,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

একুশে বই মেলায় এসেছে কবি শাশ্বত হাসান-এর কবিতা সমগ্র-১

লাইক এবং শেয়ার করুন

ইয়াসিন মাহমুদ আরাফাত # কবি শাশ্বত হাসান শুরুতেই দাপটের সাথে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, শের লিখে সাহিত্য অঙ্গনে পদচারণ করেন। পরে কবিতাকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেঁছে নেন। মাঝখানে কিছুটা গ্যাপ সৃষ্টি হলেও পরে আবার ফিরে আসেন কবিতার সংসারে। কর্মজীবনে ব্যাংকার হলেও যাপিত জীবনের ব্যস্ততা তার কবি সত্তাকে গ্রাস করতে পারেনি। স্বল্পমাত্তায় হলেও পাঠকের সাথে তার কবিতার যোগযোগ কিন্তু রয়েই গেছে। দৈনিক আজাদী ও যায়যায়দিন পত্রিকায় লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত, তাছাড়া দেশের সব জাতীয় পত্রিকায় লিখেছেন অনিয়মিত । তার কবিতায় আমরা শুনতে পাই দেশপ্রেম, রাজনীতি, বিপ্লব, মানবতার জয়ধ্বনি। একুশে বইমেলা-২০১৭ এ বের হয়েছে কবির ৪ টি কাব্যগ্রন্থের সমন্বয়ে “কবিতা সমগ্র-১” বইটি প্রকাশ করেছে তিউরি প্রকাশনি। চমৎকার প্রচ্ছদ করেছেন, নির্ঝর নৈশব্দ। ঝকঝক সাদা কাগজে লিখা বইটির শুভেচ্ছা মুল্য ধরা হয়েছে ৪২০ টাকা।

কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ” দুঃস্বপ্নের পায়ে বেঁড়ী ” বের হয়েছে ১৯৮৪ সালে, দুরন্ত চিলের ডানায়-১৯৯৪, অনাবাদী দুঃখ-১৯৯৬, রৌদ্রের ঘ্রাণ-২০০৪, শেরগন্থ”শের – ই – হাসান” ২০০৬ সালে বের হয়েছে। শিশুতোষ গল্প, খোঁয়াড়-১৯৯৫, সম্পাদনা, অটোগ্রাফার-১৯৯৬, সম্পাদনা, উদিত দুঃখের আঙ্গুল-১৯৯৭, সম্পাদনা, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আধুনিক বাংলা কবিতা-১৯৯৯।

কবিতা ছাড়া একজন কবির পক্ষে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও শামসুর রহমানের মত খুব বেশি লিখে যেমন তৃপ্তি পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি অল্প লিখেও বেঁচে থাকা যায় হেলাল হাফিজ ও শহীদ কাদরীর মত। তাইতো নোবেল বিজয়ী কটি এজরাপাইন বলেছেন, জীবনে একাধিক কবিতা না লিখে একটি মাত্র চিত্র কল্প লিখে বেঁচে থাকা সম্ভব। কতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে তিনি এই ভাষা উচ্চারণ করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কবি’র মতে, একজন সত্যিকার কবির পক্ষে সম্ভব মাত্র একটি পুস্তক দিয়ে কালের বিচারে টিকে থাকা! হ্যা বাস্তবে আমরা তাই দেখতে পাই।

যেমন, কবি শামসুর রহমান বলেছেন, গুচ্ছ গুচ্ছ রক্ত করবীর মতো আসাদের শার্ট ওড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়, শহীদ কাদরীর ভাষায়, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা! আমার চুম্বনগুলি পৌঁছে দাও, সৈয়দ শামসুল হকের ভাষায়, পরানের গহীণ ভেতর ‘জন্মে জন্মে বারবার কবি হয়ে ফিরে আসব এই বাংলায়’ রফিক আজাদের ভাষায়, ভাত দে হারামজাদা! তা না হলে মানচিত্র খাবো। মাহবুবুল হকের ভাষায়, আমরা এখানে কাঁদতে আসিনি! ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি। আল মাহমুদের ভাষায়, সোনার দিনার নেই দেন মোহর চেয়ো না হরিণী, যদি নাও দিতে পার কাবিন বিহীন এই হাত দুটি। হেলাল হাফিজের ভাষায়, এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। শাশ্বত হাসানের ভাষায়, খামুস বোমারু! থামাও তোমার উদ্যত হাত। নিঃসন্দেহে বলা যায় কালের বিচারে এই উক্তিগুলি বেঁচে থাকবে যুগ যুগ ধরে।

৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর তিনি লিখেছেন:

দে গালি – দে
গায়েবানা জানাজা – দে
জলে ভাসে আমার দেশের গোপন লজ্জা।

হায় – কবিতা
তোর লাবণ্য অপছন্দ হয়ে যাক সবার
আজ আমার সবার উপরে চিত্র কল্প
বাজানের গামছায় ঝুলে থাকা –
এক কেজি চাল…….

এবং আমার রাজনের মুখই
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিত্র কল্প!!
বিনা হিসাবে নেই যার দায়ভাগ
হায় ক্লান্ত রাজন! আমার রাজনের মুখ।

তিনি যে খুব বেশি লিখেছেন তা কিন্তু নয়, বলা চলে দশক বিবেচনায় অনেক কম লিখেছেন। তবে যা লিখেছেন ভালই লিখেছেন। আমরা দেখতে পাই ৮০ দশকের মধ্যে তিনিই একমাত্র অবহেলিত ব্যক্তি। জীবনের শেষ বয়সে তার কাছে আমাদের চাওয়া অনেক। তিনি আরো ভালো কিছু লিখে পাঠক হৃদয়ে স্থান করে নিবেন এটাই প্রত্যাশা। সর্বময় কবির সাফল্য কামনা করছি।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ