো ভয় ডর নেই। এরা ইসলামের কিছুই জানে না। এরা মুখে বলে ইসলামের কথা। কিন্তু এদের অন্তরে ভিন্ন কথা। এদের আইডিতে বিভিন্ন ইসলামিক তথাকথিত সস্তা উপাদানে ভরপুর কিন্তু সেক্স চ্যাটে বিপুল আগ্রহী। প্রথম কনভার্সেশনেই এরা বলবে ‘আসো সেক্স করি’। এবং এরা অনেকে আল্লাহকে বিশ্বাসই করে না। এবং ভালোভাবে বাংলা কিংবা ইংলিশ লিখতে জানে না। এরা বেশীরভাগ গ্রামের ছেলেপেলে এবং অশিক্ষিত। এরা বেকার। সুতরাং সুযোগে নোংরা চ্যাট করে সময় কাটায়।
 
এই চিত্র দেখে আমার কৌতূহল জেগেছে যে কেন এরা এমন করে? তখন জানতে পেরেছি, এরা আসলে পেইড। মানে লাইকের জন্য পয়সা পায়। এখন আপনি দেখুন, ফেইক আইডি যার সেলেব্রেটি হয়ে লাভ নেই সে কেন এইকাজ করবে? এইকাজ তখনই করবে যখন তার ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকবে। আর ভিন্ন উদ্দেশ্যটি হলো, মানুষকে ইসলামের কাছ থেকে দূরে রাখা এবং ভুল পথে পরিচালিত করা বিশাল সংখ্যক মুসলিমদেরকে। যেন তারা অশিক্ষিত থেকে যায় এবং সত্যিকারের শিক্ষা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারে। উদ্দেশ্য এবার পরিষ্কার।
 
অনেক অনেকদিন আগে একটি লেখাতে দেখেছিলাম, বাংলাদেশে হঠাত করে এত নাস্তিকের এবং ইসলাম বিরোধীদের আধিক্য কেন? এরকম শিরোনামে একটি লেখা। এবং সেখানে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে দেখানো হয়েছিলো। মূলধারায় যারা লেখালিখি করেন এবং শিক্ষিত তাদের ব্যাপার তো আছেই। এরপর যখন শিক্ষিত মুসলিমেরা এই নাস্ত্যক্যবাদের বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করলেন এবং যখন তারা বুঝে ফেললো এভাবে ইসলাম থেকে দূরে সরানো যাচ্ছে না এদেরকে, শিক্ষিত মুসলিমেরা কলম ধরেছেন, তখন তারা এই রেডিও পথ এবং হিজাবী রমনী পথ গ্রহণ করলেন। ইসলামকে ব্যাবহার করেই মুসলিমদের অন্ধ করে রাখা। একটি সম্প্রদায়কে, ইসলামিক প্রজন্মকে ধ্বংস করতে এর চাইতে ভালো উপায় আর নেই।
 
এটি অ্যালার্মিং। এদের বিরুদ্ধে সচেতনতা জরুরী। নইলে আমরা একটি অশিক্ষিত এবং ভুল ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্ম পেতে যাচ্ছি যারা ইসলামের দাওয়াত দিতে গেলে এইসব ফেইক ছবির ব্যবহার ছাড়া আর কিছুই জানবে না এবং তখন মানুষ এদেরকে প্রত্যাখ্যান করে আদতে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করবে। তারা ধরেই নেবে এটাই বুঝি ইসলাম এবং এটি অন্তঃসারশূন্য একটি ধর্ম। গোঁড়ামিতে আর অশিক্ষায় ভরপুর। সুতরাং সাবধান হওয়া জরুরি।

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, নববার্তা.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ