,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

একুশে বইমেলায় রুদ্র আমিনের গল্পগ্রন্থ “আবিরের লালজামা”

লাইক এবং শেয়ার করুন

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ তে শ্রাবণ প্রকাশনী থেকে আসছে রুদ্র আমিনের প্রথম গল্পগ্রন্থ “আবিরের লালজামা” চারটি গল্পের সমন্বয়ে সাজানো গ্রন্থ।

 

শরীফ চিরবিদায় ষ্টোর চালায়, কফিন বক্স, মুর্দা গোসল, দাফনের কাজ করে, সারাদিন মানুষ মরার অপেক্ষায় থাকে, প্রতিদিন কাষ্টমার থাকে না, তাই সপ্তাহে যে কয়টা পায়, খুব বেশি দর নিয়ে ছেড়ে দেয়। এব্যাপারে ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এতে তার পাপ বোধ হয় কিনা? সে উত্তরে বললো মানুষ যদি মাদক বিক্রি করে পরোক্ষ মানুষ হত্যা করে অনুশোচনা না করে, এটা তো তার চেয়ে উত্তম, প্রতি মিনিটে যদি মানুষ মরতো, তাহলে সে পাইকারি দরে বেচে দিতো…

আবির স্পষ্ট স্বরে বলছে, বাপজান আমার আর লালজামা লাগবো না, দেখো আমার জামা লাল হয়ে গেছে, আমি বললাম বাপজান তোমার কিছুই হয়নি, তুমি ভালো হয়ে যাবে, দেখো তোমার জন্য দুইখান কত সুন্দর লালজামা আনছি, আবির হাত বাড়িয়ে দিলো, আমি তারে লালজামা দিলাম, সে হাতে নিয়ে কেমন খুশি হয়ে গেলো, যেন তার কিছুই হয়নি, সে আবার বললো বাপজান সত্যিই তুমি লালজামা আনছো, মা, মা গো, আমি কালকে লাল জামা পড়ুম, লাল জামা পড়ে টুনটুনি খালার বাসায় যামু, আম্মা আমারে লালজামা পড়াইবা না, আম্মা আমি লাল জামা পড়ুম…

“আবিরের লালজামা” গল্প থেকে

আজ রুনা দেশের বাড়িতে গেলে গ্রামের মানুষ তার বাবা ও মাকে দোষী সাব্যস্থ করতে সামন্যতম দ্বিধাবোধ করে না। পাড়ার মেয়েদের তাঁর সাথে মিশতে দেয় না এমনকি কেউ মিশতে চাইলে তাদের পরিবারের সদস্যরা উল্টো সেই মেয়েটির উপর চরাও হয় আর তাই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত মৃত্যু পর্যন্ত শহর কেন্দ্রিক বেঁধে রেখেছে সে। আলিশান বাড়ি গাড়ির মালিক, শয়তান-বাটপার থেকে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি হতে শুরু করে সরকারী উচ্চ পর্যায়ের অফিসারও সুযোগে থাকে বাড়ির অধিনস্থ সুন্দরী মেয়েদের বাহুডোরে চেপে ধরার। বাড়ির কাজের মেয়ে শুরু করে নষ্ট পল্লী পর্যন্ত।

“ঝরে পড়া ফুল” গল্প থেকে

ক্ষণস্থায়ী এ জীবনের অনভূতি কত বিচিত্র। কত তুচ্ছ কারণে চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, আবার ওলট-পালট করা ঝড়েও কী শান্ত , কী স্থির মানুষের হৃদয়। ভালোবাসার গল্প গুলোতেও তাই ছড়িয়ে থাকে রহস্যময়তা, বৈচিত্রতা। সে সব গল্প ঢেউ তোলে প্রেমিক হৃদয়ে, মনে পড়ে যায় ফেলে আসা দিনের কথা। এমন ঘটনাও আছে যা অন্যের স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হয় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।

“মৌমিতার ভালোবাসা” গল্প থেকে

হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো, এখন মধ্যরাত্রি হবে হয়তো, একটা পেঁচা বাহিরে ডেকে চলছে, আমি কতক্ষণ ঘুমালাম নিজেই ধরতে পারছি না, বাহিরে খুব ঘোঙ্গানীর মত শব্দ হচ্ছে, হঠাৎ এই রুমের একমাত্র জানালার দিকে চোখ গেলো, কবর গুলোতে কে যেন বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে, এখানে তো ইলেকট্রিসিটি নেই, এত আলো কোথা থেকে এলো? হঠাৎ তিন চারজনের একটা দলকে দেখলাম একটা কবর ঘিরে কি যেন মন্ত্র পাঠ করছে, একটা কুকুর চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে, হঠাৎ দেখি পরাণ মাষ্টারের সেই অন্ধ কুকুর, আরে ঐ তো পরিতোষ, তার পিছনে তার ছেলে হারাধন, কি করছে ওরা, বুকের ভিতর ধুর ধুর করছে, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না, এরা কবর থেকে একটা মরদেহ তুলে আনলো, এক একেক জন বুনো নেকড়ের মত সুর করে কাঁদতে লাগলো, এরপর মরা দেহটাকে মাটিতে তুলে তাতে বসে খেতে লাগলো, কি বিভৎস, কি মারাত্মক, হরি কি তবে ঠিকই বলেছিলো স্বপ্ন যোগে।

পরাণ বাবু চলে যাওয়ার পর থেকে, নিজেকে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছি না, এসব কি হচ্ছে আমার সাথে, অন্ধ কুকুর, মৃত হরির সাথে সাক্ষাৎ কিংবা পরাণ বাবু এবং অবশেষে টগরপুর । ব্যাগ হাতড়ে রোগীর জন্য রাখা মানসিক রোগীদের কড়া ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুম আসছে না, বিছানার এপাশ ওপাশ করছি, কিছুটা যখন তন্দ্র এলো, তখন চোখের সামনে চলে এলো গাড়োয়ান হরি আর তার সেই মহিষের গাড়ি, হরি বললো বাবু আমি বড় কষ্টে আছি, বাবু আমি বড় কষ্টে আছি, ইংরেজ সাহেব আমারে ছুটি দিলো না, আমার বউয়ের সাথে আর দেখা হলো না তার মৃত্যুর আগে, তুই জানিস বাবু, ইংরেজ বাবু কে ছোড়া দিয়ে গলা কেটেছি প্রথমে তারপর ওর কলিজাটা হাতে নিয়ে গাড়ি করে রওয়না দিয়েছিলাম…

বাবু, ওরা হামার সামনে ছটফটিয়ে মরে গেলো, তাদেঁর রক্ত হামার সারা শরীরে মেখেছে, এরপর ওরা হামাকে গুলি করেছে বাবু, হামাকে গুলি করেছে , তাও ওরা আমাকে চিতায় দেয় নাই বাবু, মৃত্যুর পর এটা কি করতে পারে নাই, ওরা কত নিষ্ঠুর বাবু তুই জানিস না, হামার শবদেহটা জঙ্গলে চার দিন পড়ে ছিলো…

“ট্রেন – ৪৭৪” গল্প থেকে

জীবনের বহমানতার বাঁকে বাঁকে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ওঠে আসে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার নড়বড়ে ভীতের করুন আর্তনাদ, ব্যাক্তিগত শূন্যতাবোধ, হারানোর বেদনা, ব্যাখ্যাতীত ভয় কিংবা ঘটনা। অধিকাংশেই সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত আমরা সামাজিক বাস্তবটায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে দোষ চাপানোতেই ব্যতিব্যস্ত । উদ্যমী বিভীষিকাময় জীবনে ঠেলে দেয়ার সুযোগের সদ্ব্যবহারে। এটিই বাস্তবিক জীবনের বহমান ধারা। যার ভেতরের নির্যাস উঠে এসেছে আবিরের লালা জামার গল্পের ঘোড়ার ছুটে চলায়।

বইয়ের নামঃ “আবিরের লাল জামা” , লেখকঃ রুদ্র আমিন , প্রচ্ছদঃ নবী হোসেন , ঘরানা: গল্প গ্রন্থ , প্রকাশকালঃ অমর একুশে বইমেলা ২০১৭, প্রকাশনিঃ শ্রাবণ প্রকাশনী, স্টল নং – ২৫৫, ২৫৬ ও ২৫৭ 

২০১৫ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় উদাহরণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় লেখকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যোগসূত্রের যন্ত্রণা’। শব্দকোষ প্রকাশন থেকে ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘আমি ও আমার কবিতা’।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ