,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

রাজশাহীর কেন্দ্রীয় উদ্যান এখন বনভোজন মৌসুমেই জমজমাট

লাইক এবং শেয়ার করুন

মোঃ রাজন আমান (কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি)# বনভোজনের মৌসুমে জমে উঠেছে রাজশাহীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানা। আশেপাশের জেলাগুলো থেকে বনভোজনে আসছে মানুষ। বিশেষ করে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি। উদ্যোগের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। তবে, প্রাণি কম থাকায় দর্শনার্থীদের অনেককেই হতাশা হতে হয়েছে।
এখন পিকনিকের মৌসুম। রাজশাহীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানার বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছুটির দিন বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার এ সংখ্যা আরো বেশি। সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানায় বনভোজনে এসেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়লাডাঙা এলাকার শিপারুল চিল্ডেল কেয়ারের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলাধীন কোদালিয়া পাড়া গ্রাম থেকে আসা মোঃ আনিছুর রহমান আনিস,শুভ রহমান জিয়া,মনিরুল ইসলাম,বিলাল হোসেন,লালন ইসলাম,মোঃ রাজন আমান,মোঃ কামরুজ্জামান কার্জন,আকাশ আহমেদ,আসিফ,আসাদুল,হাসীব, রীনা,মিসেস আমেনা রাহাদ,আনজুম রেজওয়ানা রুহী,পলি,পারুল জানান- বছরে একটি দিন বড়দের ও শিশুদের নিয়ে বনভোজনে বের হন তারা। এবারে তারা এসেছেন এখানে। এখানে পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক সুন্দর হয়েছে। তবে, প্রাণির সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিশুদের অনেকের মন খারাপ হয়েছে।

এ দিন পবা উপজেলার ভালাম ভবানীপুর থেকে পরিবার নিয়ে উদ্যানে ঘুরতে এসেছিলেন সোহেল রানা। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যরা অনেক দিন থেকে এখানে ঘুরতে আসার জন্য বায়না ধরেছে। সেজন্য আসা। তবে উদ্যোনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট তারা। সোহেল রানা আরো জানান, এখানকার পরিবেশ অনেক ভালো। পরিবার নিয়ে পিকনিক করার মতো সুন্দর জায়গা এটি। শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যোন ও চিড়িয়াখানার সহকারি সুপারভাইজার নাওসাদ হোসেন মঞ্জু জানান, এখানে ছোটবড় সব মিলে ৪৫টি পিকনিক স্পট আছে। এসবের মধ্যে একটি ভিআইপি স্পট যার ভাড়া এক হাজার ৫০০ টাকা, ৪টির ভাড়া এক হাজার টাকা ও অন্য একটির ৬০০টি। এছাড়া অন্যগুলোর ভাড়া ৪০০ টাকা করে।

সপ্তাহে ছুটি দিনগুলোতে প্রতিটি পিকনিক স্পটই ভাড়া হয়ে যায়। তবে কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে কিছুটা ফাঁকা থাকে। তবে, চিড়িয়াখানায় প্রাণির সংখ্যা কমে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের অনেকেই হতাশ হয়েছে। নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকা থেকে বনভোজনে আসা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন জানান, অনেক প্রাণি দেখার ইচ্ছে নিয়েই উদ্যানে বেড়াতে এসেছিলেন। কিন্তু খুব একটা বেশি প্রাণি না থাকায় আর মন খারাপ হয়েছে। গত এক যুগে চিড়িয়াখানার প্রাণি অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাঘ, সিংহ, মায়া হরিণ থেকে শুরু করে অনেক প্রাণি মারা গেছে। চিড়িয়াখানার ভেতরে কাঠামোগত উন্নয়নের পরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, প্রাণি না থাকায় দর্শনাথীদের মধ্যে হতাশাও লক্ষ্য করা গেছে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী ২০০৩ সালে রাজশহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় যেসব প্রাণি ছিলো সেগুলো হচ্ছে, দুইটি সিংহ, একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ১৯৪টি চিত্রা হরিণ, দুইটি মায়া হরিণ, ২৬টি বানর, ৯টি বেবুন, চারটি গাধা, দুইটি ভালুক, একটি ঘোড়া, দুইটি সাদা ময়ুর, তিনটি দেশি ময়ুর, ৮৫টি তিলা ঘুঘু, ৬৮টি দেশি কবুতর, ২৮টি বালিহাঁস, দুইটি ওয়াকপাখি, একটি পেলিকেন, ছয়টি টিয়া, চারটি ভুবন চিল, চারটি বাজ পাখি, একটি হাড়গিল, তিনটি হুতুম পেঁচা, নয়টি শকুন, দুইটি উদবিড়াল, তিনটি ঘড়িয়াল ও একটি অজগর।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দেয়া বর্তমান তথ্যানুযায়ী এসব প্রাণির অর্ধেকও নেই। সিংহ, সাদা ময়ূর, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের খাঁচা ফাঁকা পড়ে আছে। চিত্রা হরিণের সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ কমে গেছে। কমেছে বেবুন, ঘড়িয়াল, ভাল্লুকের সংখ্যা। বর্তমানে যেসব প্রাণি আছে সেগুলো হচ্ছে, ৭টি গাধা, ২০টি বানর, ২টি বেবুন, ২টি হনুমান, ১টি মায়া হরিণ, ৪৪টি চিত্রা হরিণ, ২টি মেছো বাঘ, ৪টি গন্ধ গোকুল, ১টি ভালুক, ৩০টি খরগোশ, ১টি হুতুম পেঁচা, ১টি হাড়গিল, ৪৮টি রাজহাঁস, ১০টি বালিহাঁস, প্রায় ২০০টি তিলা ঘুঘু, ২টি পাতিহাঁস, ১১০টি হাইব্রিড কবুতর, ১টি কালিম পাখি, ৭টি চখা, ২টি ঘড়িয়াল, ১টি অজগর, ৭টি কচ্ছপ, ৩০টি বক, ২টি সাদা বড় বক, ১টি ওয়াক পাখি, ১টি পেলিকেন, ১টি চিল, ১টি মুরাল মাছ, ২টি বনবিড়াল।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ