,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

প্রসঙ্গ বিহার ও ভাষা রাজনীতি ।। অতনু সিংহ

লাইক এবং শেয়ার করুন

বিহারের কথা ভাবুন। নবাব আমলে বাংলা বিহার উড়িষ্যা একটাই দেশ! কিন্তু প্রদেশ আলাদা! বিহার কিন্তু মূলত হিন্দিখণ্ড নয়, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর থেকেই উপমহাদেশের পূর্ব প্রান্তের যেসব জায়গা তা নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিকভাবে হিন্দিভারতের অংশ নয়! বিহারের ব্রজবুলি, মৈথিলি,মাগধী ইত্যাদি ভাষাগুলিই তো জাতিচিহ্নের মূল! এছাড়াও ভোজপুরি, এছাড়াও প্রাকৃত ভাষা সমষ্টি! এই ভাষাগুলিই ভূমির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, ভূমির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেখানাকার মানুষের সাংস্কৃতিক ইতিহাস! এই ভাষাগুলির মধ্যে অনেকগুলি ভাষা বাংলা ভাষার জন্মবীজ! এইসমস্ত ভাষায় সেখানকার নানা মানুষ আজও কথা বলেন! কথা অবশ্যই বলেন অনেকে লৌকিক বা আঞ্চলিক স্তরে, কিন্তু অনেক ভাষার লিপি বিলুপ্ত! এই বিলুপ্তির কারণ অনুধাবন করেন।

ঔপনিবেশিক আমল থেকেই হিন্দি-হিন্দু ভারতের কলোনিয়াল কনসেপ্ট আর উর্দু-ইসলাম অপর ভারতের আরেক কলোনিয়াল কনসেপ্ট একত্রিত হয়ে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের যে নিউক্লিয়াস তৈরি করেছিল। কেন্দ্রকের সেই আগ্রাসনবাদ গ্রাস করতে চেয়েছে উপমহাদেশের কৃষিনির্ভর ও অনার্য চেতনাবাহী পূর্বাঞ্চলকে গ্রাস!

পূবের বহু স্বতন্ত্র জাতিসত্তাকে গ্রাস করে ভারতীয় জাতীয়তবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিল, এই চাওয়ার কারণ উপনিবেশ অনুগত একমাত্রিক ব্যবস্থা নির্মাণ, এক সূত্রে বেঁধে সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের তাঁবেদার উপমহাদেশীয় জাতীয়তাবাদীদের ক্ষমতার ভাগবাঁটোয়ার একচ্ছত্রবাদ নির্মাণ!

দুখের বিষয় এই জাতীয়তাবাদী ও আগ্রাসনবাদী প্রজেক্টের সামনে বিহারের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ দুটি ধর্ম ও উপনিবেশবাদের ছলছাতুরিতে দীর্ঘস্থায়ী হয় নাই! তাই বহু সাংস্কৃতিক জাতিসত্ত্বার বিহার হিন্দিবাদ ও উর্দুবাদে মিশে গ্যাছে! তাই ৪৭ পরবর্তী সময়ে বিহার হিন্দিভারত ও মুসলমান ভারতের প্রজেক্ট্র নিজেকে আত্মসমর্পণ করিয়েছে! মুসলমান ভারতের বিহার উর্দুবাদে হয় পাকিস্তান হয়েছে নয়তো হিন্দিবাদের অপর ভার্সান হয়ে আপন ভুখণ্ডেই নিজের সাংস্কৃতিক আইডিয়া বিস্মৃত হয়ে দিনগুজরান করেছে!

যে বিহার নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বাংলার আত্মীয়, সেই বিহারই উর্দুবাদের ফাঁদে পড়ে করাচি-ইসলামাবাদের পাক এলিট ভুস্বামীদের ক্রীড়নক হয়ে পূব পাকিস্তানের জনযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে সহিংস্রভাবেই। সকলে নয়, অনেকে! আর হিন্দিভারতের অংশ হয়ে যে বিহার বিভক্ত ভারতে থেকে গেছে, সেই বিহার নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিগুলিকে লোকাচারে রাখলেও কেন্দ্রীয়ভাবে তারা হিন্দির পার্ট বিস্মৃতির কারণে! যে হিন্দিভারতকে বিহারে চ্যাম্পিয়ন করেছে জমিদার শ্রেণী, রনবীর সেনা! শ্রেনী সংগ্রামে যারা সংখ্যাগুরু শ্রমিক কৃষক শ্রেণীর ও সাংস্কৃতিকভাবে দলিত-সংখ্যালঘুর শ্রেণীশত্রু!

আর তাই বিহারে বারবার শ্রেণী সংগ্রাম তীব্র আকার ধার‍ণ করলেও কালচারাল কোয়েশ্চেনে প্রশ্নহীনতা ও বিস্মৃতির দায়ে সেই সংগ্রাম ব্যর্থ হয়েছে! বিহার একটা উদাহরণ মাত্র। ইকোনমি ও কালচার, ক্লাস-কাস্ট-ল্যাংগুয়েজ-রিচ্যুয়াল-জেন্ডার-ইকোলজি মিলে মিশে থাকে, শ্রেনী রাজনীতি করতে গিয়ে কেবল শ্রেণীকে গুরুত্ব দিলে ব্যর্থতা ও বিপন্নতা অনিবার্য! সবটুকুই বিবেচনায় আনতে হয়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ