,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আশাবাদী উপন্যাস ঊনমানবঃ একজন সাধারণ পাঠকের ভাবনা

লাইক এবং শেয়ার করুন

আদীল এ হোসেন # কবি সাহিত্যিকগণ অক্ষম। কলমের তরবারি তুলে দেয় খুব অক্ষম একজন মানুষেরহাতে। মানুষটা হয়ে ওঠে গল্প, কবিতা সিনেমা বা ক্যানভাসের নায়ক। মূলতই নায়ককবি সাহিত্যিকের চিন্তা বা কল্পনা। শিল্পী সাহিত্যিকের এই চিন্তা জন্ম দেয়নায়ক। খোঁড়া নুলো হয়ে ওঠে স্পিনার। যুদ্ধের বদলে খেলা! খেলা জিতে দেশ জিত!কি উর্বর মস্তিষ্ক।‘লগন’ নাকি দেশ জয়ের সিনেমা! দীপু মাহমুদ তার ঊনমানব উপন্যাসের ৬৫ ও ৬৬ পৃষ্ঠায় একজনমানুষের ও পশুর মধ্যে সীমারেখা টেনে সদ্য এক্সপেরিমেন্টাল বানরপ্রভাতকে সামনে নিয়ে এসেছেন। প্রভাত, বানর না মানুষও নাকি আধা মানুষআধা বানর- প্রফেসর রশিদ এর হাত ধর? আর প্রফেসর আমিন? যে কথা প্রফেসর রশিদ স্পষ্ট করে বলতে পারেন না, সেই কথাবলে প্রভাত। প্রভাত সাধারণ মানুষের অক্ষমতা প্রকাশকরে হয়ে ওঠে নায়ক ‘ঊনমানব’। আধা মানুষ আধা বানর, সে হয়ে ওঠে মানুষ সমাজেরনায়ক। এমনই অক্ষম বন্ধ্যা সময়ের হাত ধরে কি এগিয়ে চলেছে আমাদের সমাজ?যেখানে শিশু সত্য বলতে না শিখে, শিখে নিচ্ছে সফল হওয়ার সহজ পথ, ভাড়া করছেহ্যাঁচ্চো বাবুলকে তার সফলতার সিঁড়ি হিসাবে?

মাঘে বাঘ কাঁপে নাকিমাঘের শীতে বাঘ কাঁপে? প্রফেসর আমিন চাদর গায়ে ক্লাসে লেকচার দিলেবিশ্ববিদ্যালয়ের মান যায়, মনে হয় হাটের মাঝে হকার চুলকানী খাওজানির ঔষধবিক্রি করছে কিন্তু গায়ে চাদর ছাড়া ফাগুনের শীত শীত ভোরে ২১শে ফেব্রুয়ারিরপ্রভাত ফেরিতে যাওয়া চলে না। তাহলে কি চুলকানি খাওজানির ঔষধ বিক্রিরজায়গা শহীদ মিনার? ঊনমানব এগিয়ে যায় এই প্রশ্নের হাত ধরে। প্যারাডক্স, কনফ্লিক্ট, স্যাটায়ার, নিয়ম ভাঙ্গার নিয়ম ভর করে দীপু মাহমুদের সুকুমার রায়এর চিন্তা থেকে। কেন যে হাঁসজারু চিন্তা করেছিলেন, ছবি এঁকেছিলেন সুকুমাররায় তা তিনিই জানেন। তাঁর এই জানা না জানা, তাঁর আগ্রহ অনাগ্রহ নিয়ে বাতাঁর খেয়াল নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার কেন কারও থাকার কথা নয় যখন সুকুমাররায় এর তিন/চার পুরুষ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন, বাংলা সাহিত্যেকেবিশ্বসাহিত্যের মর্যাদার আসনে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস পেয়েছেন– অন্তত সুকুমাররায় ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে আমার এমনই বোধ কাজ করে।

দীপু মাহমুদেরঊনমানব খুব মৌলিক একটি জায়গা ছোঁয়ার চেষ্টা বলেই আমার মনে হয়। প্রাণী জীবনেবংশগতি নাকি পরিবেশের প্রভাব বেশি সে নিয়ে বিস্তর তর্ক যুদ্ধ এখনো চলছে।দীপু মাহমুদের ঊনমানব সে সমাধান দেয়নি বা দেওয়ার চেষ্টা করেনি তবে সত্য সেইবিতর্কের বেলায় কোনো কোনো পক্ষে বিশেষ যুক্তি রেখে গেছে। সে যুক্তি যেমনবৈজ্ঞানিক যুক্তি নয়, ঠিক তেমনই ফেলনা যুক্তিও নয়।

কবিতা ও বিজ্ঞাননামক একটি গল্প/প্রবন্ধ পড়ার সুযোগ হয়েছিল স্কুলের পাঠ্যবইয়ে। সেটি পড়েআমার বোধ এমন সাহিত্য ঘুরে ফিরে হাইপোথেসিস হয়ে আসে বৈজ্ঞানিকের সামনে।অর্থাৎ মানুষের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে বিজ্ঞান। মানুষেরকল্পনাকে ভর করে কথার গাঁথুনিতে যা কিনা হয়ে ওঠে সাহিত্য। সুকুমার রায় এরহাঁসজারু তেমনই হয়ে ওঠে দীপু মাহমুদের সায়েন্স ফিকিশন ঊনমানবের উপজীব্য।

গোল বাধে তখন জিন এর পরিবর্তনের সাথে সাথে বানর তার পুরানো ধ্যানধারণাবদলে ফেলে মানুষের আচরণ করছে তখন সে ফিরে যাবে কেন তার পুরানো ভিটেয়, তারফেলে আসা অতীতের খোঁজে! আজ যেমন মানুষ পিকনিক বা বনভোজনের নামে জংগলে ফিরেগিয়ে উদ্দ্যাম নৃত্য করে সেকি তার সেই জঙ্গলে বাস এখনো লালন করে তার মননেবা মগজের কোন কোনায়? বা আধুনিক যুক্তিবাদী মানুষ যখন রাতের আঁধারে ভূতেরঅস্তিত্ব কল্পনা করে এমন কি কোনো প্যারাডক্স পেয়ে বসে তাকে ঊনমানব লেখারসময়?

অক্ষম শিল্পী সাহিত্যিকগণ যত বেশি এমন ঊনমানব সৃষ্টি করবেন, যত বেশি আমাদের মধ্যে মানুষ হওয়ার বাসনা তৈরি করবেন তত বেশি আমাদের মধ্যেতৈরি হবে মানব হবার বাসনা। শিল্পী সাহিত্যিকগণের এই অক্ষমতার প্রকাশ যতবেশি পষ্ট হবে আমরা তত বেশি এগুব মঙ্গলের পথে এ আমার নিছক ধারণা নয়বিশ্বাস। অস্থির সময়ে এমন আশাবাদী সায়েন্স ফিকশন ‘ঊনমানব’ এর জন্য দীপু মাহমুদ-কে শুভেচ্ছা।

ঊনমানব প্রকাশ করেছেঃ অনিন্দ্য প্রকাশ
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
মূল্যঃ ১৮০ টাকা


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ