,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলো মৌলবাদি শক্তি

লাইক এবং শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ # ফেসবুকে প্রগতিশীলতার পক্ষে ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের অাবু্ল বাশারের বিরুদ্ধে মৌলবাদীরা ধারাবাহিকভাবে তান্ডব চালিয়ে অাসছে। হত্যার হুমকি দেয়া, বাড়িঘরে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অাগুন লাগিয়ে লুটপাট করেও তারা ক্ষান্ত হয়নি। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করিয়েছে তাকে। এ সবকিছুর পেছনে রয়েছে টাকার খেলা। অাবুল বাশার নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পত্র লিখেছিলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছেও পত্র লিখেছেন। কিন্তু জঙ্গি ধর্মের কাছে সবাই যেন অসহায়! অাসুন জেনে নিই, তথাকথিত নবীপ্রেমিকদের চরিত্র ও তাদের নবী প্রেমের নমুনা সম্পর্কে :-

ধর্ম ও নবীকে অবমাননা করার অভিযোগ তুলে অাবুল বাশারের বাড়িতে হামলা হয় ১৫/০৩/১৭ তারিখে

  • বাড়িতে অাগুন দেয়া হয় এবং লুটপাট করা হয় ১৬/০৩/২৭ তারিখে
  • তার নামে ধর্ম-অবমাননা করে ৫৭ ধারায় মামলা করা হয় ১৭/০৩/১৭ তারিখে।

অাগুন দেয়ার কারণে প্রচন্ড ভয় পেয়ে ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয় অাবুল বাশার ভাইয়ের অাট বছর বয়সী ভাতিজা রাহাত, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর দীর্ঘদিন সংজ্ঞাহীন থাকার পর গত রমজান মাসের ২৫ তারিখ সে মারা যায়। ‘নারায়েতকবির অাল্লাহু অাকবার’ স্লোগান দিয়ে হাজারো লোক তার বাড়িতে অাগুন দিয়ে লুটপাট চালায়। পুরো বাড়ি পুড়িয়ে দেয়, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে তারা।

এসব কাজের উস্কানিদাতাদের নাম –
(১) ডা: অাবদুল মতিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল হাসপাতালের ডাক্তার।শিবিরের সাবেক সশস্ত্র ক্যাডার। ছাত্রলীগের সাথে গোলাগুলিতে সে তার এক চোখ হারিয়েছে। পরে পাথরের কৃত্রিম চোখ লাগায়।

(২) ফারুক হোসেন। চরমটুয়া ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপাল। ঘুষখোর হিসেবে এলাকাজুড়ে তার সুনাম (?) অাছে। চাকরি দেয়ার কথা বলে ঘুষ নিয়ে স্থানীয় অালতাফ হোসেনকে চাকরি দেয়নি, অালতাফকে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলেও ফেরত দেয়নি। পরে অালতাফ তাকে বাজারে জনসমক্ষে পেটায়, তবুও টাকা ফেরত দেয়নি! লোকদেরকে ধর্মীয় ওয়াজ করে সে জনপ্রিয়তা কামায়, এটাকে পুঁজি করে সে পাবলিককে কলেজের সম্প্রসারণ ও সমাজসেবার জন্য জমি দান করতে বলেছে। মানুষ স্যারের কথায় বিশ্বাস করে জমি দান করার পর দেখে – জমি স্যারের নিজের নামে লেখা!

এ নিয়ে স্থানীয় নূরুল হুদা সালিশ ডেকে এমপির সামনে এ অভিযোগ করেছিল। প্রিন্সিপাল সাহেব জমি ফেরত দেয়ার কথা বলেও দেয়নি অদ্যাবধি।
এ প্রিন্সিপাল এক বাড়িতে লজিং থাকতো, সে বাড়ির মেয়ের সাথেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে মার খেয়ে স মেয়েকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। এখনো সে স্ত্রীই তার স্ত্রী, যদিও কলেজের অনেক মেয়ের সাথেই তার সম্পর্কের গুজব ওঠে মাঝেমাঝে। সম্প্রতি ফারুক হোসেনের চাকরির সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়, অান্দোলনও চলছে। কয়েকবছর অাগে কলেজের নিকটবর্তী সরকারি খাল সে নিজের নামে লিখে নেয় ঘুষের বিনিময়ে, পরে পাবলিকের বাঁধায় তা হয়নি।

(৩) মাওলানা শিব্বির অাহমদ। চরমটুয়া কওমি মাদরাসার মুহতামিম (প্রিন্সিপাল) এবং বিশিষ্ট লুতি-বিশেষজ্ঞ। তাঁর পায়ুকামিতার কথা এলাকার প্রায় সব হুজুররা জানে। সে তার এক ছাত্রের সাথে পায়ুকাম করতো, অাবার তার সাথেই নিজের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে!
শিব্বির হুজুরের মেজ ছেলে তার বাপের মাদরাসায় পড়াকালীন এক বাড়িতে লজিং থাকতো, সে বাড়ির মেয়ের সাথে অপকর্ম করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে! শিব্বির হুজুর এসে গোপনে মিমাংসা করে মাদরাসায় গিয়ে উস্কানি দেয় ছাত্রদেরকে ও শিক্ষকদেরকে। পরেরদিন ছাত্ররা লজিংওয়ালার বাড়ি ঘেরাও করে, পরে এলাকায় সালিশ বসে এবং শিব্বিরের ছেলে দোষী সাব্যস্ত হয়। শিব্বির এবং তার ছেলে ক্ষমা চায় সবার সামনে। অারব্য এনজিওর দানের টাকা এবং বিভিন্ন সমিতির নামে টাকা কালেক্ট করে শিব্বির মাওলানা বর্তমানে প্রাডো গাড়ি ও প্রচুর ভূসম্পত্তির মালিক হয়েছে।

(৪) হাফেজ অা: হাই। এ লোকটি ইঁদুরের মত চলাফেরা করে। একসময় স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিল, পরে লেবার ভিসায় দুবাই গিয়ে দুবাইয়ের কয়েকজন শেখকে হাত করে মসজিদ প্রতিষ্ঠার নামে প্রচুর টাকাপয়সা কামাই করে। এখন সে S.S.R নামে একটি সংস্থা তৈরি করেছে।

(৫) অাবদুল্লাহ অাল মামুন। হা: অা: হাইয়ের ভাই। এই মামুন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও অন্য একজন মিলে কালাডোরাপে চেয়ারম্যানের খামারে একটি গরিব মেয়েকে দীর্ঘদিন ধর্ষণ করে, একদিন এলাকাবাসী হাতেনাতে তিনটাকেই ধরে ফেলে, তিনদিন অাটকেও রাখে। পরে অাটমাসের প্রেগন্যান্ট মেয়েটাকে তারা চট্টগ্রামে নিয়ে অ্যাবরশন করায়।

(৬) মাওলানা সাজ্জাদুর রহমান অাতিকী। একাত্তরে নোয়াখালী জেলা রাজাকারের অামির কুখ্যাত মাওলানা নূরুল অামিন অাতিকীর ছেলে। একাত্তরের পর তারা এলাকাছাড়া ছিল। নূরুল অামিন অাতিকী মারা যাওয়ার পর তার লাশ এলাকায় দাফন করা হয়, যদিও এলাকাবাসী রাজাকারের লাশ দাফন করতে বাঁধা দিয়েছিল। কয়েক বছর পর সাজ্জাদুর রহমান অাতিকী তার বাবার কবর থেকে নূর বা অালো বের হওয়ার গুজব তুলে এবং তার বাবাকে বেহেশতী অাঙ্গুর খেতে দেখার গুজব তুলে সে তার বাবাকে ‘অাল্লাহর ওলী’ হিসেবে তুলে ধরে, এবং এ সুযোগে সে এলাকায় ফিরে ধর্মব্যবসা শুরু করে।

(৭) চেয়ারম্যান কামালউদ্দীন বাবলু। এ লোকটি টাকা ছাড়া কিছু বোঝেনা। সে জামাত, জঙ্গি, অা.লীগ সবার কাছ থেকেই টাকা খায়। যে টাকা দেবে তার পক্ষেই সে সাফাই গায়। সৌদি থেকে জঙ্গিবাদে পাঠানো টাকার একটি অংশ তার পকেটেও যায়।
অাবুল বাশারের কাছে দশলাখ টাকা ঘুষ চায় শিব্বির মাওলানা ও প্রিন্সিপাল ফারুক হোসেন। দশলাখ টাকার বদলে হামলা-মামলা বন্ধের অাশ্বাস দেয়া হয় তাদেরকে।

(৮) ফয়সাল বারী চৌধুরী। সে সাভারে তার বন্ধুর গার্মেন্টে বসে বসে মেয়েদের সাথে ডেট করার ধান্ধা করতো, পরে সেখান থেকেই অপকর্ম করে ধরা খেয়ে পালানোর চেষ্টা করেও পালাতে পারেনি। সেই মেয়েকে নিয়েই সংসার করে যাচ্ছে। চরমোনাইয়ের মুরিদ এবং হা: অা:হাইয়ের তাবেদারি করে টুপাইস কামায়।

(৯) মাওলানা অাবুল কাসেম অামিনী। সে ঘনঘন ওমরায় যায়, সাথে বিভিন্ন মাদরাসার নামে ভূয়া রশিদ বই তৈরি করে নিয়ে যায়। এসব মাদরাসার নামে প্রচুরক টাকা কালেকশন করে সৌদি থেকে।

(১০) মাওলানা অাবদুল বাসেত। চরমটুয়া কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম। সে শাপলাচত্বর কান্ডে জড়িত। সেখানে তান্ডব করতে গিয়ে পুলিশের সাউন্ডগ্রেনেডে অাহত হয়। তার পিঠে এখনো অনেক স্প্লিন্টারের দাগ অাছে। সে সরকারের নামে এবং বঙ্গবন্ধুুর নামে সবসময় কুৎসা রটিয়ে বেড়ায়। এলাকার যুবকদেরকে জেহাদে উস্কানি দেয়।

(১১) রাশেদ। বিশিষ্ট পরকীয়া বিশেষজ্ঞ। প্রবাসী হা: বেলালের বউকে নিয়ে পালিয়ে এলাকায় অালোচিত ছিল, সে বউ নিয়েই সংসার করছে এখনো।

(১২) রিয়াদ। নোয়াখালী জেলা শিবির সভাপতির ছোটভাই। শিবির-কর্মীদের অাগুন সন্ত্রাসের অভিজ্ঞতাকে সে কাজে লাগাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধার পটিবারে।

(১৩) নূরুন্নবী সুমন। কৃষকদল নেতা। দুর্নীতির বরপুত্র। হুজুরদের পেছনে সৌদির টাকার অাশায় ঘোরে।

(১৪) শরীফ। শিবিরের সাথী। তার সাথে তার সহযোগী রাজু, অাতিফ অাকবর সহ বেশকিছু ঘাপটিমারা শিবিরকর্মী অাছে।
এরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ মামলার অাসামি

(১৫) নোমান। স্থানীয় কাজীর জামাই। এই হালাল ঘরজামাই তার শ্বশুরের কার্যালয়ে বসে মিটিং এবং জঙ্গিত্বের সমন্বয় করে।

(১৬) খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদরাসা। ইসলামি ছাত্রশিবিরের উইমেন জঙ্গি রিক্রুট সেন্টার।

(১৭) নূরুল হুদা এবং তার শ্বশুর। ১৯৯৬ সালে নূরুল হুদার শ্বশুর মাওলানা বেলাল ফতোয়া দিয়েছিল – যারা অাওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছে তাদের সবার বউ তালাক হয়ে গেছে!

জঙ্গিদের অর্থায়নের উৎস এই সংস্থা

অাবুল বাশারকে ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয় ২৩/০৩/১৭ তারিখে এবং জামিন পান ১১/০৮/১৭ তারিখে। এরপর ২৯৮ ধারায়ও মামলা করা হয় ধর্মীয় অনুভূতিতে অাঘাতের মামলা করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ফারুক প্রিন্সিপাল থানায় গিয়ে ওসি সাহেবকে বলে – “নাস্তিকটাকে ছেড়ে দিন, অামরা ইসলামিক মঞ্চে ওর বিচার করবো!” অারবের টাকায় এনজিও করে প্রচুর জঙ্গি রিক্রুট করছে উপরোক্ত মৌলবাদী জঙ্গিরা। বিভিন্ন পারপাসে জনগণের কাছ থেকে টাকা অাদায় করে নিজের পকেট ভরে, সুদবিহীন সমিতি করে পাবলিকের টাকা নিয়ে ‘নাস্তিক প্রতিরোধ’ অান্দোলন করছে তারা। ন্যাচারাল অপরচুনিটি এপ্লাই লি: এবং এস.এস. অার নামক দুটি এনজিওর সাথে জড়িত এরা সবাই। এ দুটি সংস্থার সম্পদ এবং কার্যক্রম তদারক করলে সরকার প্রতারণা ও জঙ্গিবাদের অনেক গোপন তথ্য পাবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ