,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

একই ডালে দু’টি পাখি সিলেটে নাট্যাঙ্গনে ৪০ বৎসর অতিবাহিত

লাইক এবং শেয়ার করুন

আমির হোসেন সাগর : এ যেন ফুলের সুগন্ধ গোলাপের পাঁপড়ী দিয়ে একই সুতায় গাঁথা দু’টি ফুটন্ত ফুল। প্রতিনিয়ত যেন ছড়িয়ে দিচ্ছে সৌরভ, নেই যে মান-অভিমান আর ক্লান্তি, মুখ ভরা হাঁসি, কথা যেন মধু ভরা প্রাণ- তারা হলেন আমাদের সিলেটের দুই কৃতি সন্তান বিশিষ্ট নাট্যকর্মী, নাট্যব্যক্তিত্ব ও নাটকের গুরু শ্রদ্ধেয় মনির আহমদ (স্যার) এবং তাঁর সহধর্মীনী নাট্যকর্মী রওশন আরা মনির রুনা।

সেই কিশোর থেকে বড় ভাই মোঃ জমির আহমদের সহযোগিতায় ১৯৬৫ইং থেকে নাটকের অভিনয়ের কাজ শুরু করেন। স্কুলের কিছু কিছু বন্ধুদের নিয়ে ভারতের বিখ্যাত লেখক প্রসাদ বিশ্বাসের একটি বই থেকে প্রথম নাটক সংগ্রহ করেন ‘জবাবদিহী’। নাটকটি স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে মঞ্চায়ন করেন। নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন- ডা: রমা কান্ত দাস, মহিলারা অভিনয় করতেন না, সেই জন্য প্রথম নাটকে মনির আহমদ স্যার মেয়ে সেজে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় শুরু করেন। প্রায় ৫ বৎসর এক কাটালে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় চালিয়ে যান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মঞ্চ নাটক হচ্ছে- নবাব সিরাজ্উদ্দৌলা, নবাব মীর কাশেম, টিপু সুলতান, স¤্রাট শাহজাহান সহ অসংখ্য নাটকে মেয়ের ভূমিকায় নাটকের কাজ করে যান। পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যান দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। অভিনয় করে শুধু শেষ নয়, নাটক লেখা, নির্দেশনারও কাজ করে আসছেন। ২০০২ সাল থেকে মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি ভিজুয়াল নাটকে কাজ করেন মনির আহমদ স্যার, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটক হলো নাইয়রী, বৈরাতী, লন্ডন দামান, কইন্যা খেইর সহ প্রায় ৩০টি নাটকে অভিনয় করেছেন। জীবনের কিশোর থেকে নাটক, লেখাপড়া, বিয়ে, সংসার শুরু করে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত নাটকের হাল ধরে রাখেন তিনি। কয়েকটি থিয়েটার নাটক নবীন তরুণ-তরুণীদের অভিনয় শিক্ষা দান করেন। জীবনে চলার পথে অনেক সম্মাননা ক্রেস্ট অর্জন করেছেন। চলমান জীবনের শেষ প্রান্তে মনির আহমদ স্যারের এবারের নাটক ‘অধিকার’। নাটকটি আগামী ১৪ই মে সিলেট নজরুল অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যায় পরিবেশিত হবে। জীবন চলার পথে জীবন সঙ্গী হিসেবে যাকে পেয়েছেন, তিনি একজন জনপ্রিয় নাট্যকর্মী। যার কারণে দু’জন চলার পথে কেউ বাঁধা হননি। বরং একে অন্যকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর জীবন সঙ্গী হলেন সেই প্রিয় অভিনেত্রী আমাদের সবার প্রিয় পরিচিত মুখ রওশন আরা মনির রুনা, জন্ম- ১৯৬৫ইংরেজীর ১৪ই এপ্রিল (১লা বৈশাখে)।

সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারে মোঃ সাইদুর রহমান যিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ও মোছাঃ জাহেদা আহমেদের উদরে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার সাথে বিভিন্ন জেলায় আর্মি ক্যান্টনমেন্টে থাকতেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবার হাত ধরে যেতেন এবং ছোট ছোট অনুষ্ঠান দেখতেন। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা অভিনয় করতেন অনুষ্ঠানের মঞ্চে। হঠাৎ একদিন তাঁর বাবা সাইদুর রহমান একটি অনুষ্ঠানে অন্য বাচ্চাদের সাথে অভিনয়ের কথা বললে রুনা খুশি হয়ে অভিনয় করতে যান। তখন সে ৯ বৎসরের শিশু। সেই থেকে শুরু হয় অভিনয়। আর কখনও পিছ পা হননি রুনা। ১৯৭৩ইং তে সিলেটের দিপালী শিল্পী সংঘ নামে একটি সংঘটনের সদস্য হন। ১৯৭৪ইং থেকে বাংলাদেশ বেতার রেডিওতে নাটকের অভিনয় করার সুযোগ পান। লেখাপড়ার পাশাপাশি অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন রুনা। একের পর এক নাটক মঞ্চও রেডিওতে করতেন। প্রায় ৮বৎসর পর ১৯৮০ইং তে প্রতিষ্ঠিত হয় নাট্যায়ন সিলেট। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নাট্যায়নে কাজ করেন। এরপর থেকে আরও ব্যস্ত হয়ে পড়েন নাটক নিয়ে। প্রতিদিন মঞ্চ নাটক করতে হতো থাকে। এভাবে প্রায় ৭০০ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। বাংলাদেশ রেডিওতে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০১টি নাটক এবং নাট্যায়ন সিলেট থেকে ৪৬৭টি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটক আব্দুল্লাহ আল মামুনের ‘বিবিসাব’ ১২১বার, ‘কৃতদাশ’ ১৩৬ বার, ‘মেরাজ ফকিরের মা’ ২৬ বার, ‘সেনাপতি’ ৪০ বার, ‘শুভর নিবাসে’ ৭০ বার, ‘এখন দু:সময়’ ৪০ বার সহ অনেকগুলো নাটক মঞ্চায়িত করেছেন। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ টেলিভিশনে সাকু মজিদ রচিত নাটক লন্ডনী কন্যা, নাইয়রী, বৈরাতী ও গিয়াস উদ্দিনের স্বপ্নের গোলাপ এবং চ্যানেল এস টিভিতে প্রায় ২০০ নাটকে অভিনয় করেছেন। দেশের বাহিরে লন্ডন নাটকের জন্য ৪বার সফর করেছেন। অভিনয়ের কাজে কলকাতাও গিয়েছেন। এত ব্যস্ততার মাঝেও সংসার দেখার পাশাপাশি দীর্ঘ ২৮ বছর একটি এসএসকেএস এনজিওতে চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন।

জীবন সঙ্গী হিসেবে মনির স্যারের সাথে একটি নাটকের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। এরপর ১৯৭৮ইং তে মনির স্যারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তারা এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের পিতা-মাতা। ছেলে ও মেয়ে দুজনেই লন্ডন প্রবাসী। চলিত মাসের ১ এপ্রিল সিলেট নজরুল একাডেমীতে রুনার চলমান সময়ের শেষ নাটক পরিবেশিত হয়, তাদের স্বপ্ন নাটক মানেই জীবন, নাটক নিয়ে নাট্যায়ন, জীবনের শেষ পর্যন্ত নাটকের সাথে থাকতে চান তাঁরা।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ