,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

অল্প বয়সে নাজমী’র বড় চ্যালেঞ্জ

লাইক এবং শেয়ার করুন

সেই বিংশ শতাব্দীর উষালগ্ন থেকেই নানা সমাজে ফ্যাশনকে ঘিরে যেমন জনপ্রিয়তা ঠিক তেমনি গবেষণা চলে আসছে। সমাজের কৃষ্টি, সংস্কৃতিসহ আর নানা বিষয় ফ্যাশনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায়। মূলত ফ্যাশন হল একজন ব্যক্তিসত্ত্বাকে সুন্দর করে উপস্থাপন করার একটি বিশেষ মাধ্যম, তবে কখনো কখনো এমন কিছু পরিস্থিতিতে তৈরি হয় যেখানে ফ্যাশনের সাথে আনুষাঙ্গিক অনেক বিষয় যোগ হয়।

ঠিক তেমনি এক পরিস্থিতি বোঝাতে গেল সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ হিসেবে আমাদের সামনে চলে আসবে চলচ্চিত্র মাধ্যমের ফ্যাশন। চলচ্চিত্র মাধ্যমে ফ্যাশনের দ্বারা তৎকালীন ট্রেন্ডকে তুলিয়ে আনার দায়িত্বটি পালন করে থাকেন কস্টিউম ডিরেক্টর। ফ্যাশন সম্পর্কে পরিস্কার জ্ঞান না থাকলে এই দুরুহ কাজটি ভালভাবে সম্পন্ন করাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। একটি চলচ্চিত্রের সবগুলো চরিত্রকে সাবলীলভাবে উপস্থাপনার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা একজন ফ্যাশন স্টাইলিস্টের।

বাংলাদেশের এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বাংলা চলচ্চিত্রের নাম এখন ‘ঢাকা অ্যাটাক’। ছবিটির মূল ভাবনা ও কাহিনী রচনা করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি সানী সানোয়ার, আর পরিচালনা করেছেন দীপঙ্কর দীপন। পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা বাংলাদেশে এই প্রথম। সিনেমা বানানোর পুরো কাজটিকে সার্থক বানাতে কাজ করেছেন অংসখ্য কলাকুশলী। তার মধ্যে একজন নাজমী জান্নাত। ঢাকা অ্যাটাক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায়। আর তা হলো কস্টিউম ডিরেকশন। কোন চরিত্র কী রংয়ের কাপড় পরবে কিংবা তা এক রংয়ের না স্ট্রাইপ, আবার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে কাপড়ের রংয়ের সামঞ্জস্য আছে কিনা তা ঠিক করার কাজ কস্টিউম ডিরেক্টরের। অল্প বয়সে এই কঠিন কাজটি করেছেন বড় চ্যালেঞ্জ মনে করে।

কিছুটা লেখাপড়া দার্জিলিং থেকে শেষ করে বাংলাদেশে এসে এ লেভেল করেছেন নাজমী। এরপর ক্রিয়েটিভ কিছু নিয়ে পড়ালেখার ইচ্ছা থাকায় বাবার পরামর্শে শান্ত মরিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাশন ডিজাইনিং এ ভর্তি হন। পুরো সেমিস্টার জুড়ে রেজাল্ট ভালো থাকায় শিক্ষকতা করার সুযোগও পেয়েছিলেন। কাজ করেছেন স্টাইলিস্ট হিসেবে বিভিন্ন জায়গায়, এর পাশাপাশি উপস্থাপনাও করেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। বর্তমানে স্টাইলিং এর পাশাপাশি করছেন উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা আর নর্থ সাউথে পড়ছেন এমবিএ। বিভিন্ন ফ্যাশন শোতে কাজ করার অভিজ্ঞতা এই অল্প বয়সে অনেক হলেও কোন চলচ্চিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা এই প্রথম। নিজের কনফিডেন্স তাকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করেন নাজমী।

তিনি জানান, ‘ স্টাইলিং নিয়ে বাংলাদেশের সিনেমায় কেউ কাজ করেনা, ক্যারেক্টারকে ফুটিয়ে তোলার জন্য স্টাইলিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। ঢাকা অ্যাটাকে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘ এই কাজে অনেক কিছু শেখার ছিল। দীপঙ্কর দা, সানী সানোয়ার ভাই আমাকে অনেক হেল্প করেছে। এর পাশাপাশি আমাকে সাহায্য করেছে আমার এসিস্ট্যান্ট কাজী আসিফুর রহমান। সবার চেষ্টায় সুন্দরভাবে করা সম্ভব হয়েছে। গল্পটা যেহেতু সানী ভাইয়ের লেখা তাই তার গাইড আমাকে অনেক সাহায্য করেছে’। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে তার স্বপ্ন অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার। পাশাপাশি শিক্ষাকতা করেও নতুনদের কিছু শেখাতে চান নাজমী। এখন কাজ করছেন নিজের বিউটি ব্লগ নিয়ে, যেখানে সবার জন্য বিউটি টিপস, স্টাইলিং আইডিয়াও থাকবে। লক্ষ্য একটাই, সেরা কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ