,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের খোঁজে

লাইক এবং শেয়ার করুন

(জনাব রহমানের সুবর্ণ জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষেরক্ত ব্যক্তিত্বের উত্তরাধিকারশিরোনামায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী তরুণদের উদ্দগ্যে প্রকাশিত বিশেষ পুস্তিকায় স্থান পেয়েছিল)

কোন কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার মধ্যে যতটা না সফলতা নির্ভর করে, তার চেয়ে অধিকতর সাফল্য লুকিয়ে থাকে কর্মশুরু করার সুচিন্তা সাহসিকতার মাঝে। বস্তুগত বাস্তবতা,ভাবগত সদিচ্ছা,বৌদ্ধিক জ্ঞান প্রজ্ঞার অপূর্ব সমন্বয়ই সুকর্মের সূচনা সঙ্গীত। রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি,সামাজিক প্রথা,পারিবারিক শিক্ষা ব্যক্তিগত সুচিন্তা কোন রাষ্ট্রনায়কের চেতনার আধার। আর চৈনিক চিন্তাগুরু কনফূসিয়াসের উত্তরসূরী রাষ্ট্রনায়ক মাও জে দং এর ভাষায়-“পরিস্থিতি চেতনাকে পরিচালিত করে,চেতনা পরিস্থিতিকে পরিচালিত করে না ঠিক কি রাজনৈতিক দার্শনিক চেতনায় রাষ্ট্র গঠণের স্বপ্ন তারেক রহমান দেখেন,তা অনুভব করার খুব একটা সুযোগ আমার হয়নি। তবে এতদসংক্রান্ত পাঠকের স্মরণে রাখা দরকার যে,জন স্টুয়ার্ড মিল তাঁর সুযোগ্য পিতা জেমস্ মিল দ্বারা এতই প্রভাবিত ছিলেন যে,পিতার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাঁর চিন্তাজগতের পরিধি বিস্তৃত করতে পারেন নি,শুধুমাত্র বৌদ্ধিক জ্ঞানের সীমারেখায় নিজেকে বন্দী রেখেছিলেন। অনুরুপে পিতা যদি রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান হন,তবে পুত্রের রাষ্ট্রচিন্তার জগতটাও ক্ষীণ হয়ে আসে বা প্রায় উবে যায়। তবে পিতার স্কন্ধে বসা বালকের দৃষ্টি পিতার চেয়েও সুদূরে প্রসারিত হয়,সেটা ভুলে যাওয়া সমীচীন হবে না। আর পুত্রের নিকট পিতার পরাজয় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম গৌরব। প্রায় পনের বছর পূর্বে জনাব তারেক রহমানের বয়স বিবেচনা এবং তিনি যে কখনই তাঁর দলীয় সরকারের অংশীদার ছিলেন না,এতটুকু সুক্ষতা এই লেখকের মননে নিশ্চয়ই জ্ঞাত। তারেক রহমানের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ বা বস্তুগত কর্মপরিধির উপর ভিত্তি করে তাঁর অনুমিত রাষ্ট্রদর্শণ তুলে ধরবার দুঃসাহসিক প্রয়াস। ব্যক্তি বা বস্তুর ছায়া দেখে তার ছবি আঁকা, অর্থাৎকার্মিকতা থেকে ভাবের দ্যোতনা লিপিকরণ যেন খন্জের পাহার অতিক্রমের বাসনার শামিল। বলতে অনুমাত্র দ্বিধা নেই যে, বিষয়ে আমার জ্ঞান নিতান্তই তোলা জলের মত। জলে বড়জোর পান কার্য সম্ভব হলেও সাঁতার তো দূরের কথা,স্নান কার্য সম্পন্ন করাও প্রায় অসম্ভব!! আর কোন বিষয়ে সাঁতরানো না গেলে,সে বিষয়ে মসি চালনা পাঠকের বুকে অসি চালনারই শামিল। উপরন্তু কর্মের বিশালতায় ভুলের পরিধিও অন্তহীন হয়। সুহৃদ পাঠকদের নিকট ক্ষমা চাই,বিনিময় মূল্য আমার সাহসিক প্রচেষ্টাটুকু

ইতালীর ফ্লোরেন্সে জন্ম নেয়া নবজাগরণ,লুথার কেলভিনের সংস্কার আন্দোলনের ভিত্তি রচনা করেছিল। আর কেলভিনপন্থী ফরাসী হিউগেন্টসদের ত্বরান্বিত সংস্কার আন্দোলনের বিচ্ছুরিত আলো ঠিকরে পড়েছিল অ্যানাব্যপ্টিষ্টদের মাঝে। পরবর্তীতে প্রেসবিটারিয়ান,ইনডিপেনডেন্ট লেভলারের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে পিউরিটান আন্দোলনের সফল পরিসমাপ্তি ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়ার শান্তিচাক্তির মাধ্যমে। জন্ম নেয় প্রোটেষ্ট্যান্ট ক্যাথলিক দ্বিবিভাজিত জাতিরাষ্ট্র। আর ১৬৮৮ সালে এক রক্তপাতহীন গৌরবময় বিপ্লবে ইংল্যান্ডে গণতন্ত্রের স্থায়ী সুবাতাস, উপরোক্ত সামগ্রিক আন্দোলনেরই প্রত্যক্ষ ফসল। রায়চাঁদ থেকে ঈশা খাঁ,ঈশা খাঁ থেকে সিরাজদ্দৌলা,সিরাজতিতুমীরসূর্যসেনশেরেবাংলা থেকে শহীদ জিয়ার হাত ধরে বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমান জাতীয়তাবাদের মূর্ত প্রতীক,তবে পরিস্থিতিজনিত চেতনার দার্শণিক কার্মিক পার্থক্য সুবিদিত। প্রায় প্রতিটি সফল বিপ্লবই তার স্ব স্ব নেতাদের খেয়ে ফেলে। কিন্তু বিপ্লব জিইয়ে রেখে তার সুফলতা দেশ জাতির দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয়ার মহান দায়িত্ব তাঁর উত্তরসূরীদের উপর বর্তায়। মার্কস লেনিনের উত্তরসূরী স্তালিন রাশিয়াতে এবং মাও চীনে যেমন দায়িত্ব পালন করেছিলেন,ঠিক তেমন একটা দায়িত্বই জনাব তারেক রহমান তাঁর পিতার উত্তরসূরী হিসাবে পেয়েছেন,তবে তার নবাঙ্গিক নবধারা নিশ্চয়ই আছে

“Government of single will”-অর্থাৎ সরকার জাতি এক মনএক প্রাণ হয়ে কাজ করার উপর তারেক রহমান জোড় দিয়েছিলেন। কার্মিক জাতি গড়ে তোলার বাসনায় তাঁর মুখ নিঃসৃত অমিয় বাণী-“একটি উদ্যোগ,একটু চেষ্টা,এনে দেবে স্বচ্ছলতা,দেশে আসবে স্বনির্ভরতা কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে কায়িক শ্রমের গুরুত্ব মর্যাদা অনুভব করে নিজেকেরাষ্ট্রের প্রধান ভৃত্যহিসেবে দেখেছিলেন,কখনোইপ্রজাপতি শাসকহিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন নি। তাইতো দীর্ঘ মাসের একটানা প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাংগঠনিক সফরে তাঁর গৌড় বর্নের রুপ দেখে কন্যা জাইমা রহমানের আদর মাখানো উক্তি-“You are going to be a blakish”. পুরো জাতিকে এক সূতোয় গাঁথার জন্য তিনি বিপরীতমূখী শক্তির সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করেছিলেন,যা ছিল তাঁর উদারনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার বহিঃপ্রকাশ। স্ত্রী,কন্যা সমবিভাহ্যারে মঙ্গল দ্বীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উদ্বোধনই শহীদ জিয়ার প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দর্শণ,অর্থাতসকল ধর্মের বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের এক বক্তৃতায় তরুণ শিল্পীদের তিনি দুর্ভিক্ষ,খরা,মহামারী প্রাকৃতিক দূর্যোগের ছবি না এঁকে দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন,বড় বড় আধুনিক স্থাপনা এবং অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর ছবি আঁকতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এতে তিনি কতটা পর্যটন শিল্পের শ্রীবৃদ্ধি আর কতটা অ্যাডাম স্মিথের “Laizzee Faire” বা অবাধ বানিজ্য নীতির বিদেশী বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা ভেবেছিলেন তা বুঝবার জ্যের্তিতাত্ত্বিক অন্তপঠণের কলাবিদ্যা আমার জানা নেই। তিনি একবার বলেছিলেন-“আমি বিদেশে যাই তাদের ভাল কিছু দিক নিতে আর শিখতে”,যেমনটা গ্রীসের নগর রাষ্ট্রগুলো রোমানরা জয় করার পর রোমান তরুণদের অহরহ এথেন্সমূখী হতে দেখা যেত শিক্ষা,সংস্কৃতি আর সভ্যতা রপ্ত করার লক্ষ্যে

প্রবীণের যুক্তি নবীণের কল্পনার যুগপৎ মিশ্রণ তৃণমূল কর্মীসভাগুলোর প্রাণচান্ঞ্চল্য ছিল চোখে পরার মত। প্রত্যক্ষ ভোটে সকল পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের বগুড়া মডেল ছিল পুরো দেশের নেতৃত্ব নির্বাচনের টেষ্ট কেইস। ছাত্র রাজনীতি থেকে অস্ত্র তুলে দিয়ে,মেধার আলোয় বিকশিত করার প্রত্যয় দীপ্ত অঙ্গিকার ছিল তাঁর হিতবাদী রাষ্ট্রচিন্তার প্রত্যক্ষ নজির। নাফ নদীর অববাহিকায় দিগন্তবিস্তৃত সুবিশাল জলরাশি তার খনিজ সম্পদের অফুরন্ত সম্ভাবনা ছাত্রদের প্রত্যক্ষ করিয়ে,পাছে সাগরের মত হৃদয়িক বিশালতা অর্জনের শিক্ষা শিষ্যদের দিতেও তিনি ভুলে যান নি। মাছ বা মাংশ,শাকশব্জি ডাল দিয়ে নিয়মিত আহার কার্য সম্পন্নকরণ তাঁর বাবার আদর্শের প্রতিধ্বনিত অনুসরণ,যেমনটা বসনেও পরিলক্ষিত হত। সভাসনে ময়ূর সিংহাসন পরিত্যাগ করে সম মানের বেশ কয়েকটি চেয়ারের একটিতে উপবেশন তাঁর রাষ্ট্রীয় সাম্যবাদী চিন্তার দিকরশ্মি। তবে মেধা,যোগ্যতা শ্রমের যথাযথ মূল্যায়নে উপযুক্ত পদায়ন করে আনুপাতিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ প্রভাব তাঁর নেতৃত্ত্ব প্রদানের অন্যতম দিক। মঞ্চের গতানুগতিক ব্যক্তিবাচক আলংকারিক শব্দবিন্যাস প্রশংসাসূচক অতিশয়োক্তি তাঁকে ভীষণভাবে বিব্রত করে। বাক্যালাপে পরিমিতবোধের তীব্র প্রখরতা লক্ষ্য করেছি কক্সবাজার তৃণমূল প্রতিনিধি সভা শেষে রাতের ভোজাসনে,তবে তাই বলে সহযোদ্ধাদের আহার কার্যের খোঁজখবর নিতে তিনি মোটেই ভুলে যান নি। স্বল্প পরিসরে,ব্যক্তিগত সফরে প্রাকৃতিক সুশোভিত কোন স্থানে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে পরিমিত আনন্দায়োজন তাঁর সুকুমার প্রবৃত্তির নান্দনিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। সেটাই হয়তো দর্শণগুরু কান্টের ভাষায় “Purposiveness without a purpose”-অর্থাৎঅপ্রয়োজনের প্রয়োজন

তিনি হুগো গ্রুসিয়াসের রাষ্ট্রতত্ত্ব বা অধ্যাপক মর্গেনথাউয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে ঠিক কতটুকু বৌদ্বিক জ্ঞান আহরন করেছেন সে সম্পর্কে জানার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবে “Foreign policy begins from the frontier”-এতটুকু প্রজ্ঞার আলোয় তিনি উদ্ভাসিত ছিলেন। তিনি তাঁর অপরিসীম জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমের মূল্য দিয়েছেন অমানবিক শারিরীক নির্যাতিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আরেকটি জন্মদিন আমাদের ব্যথিত করে। এই নিয়ে অপশক্তির পাগলের সদাই আনন্দের প্রতিউত্তরে বলতে চাইআকাশে যখন বিদুৎ চমকায়,তখন স্বয়ং চন্দ্র নারায়ণ ক্ষণকালের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। এতে চন্দ্রের প্রকৃত মাহাত্ম্য মর্যাদা অনুমাত্র ক্ষুন্ন হয় না। মরুভূমি যতই তার সীমানা বৃদ্ধি করুক,বনভূমি যতই বৃক্ষরাজিতে ঢেকে যাক,আর নদী যত প্রবল বেগেই প্রবাহিত হোক না কেন,সমুদ্র তটে এসে সবাইকে থমকে যেতে হয়। তাই যতই দেশীবিদেশী ষড়যন্ত্র হোক না কেন,শেখ হাসিনা তাঁর সহচররা যতই বৃথা আস্ফালন করুক না কেন,তারেক রহমানের আলোয় অতীতের মত আবারও তারা ঝলসে যেতে বাধ্য। পরিশেষে ভিক্টোরিও যুগের কবি টেনিসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে চাই-“An Infant crying in the night; An Infant crying for the light; An with on language but a cry” অর্থাৎএকটি শিশু অন্ধকারে বসে কাঁদছে,একটি শিশু আলোর জন্য কাঁদছে,কান্না ছাড়া যেন তার মুখে কোন ভাষা নেই শিশুটির নামবাংলাদেশআর আলোটির নামতারেক রহমান

জন্মদিনে শুভাশিস রইল। আপনি দীর্ঘায়ু হউন

মোঃ আবুল হাছান
যুগ্মসম্পাদক,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ