,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

অন দ্য আদার সাইড অফ দ্য কয়েন ।। আবু সায়েম দোসর

লাইক এবং শেয়ার করুন

ঢাকায় একজন রিকশাওয়ালার গড় দৈনিক আয় অন্তত চারশ থেকে পাঁচশ টাকা। চা বিক্রেতার জায়গা ভেদে কিছু কম বেশি। বাসের ড্রাইভার-হেল্পারের ছয়শ থেকে সাতশ টাকা। মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্তদের কথা বাদই দিলাম যাদের অন্তত মাস শেষে একটা ফিক্সড ইনকাম আছে। অসৎ এবং ঘুষখোরদের কথা তো ধরলামই না।

অন দ্য আদার সাইড অফ দ্য কয়েন, সরকারি হিসাবে মণ প্রতি ধানের উৎপাদন খরচ গড়ে এক সিজনে ৮০০ টাকা। সরকারি হিসাবে! বাস্তবে অংকটা আরও বেশি। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৮ মণ ধান হইলে খরচ ১৪,৪০০ টাকা। অন সিজনে মণ প্রতি ধানের দাম ৪০০-৪৫০ টাকায় নেমে যায়। ৫০০ করে ধরলেও প্রতি বিঘার সেই ধান বিক্রি করলে আসে মাত্র ৯০০০ টাকা। এক বিঘায় লস ৫,৪০০ টাকা। পাঁচ হাজার চারশত টাকা মাত্র(সিজন ভেদে হিসাবটা কিছুটা কমবেশি হয়, তবে চিত্র অভিন্ন)। তিন-চার মাস কুকুরের মতন কষ্ট করে পারিশ্রমিক হিসেবে যখন এমন অংকের একটা টাকা শুধু ‘লস’ই হয়, মানে গাঁটের ভেতর থেকে উলটো চলে যায় তখন কিভাবে এবুং কেন মানুষ কৃষিকাজে আগ্রহী হবে? এই তো শুধু এক বিঘার হিসাব। একজন কৃষক যদি আরও বেশি করে তাহলে তার অংকটা আরও বড়।

একদুই বিঘা জমির মালিক আজকাল আর কৃষি কাজ করেনা। তাই নিডি কৃষকদের জায়গা ভেদে জমি লিজ নিতে হয় এবং এর জন্যও অংকটা বাড়ে; আবার বেশি জমিতে বেশি দিনমজুর ভাড়া করা দরকার হয় এভাবেও অংকটা বাড়ে। লোকসানের অংক। লাভের না। আর আল্লাহয় দিলে যদি পোকা বা ঝড়বৃষ্টি জাতীয় প্রাকৃতিক দূর্যোগ আসে তাইলে তো কথাই নাই। কৃষকের নিজের ইকনোমিক স্ট্যাটাস এমনিই সবার নিচে, তার পরে তারা এইসব লসের ভার বহন করবে কিভাবে। আমার মাসিক থাকা খাওয়া খরচের কাছাকাছি অংক একজন কৃষক এক সিজনে প্রতি বিঘায় শুধু লসই করে! হিসাবটা ক্লিয়ার করি আরেকটু, একটা মাঝারি ফুটবল মাঠের সমান জায়গায় ধান আবাদ করলে প্রায় ৩৮০০০ টাকা লস। অনেক গ্র্যাজুয়েট মধ্য বিত্ত চাকুরের বেতনও এত না। হিসাবটা ক্লিয়ার নিশ্চই। প্রতিবছরই দেশের বিভিন্ন জেলার এসব নিয়ে খবর বের হয়, আমরা অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ খবরের ভীড়ে এসবকে পাশ কাটিয়ে যাই, চোখে পরেনা।

ধান বাদে অন্যান্য ক্ষেত্রে লাভের অংকটা অল্প কিছুটা বেশি হলেও অন্যান্য পেশার তুলনায় কিছুই না, ঝুঁকিও কমনা। আর স্ট্যাটাসের দিক দিয়ে মাশাল্লাহ সবার নিচে! আজকাল এসব কারণেই মানুষ কৃষি সেক্টরটা থেকে সরে আসছে। পৃথিবীর উন্নত প্রায় সব দেশই খাদ্যে স্বনির্ভর। যারাও বা আমদানী করে তাদের রপ্তানী করার মতন অনেক অনেক কিছু আছে এবং তাদের অর্থনীতি অনেক বেশিই শক্তিশালী। কারণ তাদের পকেটে টাকা আছে। আমাদের মতন ছোট আয়তনে বিশাল জনসংখ্যার মধ্যেও হাজারও সমস্যা সম্পন্ন ভঙ্গুর অর্থনীতি না।

এই দেশে জন্মাইসি, ডিনাই করার তো উপায় নাই। আমাদের ভাত ছাড়া দিন চলেনা। দেশেই উৎপাদন করা লাগবে কারণ রাতারাতি ওইসব দেশের মতন পকেটে টাকা চলে আসবেনা আমাদের। আবার এই খাবার ল্যাবে তৈরি করা যাবেনা, দিন রাত কোডিং করে সফটওয়্যার বানিয়ে তৈরি করা যাবেনা, দর্শনের বিভিন্ন থিওরি দিয়ে তৈরি করা যাবেনা, মংগোলিয়ান সভ্যতার উত্থানের ইতিহাস জেনে তৈরি করা যাবেনা, মাঠে গিয়ে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই আউট অফ নোহোয়্যার কঠিন মাটির বুক চিড়ে খাবার নিয়ে আসতে হবে।

We, the agriculturalists are not feeding the nation, engineers are not feeding the nation, economists are not feeding the nation, bankers are not feeding the nation, corporate or government officers are not feeding the nation. It’s those classless bloody farmers, who are feeding the whole nation. We are just manipulating or developing other sectors. We are leading the nation obviously, but we could never do that staying hungry. Philosophers and artists work daylong to think about hungry souls, but there’s none to think about hungry body because some uneducated uncultured people having poor soul (don’t let us to think about it) have to work for it for all of us for the sake of surviving with family having very little demands in life.

তাদের এই অবস্থায় রেখে আমাদের কিসের এত অহংকার। কিসের এত স্পর্ধা?


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ