,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার থাবায় জিয়া ও বি,এন,পি’র রাজনীতি ক্ষত-বিক্ষত

লাইক এবং শেয়ার করুন

জাহিদ হাসান, রিয়াদ, সউদী আরব # আওয়ামী লীগ দাবী করে তারা দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গনতান্ত্রিক দল। গনতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে অর্থাৎ যে দেশে সত্যিকার অর্থে গনতন্ত্র আছে সেখানে শক্তিশালী বিরোধী দল ( সংসদে ও রাজপথে ) অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ গনতন্ত্রের এই মূল নীতি, বৈশিষ্ট্য বা আদর্শে কখনও বিশ্বাসী ছিলনা এবং এখনও নাই। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৫ সময়কালীন শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান চেতনা গনতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে একদলীয় অভিনব বাকশাল তথা স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারী ক্ষমতায় থেকেই গায়ের জোরে নিজ দলীয় সরকারের অধীনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, একতরফা ও ভোটার বিহীন এক অদ্ভূত নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের প্রায় ৩০০ আসনেই “জয়ী” হয়ে এখন নিরংকুশ সংখ্যাগড়িষ্ঠতার জোরে দলীয় তথা স্বীয় স্বার্থে সংসদে যা ইচ্ছা তাই অনুমোদন বা পাশ করিয়ে নিচ্ছে।

১৯৭২-৭৫ এর মন-মানষিকতাকে ধারন করে আওয়ামী লীগ আবারও দেশে বিরোধীদল বিহীন একদলীয় ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বি,এন,পিই হলো দেশে এখন আওয়ামী লীগের একমাত্র রাজনৈতিক তথা ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তি, এরশাদের জাতীয় পার্টিকেত আওয়ামী লীগ এখন তাদের গৃহপালিত পোষা বিরোধীদল হিসেবে কব্জা করে নিয়েছে। সুতরাং বি,এন,পিকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চীরতরে নি:শেষ করে দিতে পারলে আওয়ামী লীগের আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বি বা প্রতিপক্ষ থাকবেনা। এই অগনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ এখন বি,এন,পি’র বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিহিংসামূলক আক্রমন শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগ ও তার সমর্থকরা সবসময়েই সমালোচনা বা কটাক্ক করে বলে যে বি,এন,পি’র জন্ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে। সময়ের প্রয়োজনে বা ঐতিহাসিক ঘটনা পরম্পরায় বি,এন,পি’র জন্ম ক্যান্টনমেন্ট নয়-সামরিক ব্যক্তিত্ব জিয়ার হাত দিয়ে হয়ে থাকলেও একথা আজ অনস্বীকার্য যে বি,এন,পি’র বয়স এখন ৩৮ বছর হয়ে গেছে, বি,এন,পি এখন একটা গনমানুষের সমর্থনপুষ্ট গনতান্ত্রিক দলে পরিনত হয়েছে, দেশে এখন বি,এন,পি’র ৩৫-৪০ শতাংশ নির্দিষ্ট ভোটার রয়েছে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী গনআন্দোলনের পর তথাকথিত প্রাচীন ও বৃহত্তম গনতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগ ১৯৯১ এর নির্বাচনে বি,এন,পি’র কাছেই পরাজিত হয়েছিল, জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েই বি,এন,পি তখন ক্ষমতায় গিয়েছিল – “ক্যান্টনমেন্টে” জন্ম হয়েছিল বলে এই দাপটে বা তৃতীয় কোন শক্তির উপর নির্ভর করে নয়।

১৯৯৬ সালে বি,এন,পি সরকারের অধীনে নির্বাচন করবেনা বলে আওয়ামী লীগ জামায়াতে ইসলামের সাথে যুগপদ ( একসাথে) আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী আদায় করে এবং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে, বি,এন,পিও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা লাভ করে। এরপর ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে বি,এন,পি আবারও জয়লাভ করে। আওয়ামী লীগ তখন সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয়। ২০০৭ সালের নির্বাচনের আগে বি,এন,পি পুনরায় ক্ষমতায় আসার উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার কারণে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসে, তাদের অধীনে ২০০৯ সালে অুনষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে, জেনারেল মইনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২ বছরের মেয়াদকালে চরম নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করে বিপর্যস্ত অবস্থায় নির্বাচন করে কম আসনে জয়লাভ করেও বি,এন,পি সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবেই থাকে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬-২০০৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও বি,এন,পিই পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে, তাই দেশের মানুষের ধারনা এবং আওয়ামী লীগের আশংকা এই ধারাবাহিকতায় (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ) ২০১৪ সালের নির্বাচনে হয়ত বি,এন,পিই আবার ক্ষমতায় আসতে পারে। আর ঠিক এখান থেকেই শুরু হয় আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। বি,এন,পি যাতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবার নির্বাচিত হয়ে আসতে না পারে সেজন্য ক্ষমতায় থেকেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগ হাই কোর্টকে প্রভাবিত করে ( যা সবার কাছে পরিস্কার ) সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার রায় বাগিয়ে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীনেই  নির্বাচন করার আইণ সংসদে পাশ করিয়ে নেয়।

এর বিরুদ্ধে বি,এন,পি জোট ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জন করে এবং অতীতের মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে ও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন প্রতিহত করার জন্য দেশব্যাপী মারাত্মক ও হিংসাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যায়, ফলে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অপরদিকে বি,এন,পি জোটের আন্দোলন দমানোর এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রীয় সকল সশস্ত্র শক্তি, দলীয় সশস্ত্র ক্যাডার, অনুগত নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন দিয়ে গায়ের জোরে যেভাবেই হউক ৫ই জানুয়ারী নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করে, এতেও প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জসহ সারা দেশে শত শত মানুষ নিহত হয়। যে কারণে ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচন ভোটারহীন, প্রার্থীহীন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন একটা প্রহসনের নির্বচনে পরিনত হয়। সাধারন জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হবে – ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনে সংবিধানের এই শর্ত পূরন না হওয়া সত্তেও আওয়ামী লীগ আজ ৩ বছর পর্যন্ত গায়ের জোরে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।

নির্বাচনের আগে আন্দোলন করে বি,এন,পি জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী আদায় করতে এবং এখনও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারায় আওয়ামী লীগের লোকজন বি,এন,পিকে ঠাট্টা করে বা কটাক্ক করে বলে “বি,এন,পি’র আন্দোলন করার ক্ষমতা বা মুরদ নাই, আন্দোলন করতে হলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে”, ইত্যাদি। বরং ২০১৪ সালের নির্বাচনোত্তর ও ২০১৫ সালের জানুয়ারীর আন্দোলনের কারণে জালাও-পোড়াও এর জন্য আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী জোট বিশেষ করে বি,এন,পি’র শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার স্থানীয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করেছে, বিগত ২ বছর যাবত বি,এন,পি’র নেতা-কর্মীরা মামলায় হাজিরা দিতে দিতে ও জামিন না হওয়া পর্যন্ত জেলে থাকতে থাকতে অসুস্থ ও দিশেহারা হয়ে গেছে, স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মামলার ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বি,এন,পিকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার এখন মামলাকেই মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্র“য়ারী বি,এন,পিও সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন করেছিল, আওয়ামী লীগ তখন বি,এন,পি সরকারের অধীনে ( মাগুড়া উপ-নির্বাচনের অযুহাতে ) ঐ নির্বাচনে অংশ নেয় নাই, বরং বি,এন,পিকে ক্ষমতাচ্যুত করা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী আদায়ের জন্য জামায়াতে ইসলামকে সাথে নিয়ে রাজপথে তুমুল আন্দোলন শুরু করেছিল, তখনই বাংলাদেশে প্রথম বাসে গান-পাউডার দিয়ে আগুন লাগিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। বি,এন,পি তখন রাষ্ট্রীয় সকল সশস্ত্র শক্তি ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারকে ব্যবহার করে গায়ের জোরে যেভাবেই হউক ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেনি এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধেও গনহারে মামলা দেয় নাই। বরং সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিল পাশ করে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিল। আর যদি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মত বি,এন,পি সে সময় ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করত তবে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের কি ভয়ানক ও সন্ত্রাসী রূপ তা দেশবাসীকে প্রত্যক্ষ ও সহ্য করতে হত ( কারণ আওয়ামী লীগইতো বলে বি,এন,পি’র আন্দোলন করার ক্ষমতা বা মুরদ নাই, আন্দোলন করতে হলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে হবে )।

তাছাড়া ভবিষ্যতে যদি কোন সময় বি,এন,পি ক্ষমতায় থাকে আওয়ামী লীগ কি তখন বি,এন,পি’র দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে ? যদি তখন আওয়ামী লীগ বি,এন,পি’র অধীনে নির্বাচন করতে না চায় তখনও দেশের মানুষ দেখতে ও বুঝতে পারবে আওয়ামী লীগ ও এর আন্দোলনের কি ভয়ানক ও বিধ্বংশী রূপ। তবে বি,এন,পি যাতে আর কোনদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার পরিবর্তে কথিত গনতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন মামলা, হামলা ও অপকৌশলে বি,এন,পি’র অস্তিত্বই নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে – যাতে বাংলাদেশে তাদের আর ক্ষমতার প্রতিপক্ষ না থাকে। বি,এন,পিকে দেশের মানুষের কাছে অজনপ্রিয় ও অপাংক্তেও করে তোলার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ দলের সকল নেতা-নেত্রী ও আওয়ামী ঘরানার কথিত সুশিল সম্প্রদায়ের লোকজন এখন বি, এন,পি’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জিয়াউর রহমানকে শেখ মুজিবের খুনি, খুনিদের পৃষ্ঠপোষক, মুজিব হত্যার বিচার না করার ইনমেনিটি বিল পাশ, মুক্তিযোদ্ধা নয় – পাকিস্তানের চর, রাজাকারদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের নায়ক, ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত করে দিন-রাত অব্যাহতভাবে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও মিথ্যা প্রচারনা ইতিহাস ও সত্যকে কখনও মুছে ফেলতে পারবেনা।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থনে সশস্ত্রবাহিনীর একদল তরুন সেনা অফিসার, জেনারেল জিয়া ঐ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন  বর্তমান আওয়ামী গোষ্টির মিথ্যা প্রচারনা ছাড়া তার কোন প্রমান নাই, জিয়া ছিলেন তখন উপ-সেনাপ্রধান, তার উপরে সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ। একদল সেনা অফিসার উপ-সেনাপ্রধানের সমর্থন বা সহযোগিতায়  এমন একটা ঝুকিপূর্ন ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে সেনাপ্রধান তা জানতে পারবেনা-এটা কি বিশ্বাসযোগ্য ? তাছাড়া জেনারেল শফিউল্লাহ বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতা হয়েও কখনও বলেননি জিয়া ১৫ই আগষ্টের ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। প্রমান হিসেবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে বলা হয় অভ্যূত্থানকারী সেনা অফিসারদের মধ্যে ২ জন কর্নেল ফারুক ও কর্নেল রশিদ তাদের সাক্ষাৎকারে বলেছে তারা একবার জিয়ার কাছে গিয়ে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল, জিয়া নাকি বলেছিল সে একজন সিনিয়ার অফিসার, সে এসবের মধ্যে জড়াতে চায়না, তাদেরকে নাকি বলেছিল তোমরা করতে চাইলে তোমরা এগিয়ে যাও।

এমন কথপোকথনের কি কোন সাক্ষী আছে ?  তাছাড়া কর্নেল ফারুক ও রশিদ জিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় এমন কথা কোথাও বলে নাই। তদুপরি কর্নেল ফারুক ও রশিদসহ যারা শেখ মুজিব হত্যার সাথে জড়িত ছিল ১৫ই আগষ্ট থেকে ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত সেনাবাহিনীর শৃংখলা বহির্ভূত কর্মকান্ডে জড়িত থাকার কারণে জেনারেল জিয়া তাদের উপর ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাদেরকে শৃংখলায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। তখন থেকেই তারা জিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হতে থাকে। ১৫ই আগষ্ট থেকে ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত সরকার প্রধান ছিল আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমেদ, এ সময় জেনারেল জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা বা নীতি-নির্দ্ধারনী কর্মকান্ডে কোন ভূমিকাই ছিলনা। অবিশ্বাস্য হলেও চরম সত্য এই যে, শেখ মুজিবের ১৯৭৩ সালের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ২৩৪ জনই ছিল খন্দকার মোশতাক সরকারের সংসদ সদস্য, তারা কেউ পদত্যাগ করেনি, তারাই মোশতাক সরকারের সংসদে বসে ১৩ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব হত্যার বিচার করা যাবেনা বলে বিল পাশ করে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২-৭৫ সময়ে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে ১৫ই আগষ্টের ঘটনাটিকে একটা রাজনৈতিক-সামরিক বিপ্লব বা অভ্যূত্থান বলা যায়, যার মাধ্যমে ক্ষমতা বা সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, এটা শুধু ১৫ই আগষ্ট রাতের অন্ধকারে নেহায়েত একটা খুনের ঘটনা ছিলনা যে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল তারা দেশের অন্যান্য খুনের ঘটনার মত শেখ মুজিবকে খুন করার অপরাধে খুনিদের বিচার করবে। যারা অভ্যূত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করে তারা কি নিজেরা নিজেদের বিচার করে বা ভবিষ্যতে বিচার করার পথ খোলা রাখে ? যে কারণে তারা সংসদে বসে ১৩ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব হত্যার বিচার করা যাবেনা বলে বিল পাশ করেছিল। তখন জেনারেল জিয়ার এ ব্যাপারে কোন ভূমিকাই ছিলনা।

পরবর্তিতে ৭ই নভেম্বরের পর জিয়া বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের পর বাস্তবতার প্রয়োজনে ক্ষমতায় এসে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আওয়ামী লীগের এম,পিদের সংসদে পাশ করা সেই বিলকেই ইনডেমনিটি আকারে সংবিধানে সংযুক্ত করে। জিয়া ও তার দল বি,এন,পি তখন মাত্র সাড়ে তিন বছর ক্ষমতায় ছিল, এরপর দীর্ঘ নয় বছর পর্যন্ত জেনারেল এরশাদ রাজনৈতিক দল গঠন করে ক্ষমতায় ছিল, সেও এই ইনডেমনিটি সংবিধানে বহাল রাখে, আওয়ামী লীগ তখন কেন এরশাদকে বাধ্য করতে পারেনি এটা বাতিল করতে ? বরং শেখ হাসিনা এখন এরশাদকে কোলে বসিয়ে তার বিশেষ দূত বানিয়ে রেখেছে এবং তার দল জাতীয় পার্টিকে সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে সাজিয়ে রেখে হাসিনা-মার্কা সংসদীয় গনতন্ত্রের চর্চা করছে। যত দোষ জিয়ার, কারণ জিয়ার দল বি,এন,পিই এখন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। জিয়াকে যত নীচে নামানো যাবে বি,এন,পি’র তত ক্ষতি হবে, এই হলো আওয়ামী লীগের হিসাব-নিকাশ।

ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশর্রফ ৩রা নভেম্বর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের নিয়ন্ত্রন নিয়ে জিয়াকে বন্দি করে সে নিজেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেয়, তখন তাকে দেশের মানুষ ভেবেছিল সে আওয়ামী লীগের সমর্থক হতে পারে, ঢাকায় ৪ঠা নভেম্বর ৩রা নভেম্বরের সমর্থনে একটা মিছিল বের হয়েছিল, কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ঐ মিছিলেও আজকের মুজিব-প্রেমীদের বা আওয়ামী লীগের শীর্ষ কোন নেতাকে অংশ নিতে দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো তখন খালেদ মোশার্রফ সেনাপ্রধান জিয়াকে বন্দি করল কিন্তু শেখ মুজিব হত্যার সাথে জড়িত সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নাই, বরং সে তাদেরকে নিরাপদে দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, কেন সে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নাই বা নিতে পারে নাই এবং কেন সে তাদেরকে নিরাপদে দেশ ত্যাগে সহায়তা করেছিল এ ব্যাপারে আওয়ামী মহলের কোন উচ্চ-বাচ্য নাই। তারা শুধু অভিযোগ করে জিয়া তাদেরকে পুনর্বাসিত করেছিল, অথচ বর্তমান আওয়ামী লীগের ভাষায় খুনিদের দেশ ত্যাগে সহায়তা করে সবচেয়ে প্রধান ও সর্বপ্রথম পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল খালেদ মোশার্রফ – জেনারেল জিয়া নয়।

৭ই নভেম্বরের পর কর্নেল ফারুক-রশিদরা বহুবার দশে ফিরতে চেয়েছিল, কিন্তু আবারও দেশে ফিরে তারা সেনাবাহিনীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারে বলে জিয়া তাদেরকে দেশে ফিরতে দেয় নাই, কর্নেল ফারুক একবার গোপনে দেশে ফিরে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে খুটি গেড়ে বসেছিল, জিয়া তাকে ধরে এনে ৫ বছরের জেল দিয়েছিল, এরপর বি,এন,পি তার জেল খাটা শেষ হলে জেল গেট থেকে ধরে সোজা বিমানবন্দরে নিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়। যে কারণে কর্নেল ফারুক-রশিদরা জিয়ার উপর ক্ষুব্ধ এবং মুজিব হত্যায় জিয়াকে পরোক্ষভাবে দায়ী করতে চেয়েছিল। নিরাপদে দেশ ত্যাগ করে অধিকাংশ সেনা অফিসার লিবিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিল, বাকী কয়েকজন যাতে দেশে ফেরত আসতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখনকার বাস্তবতায় এটাই ছিল স্বাভাবিক, কারণ তারা ছিল আওয়ামী লীগেরই সক্রিয় সমর্থনপুষ্ট সেনা অফিসার যারা ১৫ই আগষ্টের ঘটনা ঘটিয়েছিল।

এজন্য যদি জেনারেল জিয়াকে পৃষ্ঠপোষক বা আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা বলা হয় তবে শেখ হাসিনা তথা বর্তমান অনির্বাচিত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ট সহচর জেনারেল এরশাদ ছিল তাদের আরো বড় পৃষ্ঠপোষক। এরশাদের ৯ বছরের শাসনামলে ১৫ই আগষ্টের ঘটনার নায়করা এরশাদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশী পৃষ্ঠপোষকতা বা আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছে, যে কয়জনকে বিভিন্ন দূতাবাসে সেনাবাহিনী থেকে প্রেশনে নিয়োগ দেখানো হয়েছিল এরশাদ সরকার তাদেরকে পদোন্নতিও দিয়েছে। শুধু তাই নয় কর্নেল ফারুক ও রশিদসহ নির্বাসিত ও বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ১৫ই আগষ্টের সেনা কর্মকর্তারা এরশাদের উদারতা ও সহযোগিতায় বাংলাদেশে এসে ফ্রিডম পার্টি নামে রাজনৈতিক দলও গঠন করেছিল, এমনকি কর্নেল ফারুক একবার এরশাদের সাথে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, ১৯৮৬ সালে এরশাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টি অংশগ্রহন করে এবং সংসদে একটা আসনও পেয়েছিল, কিন্তু সেই এরশাদ এখন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার অগনতান্ত্রিক ও অনির্বাচিত সরকারের অন্যতম প্রধান সহযোগী। অথচ যত দোষ জেনারেল জিয়ার, কারণ জিয়ার বি,এন,পি’র কাছেই আওয়ামী লীগের ক্ষমতা হারানোর একমাত্র আশংকা।

আর জেনারেল জিয়াকে যদি বর্তমান আওয়ামী লীগ ১৫ই আগষ্টের সেনা কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে তবে এমন পৃষ্ঠপোষকতা বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার দায়তো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও উত্থাপন করা যায়। ১/১১ এর নায়ক জেনারেল মইন ও জেনারেল মাসুদ রাজনীতি থেকে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল, তার বিরুদ্ধে ১৩টা দূর্নীতির মামলা দিয়েছিল, তার দলের অনেক শীর্ষ নেতাকে দূর্নীতির দায়ে জেলে ভরে তাদেরকে শারীরিকভাবে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে টেনে হেচরে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তাকে দীর্ঘদিন বিশেষ কারাগার বানিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে তখন নাকি খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে হত্যা করার সড়যন্ত্রও করা হয়েছিল-এ অভিযোগ আওয়ামী লীগেরই শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের।

কিন্তু ১/১১ এর নায়কদের সমর্থিত ও কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৯ এর জানুয়ারীর নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় বসে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ১/১১ এর মূল নায়ক জেনারেল মইন ও জেনারেল মাসুদের কোন বিচার করাতো দূরে থাক তাদেরেকে সম্মানের সাথে দেশ ত্যাগ করার সুযোগ দিয়েছিল এবং জেনারেল মাসুদকে অষ্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেশনে নিয়োগ দিয়েছিল, এমনকি তার দূতাবাসে চাকুরীর মেয়াদ ২ বার বৃদ্ধিও করা হয়েছিল। এটা কি ১/১১ এর আওয়ামী লীগের ভাষায় অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী সেনা নায়কদের পৃষ্ঠপোষকতা বা আশ্রয়-প্রশ্রয় নয় ? এর জবাবে আওয়ামী মহল হয়ত বলবে ১৫ই আগষ্টের ঘটনার সাথে ১/১১ এর ঘটনার কোন তুলনা হয়না, কারণ ১৫ই আগষ্টের ঘটনা ছিল জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা।

৪১ বছর পর আজকের ভোল-পল্টানো আওয়ামী লীগের কাছে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের ঘটনা যদি কেবল একটা খুনের ঘটনা বলেই মনে করা হয় তবে ১৯৭২-৭৫ সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ১৫ই আগষ্টের ঘটনাকেও তখন একটা সফল সামরিক ও রাজনৈতিক বিপ্লব হিসেবেই মনে করা হয়েছিল, যার সাথে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রায় সকল শীর্ষ নেতারাই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল, শেখ মুজিবকে হত্যার পর তখন কাউকে প্রকাশ্যে চোখের জল ফেলতেও দেখা যায়নি, আজকের মুজিব-প্রেমীরা কোথাও একটা গায়েবানা জানাজাও পড়ায়নি, ১৫ আগষ্টের সকালে ঢাকার রাজপথে সেনাসদস্যদের বহনকারী ট্যাংক ও সাজোয়া যানের উপর ( অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া তুরস্কের সেনা অভ্যূত্থানের মত ) তখনকার আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ইট-পাটকেল, জুতা-সেন্ডেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়নি, বরং স্বতস্ফূর্ত জনতা ট্যাংকের নলে ও ১৫ই আগষ্টের নায়কদের গলায় মালা পড়িয়ে দিয়েছে। সুতরাং ১৫ই আগষ্টের ও ১/১১ এর নায়কদের একইভাবে তুলনা করা যায়। ১৫ই আগষ্টের নায়করা খালেদ মোশার্রফ, জিয়া ও এরশাদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল আর ১/১১ এর নায়করা শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে।

শেখ হাসিনা ও তার দল এখন প্রকাশ্যে ও সরাসরি জিয়াকে শেখ মুজিবের খুনি বলে অভিহিত করে, যদি জিয়া শেখ পরিবারের এমন শত্র“ হত তবে শেখ হাসিনাকে জিয়া তার জীবদ্দশায় দেশে প্রবেশ করতে দিতনা, বরং ১৯৭৯ সালে জিয়াই শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসতে দিয়ে ভাঙ্গনের দ্বারপ্রান্ত থেকে রক্ষা করতে আওয়ামী লীগের হাল ধরার সুযোগ করে দিয়েছিল। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করে আওয়ামী লীগেরও অস্তিত্ব বিলীন করে দেওয়া হয়েছিল, জিয়াই বাকশাল বিলুপ্ত করায় আওয়ামী লীগ আবারও পুন:জন্ম লাভ করতে পেরেছিল এবং আজকের আওয়ামী লীগ নেতারা আওয়ামী লীগের ৬৫তম জন্মেৎসব পালন করতে এবং গর্ব করে বলতে পারছে আওয়ামী লীগই দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও শেখ মুজিবের হাতে-গড়া দল ( যে দলকে শেখ মুজিবই কবর দিয়েছিলেন ১৯৭৫ সালে )।

বি,এন,পি’র প্রতিষ্ঠাতা বলে আওয়ামী লীগাররা এখন জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা নয়, পাকিস্তানের দালাল বা চর বলে গালি দেয়। কিন্তু সারা বিশ্ব ও দেশবাসী জানে জিয়া ছিল ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বীর, যেজন্য মরহুম শেখ মুজিব জীবিত সৈনিক হিসেবে জিয়াকেই বীর উত্তম খেতাব বা উপাধী দিয়েছিলেন। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে শেখ মুজিব যখন স্বেচ্ছায় পাকিস্তানী সৈন্যদের কাছে আত্মসমর্পন করেছিলেন তখন গোটা বাংগালী জাতি পাকিস্তানী সৈন্যদের বুলেট ও বুটের আঘাতে আর্তনাদ করছিল, সাড়ে সাত কোটি বাংগালী তখন দিক-নির্দেশনাহীন এক অন্ধকার ও অনিশ্চয়তায় পতিত হয়, তখন আওয়ামী লীগের কোন শীর্ষ নেতার কোন সাড়া-শব্দ বা অস্তিত্বও খুজে পাওয়া যায়নি, এহেন অবস্থায় চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭শে মার্চ মেজর জিয়ার বলিষ্ঠ কন্ঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান শুনে মুক্তিকামী বাংগালী জাতি সাহসে বুক বেঁধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ও সংগঠিত হতে শুরু করে।

স্বধীনতা যুদ্ধে জিয়ার ঐ ঘোষণাকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে ঐতিহাসিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অবদান হিসেবে আখ্যায়িত ও উল্লেখ করা হয়। “জিয়ার ঘোষণাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের তূর্যধ্বনি, এই ঘোষণা শুনে আকষ্মিক হামলায় হতভম্ব জাতি পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছিল। সেদিনের সেই রুখে দাড়ানো থেকেই বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর।” ভারতের বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া’র এক রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৪০তম বিজয় দিবসকে সামনে রেখে পত্রিকাটি ১১ই ডিসেম্বর সংখ্যায় এমন  মন্তব্যপূর্ন রিপোর্ট করেছিল। আজকের আওয়ামী গোষ্টি স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়ার ভূমিকাকে খাটো তথা বি,এন,পিকে অজনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কত মনগড়া ও কাল্পনিক তথ্যই না প্রচার করে যাচ্ছে। তারা জিয়াকে আর ১০ জন সেক্টর কমান্ডারের মত একজন সেক্টর কমান্ডারের বেশী কিছু নয় বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ভরে কথা বলে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও রংপুরেও বেতার কেন্দ্র ছিল, আর কোন সেক্টর কমান্ডার বা কোন আওয়ামী লীগ নেতা অন্য কোন বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা বা মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান জানাতে পারলনা কেন ? সেক্টর কমান্ডার জিয়াই তা পেরেছিল কারণ সে পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে চট্টগ্রাম শহরকে ১৭ দিন পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রনে রেখেছিল বলেই তার পক্ষে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল, পাকিস্তানী সৈন্যরা ২৫ মার্চের পর স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার জন্য কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রটাকে বাংগালীদের জন্য উম্মুক্ত করে দেয় নাই। জিয়ার ভূমিকাকে খাটো তথা বি,এন,পিকে হেয় করার জন্য এই চরম সত্যটাকে আজ আওয়ামী মহল অস্বীকার করে জিয়া ও শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর কত কল্পকাহিনীই না প্রচার করে যাচ্ছে।

আওয়ামী মহল থেকে জিয়াকে অভিযুক্ত করা হয় সে বাংলাদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিল এবং পুনর্বাসিত ও রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিল, একথা যদি সত্য হয়ে থাকে তবে একথাও সত্য যে স্বাধীনতার পর পর শেখ মুজিবুর রহমানই মরহুম শাহ আজিজুর রহমান ও সবুর খানকে বন্দি দশা থেকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে বাংলাদেশে রাজনীতি করা থেকে নিষিদ্ধ করেন নাই। বৃটিশের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা বৃটিশের পক্ষে রাজনীতি করেছিল ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তাদের অনেকেইে পরবর্তিতে ভারতের রাজনীতিতে পুনর্বহাল ও কেউ কেউ মন্ত্রীও হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংগালী যারা পাকিস্তানী সৈন্যদের গনহত্যা, ধর্ষণ, লুট-পাট ও অগ্নিসংযোগে সহায়তা করেছিল তাদের অপরাধ মানবতাবিরোধী এবং অমার্জনীয়। এমন চার ধরনের অপরাধে জড়িত অপরাধীদের বাদ দিয়ে বাকী সবাইকে শেখ মুজিব ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেখ মুজিব তার জীবদ্দশায় সাড়ে তিন বছরের শাসনকালে উল্লেখিত অপরাধীদের মাত্র ১জন ছাড়া ( চিকন আলী ) কারো বিচারই শেষ না করে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। স্বাধীনতার পর পর এদের অপরাধের সকল সাক্ষী ও আলামত ছিল তরতাজা এবং এদের দ্বারা অত্যাচারিত ও ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই জীবিত ছিল, তখন বিচার করা ছিল অনেক সহজ ও স্বচ্ছ।

স্বাধীনতার এক বছরের মধ্যেই এদের বিচার শেষ করা যেত, তখন শেখ মুজিব সরকারের উপর কোন আন্তর্জাতিক চাপও ছিলনা। কিন্তু সাড়ে তিন বছর যাবত তাদের বিচার শেষ করা এমনকি বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহতও রাখা হয়নি। বিচার ঝুলিয়ে রাখার কারণে তখন সাধারন মানুষ এটাও মনে করেছিল শেখ মুজিব হয়ত শেষ পর্যন্ত তাদেরকেও ক্ষমা করে দিবেন। এখন বি,এন,পিকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী মহল থেকে অভিযোগ করা হয় জেনারেল জিয়া ’৭৫ এর পর ক্ষমতায় এসে তাদেরকে বিচার না করে মুক্ত করে দিয়েছিল, এজন্য যদি জিয়াকে অভিযুক্ত করা হয় তবে এর চেয়েও মারাত্মক অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা যায় শেখ মুজিবুর রহমানকে। যে পাকিস্তানী এক লাখ সৈন্য গনহত্যা, ধর্ষণ, লুট-পাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সরাসরি সংঘঠিত করেছিল তাদেরকে স্বাধীন বাংলার মাটিতে বন্দি করার পরেও বিচার না করে কেন পাকিস্তানে ফেরত দেওয়া হল ? এজন্য তখন কোন আন্তর্জাতিক চাপও ছিলনা, তখনকার পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতসহ বলতে গেলে পূর্ব ইউরোপের সকল দেশেরই সমর্থন ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ তথা শেখ মুজিবের প্রতি।

এখন নব্য আওয়ামী রাজাকাররা কত খোড়া যুক্তিই না দেখাচ্ছে। এক লাখ সৈন্যকে জিম্মি হিসেবে বাংলার মাটিতে আটকে রেখে পাকিস্তানের কাছ থেকে শেখ মুজিবকে জীবিত ফেরত আনা ( যদিও ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেখ মুজিবের অবস্থান ও অবস্থা অজানা ছিল ), আটকে-পড়া বাংগালীদের পাকিস্তান থেকে ফেরত আনা, অবাংগালীদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো এবং পাকিস্তানের কাছে পূর্ব পাকিস্তানের ( বাংলাদেশের ) আর্থিক পাওনা ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরন সবই আদায় করা যেত। এমনকি ঐ এক লাখের মধ্যে শেষ পর্যন্ত যে ১৯৫ জনকে সুনির্দিষ্ট অভিয়োগে চিহ্নিত ও অভিযুক্ত করা হয়েছিল তাদেরকেও শেখ মুজিবুর রহমানের মহানুভবতার আলোকে ১৯৭৪ সালের তৃপক্ষীয়  শিমলা চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। এখন আওয়ামী মহলের পক্ষ থেকে জাতিকে ( নতুন প্রজন্মকে ) এসবের কত মনগড়া ও খোড়া যুক্তিই না দেওয়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে শিমলা চুক্তির শর্ত ছিল পাকিস্তান দেশে ফেরত নিয়ে তাদের বিচার করবে, কি হাস্যকর ও অগ্রহনযোগ্য শর্ত, যে পাকিস্তান তার ঐসব হায়েনা সৈন্যদের দিয়ে বাংগালীদের উপর ইতিহাসের নজীরবিহীন অত্যাচার চালিয়েছে সেই পাকিস্তান তাদের বিচার করবে !

যে অপরাধের জন্য জেনারেল জিয়াকে অভিযুক্ত বা আক্রমন করা হচ্ছে এর চেয়ে আরো বড় অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগ তথা শেখ মুজিবের কোন দোষ নাই, অর্থাৎ একজনের বেলায় অপরাধ অন্যজনের বেলায় কৌশল বা তখনকার বাস্তবতায় কোন উপায় না থাকা। এই যুক্তি জেনারেল জিয়ার বেলায় প্রযোজ্য নয় কেন ? দক্ষিন আফ্রিকার নেলসন মেন্ডেলা বা ভিয়েতনামের হু চি মিন আন্দোলন ও যুদ্ধে সফল হওয়ার পরও দেশকে পূনর্গঠনের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মহান উদ্দেশ্যে যেমন জাতিগত বিভেদ পরিহার করেছিলেন, জেনারেল জিয়াও হয়ত সেই মহান উদ্দেশ্য ও চিন্তা-চেতনাকে ধারন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব যদি নিহত না হতেন এবং পরবর্তি সময়ে আটকে রাখা বাংগালী যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতাবিরোধীদের পাকিস্তানী সৈন্যদের মত মহানুভবতা দেখিয়ে মাফ করে দিতেন তবে আজকের আওয়ামী মহল নিশ্চয়ই তার পক্ষেই ঢোল বাজাতো। আওয়ামী লীগ এখন যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতাবিরোধী আপরাধের দায়ে বাংগালীদের বিচার করছে ও ফাঁসি দিচ্ছে, এতে বিশ্ববাসীর কাছে এটাই প্রমানিত বা জানানো হচ্ছে যে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সৈন্যরা নয় বাংগালীরাই যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল।

আওয়ামী মহল থেকে অভিযোগ করা হয় জেনারেল জিয়া ’৭৫ এর পর জামায়াতে ইসলামসহ অন্যদেরকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার পথ উম্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্ম ( ইসলাম ) ভিত্তিক রাজনৈতিক দল তথা রাজনীতি থাকাটাই স্বাভাবিক ( যেমন কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারতে এখন চরম উগ্রবাদী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আছে – যাদের সাথে সখ্যতা/সমঝোতা করে আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় টিকে আছে  ), জিয়া তাদেরকে স্বাভাবিক রাজনীতির ধারায় রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, তাই জামায়াতে ইসলাম বিগত ৪১ বছর যাবত বাংলাদেশে রাজনীতির মূল স্রোতে থেকে রাজনীতি করে যাচ্ছে, নির্বাচনে অংশগ্রহন করছে, সংসদেও আসন নিয়ে বসতে পেরেছে, তাদের সাথে বি,এন,পি’র আগে আওয়ামী লীগেরই সখ্যতা ছিল। পরবর্তিতে ভোটের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ করে আওয়ামী লীগ বি,এন,পি-জামায়াত জোটকে দূর্বল করার জন্য ৪০ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচার করে জামায়াতকে নিশ্চিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে, যদি ২০০১ এর নির্বাচনেও জামায়াত ১৯৯৬ এর মত আওয়ামী লীগের সাথে থাকত তবে আওয়ামী লীগ আদৌ মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের বিচার করত কিনা তা নিয়ে অবশ্যই সন্দেহ করা যেতে পারে।

এমনও সন্দেহ করা হয় ভবিষ্যতে যাতে কখনও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বচনী জোটের প্রয়োজনে জামায়াতকে সাথে নেওয়ার কৌশল নিতে হয় সেজন্য এত অপবাদ ও অপরাধে অভিযুক্ত করার পরও আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করছেনা, বরং তাদেরকে শুধু বি,এন,পি জোট থেকে বের করে আনতে চাচ্ছে। উল্লেখ্য, জিয়ার মৃত্যুর ১০ বছর পর ১৯৯১ সালে বি,এন,পি আবার ক্ষমতায় আসে, এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ এবং ২০০১ সালে আবার বি,এন,পি, তারপর ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। এই সময়ের মধ্যে জামায়াত ছাড়া ধর্মভিত্তিক আর কোন দলকে আওয়ামী লীগ বা বি,এন,পি পৃষ্ঠপোষকতা বা রাজনীতি করার সুযোগ দেয়নি, তাহলে আজকের বাংলাদেশে এত ডজনে ডজনে ধর্ম ( ইসলাম ) ভিত্তিক উগ্র ও জংগী রাজনৈতিক দল ও গোপন সংগঠনের জন্ম হলো কার পৃষ্ঠপোষকতায় ? শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ বলে ধর্ম তথা ইসলামকে পুঁজি করে এখানে স্বাভাবিকভাবেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গড়ে উঠত ও উঠছে, এজন্য ’৭৫ পরবর্তি সময় তথা জিয়াকে দায়ী করা আওয়ামী মহলের কেবলই রাজনৈতিক কৌশল। 

দেশে এখন যে ধর্মীয় জংগী গোষ্টির উত্থান ও তৎপরতা চলছে তার জন্যও শেখ হাসিনা ও তার দল শুধু জামায়াত-শিবির না বলে ঢালাওভাবে বি,এন,পি-জামায়াত এজন্য দায়ী বলে প্রচার ও অভিযোগ করে যাচ্ছে। অথচ শেখ হাসিনার বিগত ৭ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী ও জংগী গোষ্টিতে পরিনত হয়েছে, তাদের ৭ বছরের খুন-খারাবী, ধর্ষণ, চাঁদা-বাজি তথা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অন্য যে কোন ধর্মীয় জংগী গোষ্টির তৎপরতাকে হার মানিয়েছে, উগ্র ধর্মীয় জংগীরাতো মাঝেমধ্যে টার্গেট কিলিং করে, কিন্তু ছাত্রলীগ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশে প্রায় প্রতিদিন তাদের সন্ত্রাসী ও জঘন্য কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, যেজন্য এ প্রতিষ্ঠানকে এখন চাপাতি লীগ নাম দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, জিয়া যখন বিভিন্ন দল, গোষ্টি ও সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ে বি,এন,পি গঠন করেছিল তখন বি,এন,পিতে জামায়াত ইসলামের কাউকে স্থান দেননি। আরো উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিব মিত্র দেশ ভারতকে অসন্তুষ্ট করেও ১৯৭৩ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অুনষ্ঠিত ইসলামী সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন, যে জুলফিকার আলী ভূট্টোর কারণে নির্বাচনে জয়ী হয়েও ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসনভার হাতে পান নাই বরং পেয়েছিলেন অত্যাচার আর নির্যাতন এবং বাংগালীদের উপর ইতিহাসের জঘন্যতম গনহত্যা সেই ভূট্টোর সাথে সেখানে সহাস্যে করমর্দন ও কোলাকোলি করেছিলেন, যদি ’৭৫ এর পর এমন সম্মেলনে জেনারেল জিয়া পাকিস্তান যেতেন তবে আওয়ামী গোষ্টি চিৎকার করে বলতে থাকত জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় যে পাকিস্তানের চর ছিল এটাই তার প্রমান।

বি,এন,পিকে কাবু করার জন্য আওয়ামী লীগ আরো বলে থাকে জিয়াই প্রথম স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং রাজাকার আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছিল এবং তার দল বি,এন,পি যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা দিয়েছিল, এটা যেমন সত্য এই দোষে আওয়ামী লীগও ধোয়া তুলশী পাতা নয়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীসভায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নূর মোহাম্মদ ছিল রাজাকার, তাছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রীসভার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশার্রফ হোসেনও রাজাকার ছিল বলে অভিযোগ আছে, আর বি,এন,পি’র আগেই রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিল বর্তমান আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সহচর এরশাদ, সে যখন ক্ষমতায় ছিল ধর্মমন্ত্রী বানিয়েছিল দৈনিক ইনকিলাবের মাওলানা মান্নানকে – স্বাধীনতার পর রাজাকার উল্লেখ করে পত্রিকায় ছবি দিয়ে যাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। অথচ যত দোষ জিয়া আর বি,এন,পি’র, কারণ এসব বলে ও প্রচার করে বি,এন,পিকে অজনপ্রিয় করা।

শেখ হাসিনার সরকার এখন বি,এন,পি নেত্রী খালেদা জিয়াকেও বিভিন্ন মামলার জালে অক্টোপাশের মত জড়িয়ে ফেলেছে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশের একটা বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের যিনি বিগত ৩০ বছর যাবত সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন তাকে ১০টার বেশী মামলায় আসামী করে অসুস্থ শরীরে এই বৃদ্ধ বয়সেও প্রতিমাসে আদালতে হাজিরা দেওয়ার যন্ত্রনায় নিক্ষিপ্ত করা হয়েছে, অথচ ১/১১ এর জেনারেল মইনের কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও ১৩টা মামলা দিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার সকল মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নিয়েছে, খালেদা জিয়া ও অন্যান্য বি,এন,পি নেতাদের মামলা প্রত্যাহারতো করেইনি বরং আরো নতুন নতুন মামলা দেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। বি,এন,পি এখন  মামলাবাজ আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক শিকারে পরিনত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারে এসে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার মামলায় বি,এন,পি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফর জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুকেও আসামীর তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে, মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রকাশ্যে বলে থাকে এ ঘটনা তারেক রহমানেই ঘটিয়েছে, তাহলে আর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কিভাবে ? যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন যদি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তার জন্য সে সরকারই দায়ী এটা কোন যুক্তি হতে পারেনা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা, বিচার করা, ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আগাম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এসবের জন্য ক্ষমতাসীন সরকারকে অবশ্যই দায়বদ্ধ হতে হবে, কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার তথা তার দলের লোকেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত এমন অভিযোগ করা মোটেই প্রত্যাশিত ও যৌক্তিক নয়। আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই বি,এন,পি’র বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, নিন্ম আদালতের এক রায়ে তারেক রহমানকে খালাস দিলেও উচ্চ আদালতে সরকারের ইচ্ছায় তাকে ৭ বছরের জেল দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ গত ৭ বছরে পুরো বিচারাঙ্গনকে দলীয়করন এমনভাবে করেছে এখন আর দেশে  নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচার পাওয়ার কোন আশা নাই, বাংলাদেশের বিচারপতিরাওতো জাতে বাংগালী, যেদিকে মেঘ সেদিকেই ছাতা ধরে ( বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া )।

১৯৮২ সাল থেকে ৯ বছর এরশাদ ক্ষমতায় ছিল, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বি,এন,পি সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন কোন সাহসী বিচারপতি বা উচ্চ আদালতের বেঞ্চকে জিয়া ও এরশাদের শাসনকালকে অবৈধ ঘোষণা করতে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের পরিপন্থি বলে রায় দিতে দেখা যায়নি, যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল বা থাকে তখনই “সাহসী ও জ্ঞানী” বিচারপতিরা এ ধরনের রায় দেন, আর আওয়ামী লীগ একে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিরোধী দলকে ঘায়েল করার কাজে ব্যবহার করে। ক্ষমতায় যারা থাকে তারাই যদি অঘটনের জন্য দায়ী হয় তবে আওয়ামী লীগের শাসনামলে উদীচী ও রমনা বটমূলে যে বোমা হামলা হয়েছিল তার জন্যও নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগই দায়ী, ২১ আগষ্টের ঘটনার জন্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে বি,এন,পি নেতাদের যেভাবে জড়ানো ও অভিযুক্ত করা হচ্ছে ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্র“য়ারী পিলখানায় যে পৈশাচিক ( ২১শে আগষ্টের চেয়েও নৃশংস ও জঘন্য ) ও নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটেছিল বি,এন,পি ক্ষমতায় আসলে যদি এজন্য আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীদের দায়ী করে মামলায় আসামী করা হয় তবে নিশ্চয়ই আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবেনা।

আওয়ামী লীগ এখন ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের যে পথ তৈরী করে দিয়ে যাচ্ছে বি,এন,পিও যদি ভবিষ্যতে সে পথেই হাটে তবে তা অবশ্যই যথার্থই হবে। উল্লেখ্য, পিলখানার ঘটনায় বরং আওয়ামী লীগ সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক মামলার জালে পড়ে বি,এন,পি নেতা নাসিরউদ্দীন পিন্টুকে বিনা বিচারে জেলখানাতেই মৃত্যুবরন করতে হয়েছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আওয়ামী লীগ এখন বিভিন্ন মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ বি,এন,পি’র সিনিয়ার নেতাদের সাজা দিয়ে বি,এন,পিকে নেতৃত্ব শূন্য এবং তাদেরকে নির্বাচন করার অযোগ্য করে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। অথচ শেখ হাসিনা প্রায়ই মূখে বলে সে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেনা বা বিশ্বাস করেনা। কিন্তু দেশবাসী ২০০৯ সাল থেকে প্রত্যক্ষ করছে শেখ হাসিনা ও তার দল বি,এন,পি’র প্রতি কত রাজনৈতিক প্রতি হিংসা পরায়ন। ক্ষমতায় এসেইে ৩০ বছর ধরে স্থায়ী জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম থেকে জিয়ার নাম সরিয়ে ফেলে দেয়, ৪০ বছর যাবত জিয়া পরিবার ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে থাকত, এই জায়গাটা জিয়ায় ক্ষমতায় থাকতে বা বি,এন,পি’র আমলে বরাদ্দ নেওয়া হয় নাই, জিয়া মারা যাওয়ার পর শেখ হাসিনার “ঘনিষ্ঠ বন্ধু” জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন জিয়া পরিবারকে এই জায়গাটা বরাদ্দ দিয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনা বেগম জিয়াকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে নয় মনে হয় সতীন মনে করে বেগম জিয়াকে আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে ( আদালতকে ব্যবহার করে) ৪০ বছরের বাসস্থান থেকে টেনে হেচরে উচ্ছেদ করেছে।

একজন নারী ও প্রধানমন্ত্রী আর একজন নারী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটা বৃহৎ দলের নেত্রীর প্রতি এহেন আচরন তখনই করতে পারে যখন সে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার আগুণে জ্বলতে থাকে। অনুগত ও দলীয় মতাদর্শে বিশ্বাসী আদালত তথা বিচারকদের রায়ের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনা ও তার দল এখন জিয়ার স্বাধীনতা দিবস পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমনকি শেরে বাংলানগর থেকে জিয়ার কবর সরানোর পরিকল্পনাও করছে, প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মনমানষিকতা ও বৈশিষ্ট্য ধারন করে বলেই শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ এখন জিয়া ও বি,এন,পি’র প্রতি এমন আচরন করে যাচ্ছে। নব্য আওয়ামী লীগের মতে জিয়া যদি মুক্তিযোদ্ধা নয়-পাকিস্তানের চর হয়ে থাকে তবে জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাব দেওয়ার অপরাধে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানেরও মরনোত্তর বিচার করা করা হয়না কেন ? আওয়ামী মার্কা বিচারকদের কাছ থেকে এ ব্যাপরে এখন এমন রায়ও আসা উচিত।

শেখ হাসিনা দেশে ও বিদেশে যেখানেই যে কোন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা বা ভাষণ দেওয়ার সময় জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিষেদগার ( কোন কোন সময় অশালীন ও শিষ্টাচার বহির্ভূত শব্দ ও ভাষা প্রয়োগ করে ) না করলে যেন তার বক্তৃতা বা বক্তব্য যেন অসম্পূর্নই থেকে যায়, যেন তার তৃপ্তিই হয়না। ১৫ই আগষ্ট খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন ও কেক কাটেন বলে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের গায়ে আগুন ধরে যায়, যদি ঐদিন তার সত্যিই জন্মদিন হয়েও থাকে শেখ মুজিবুর রহমান ঐদিনে নিহত হয়েছিলেন বলে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ ১৫ই আগষ্টকে শোক দিবস হিসেবে পালন করে, কাজেই তাদের পিতা ও নেতার মৃত্যু দিবসে বিরোধী দলের একজন নেতা যদি কেক কেটে তার জন্মদিন পালন করার মধ্য দিয়ে আনন্দ-র্স্ফূতি করে তবে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের গায়েত আগুন লাগবেই।

কিন্তু বি,এন,পি তথা জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে কটুক্তি ও খাটো করে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতা/নেত্রীরা যেভাবে অনবরত গালাগালি করেতে থাকে এবং শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জিয়া পরিবারকে যেভাবে হয়রানী ও নির্যাতনের মধ্যে ফেলেছে তখন বি,এন,পি প্রতিশোধ হিসেবে ১৫ই আগষ্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করবেনা কেন ?  তাছাড়া বি,এন,পি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার বাংলাদেশের রাজনৈতিক বা ক্ষমতার দৃশ্যপটে আসার ঐতিহাসিক দিন ৭ই নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে এবং সেদিন সরকারী ছুটি ঘোষণা করে, কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ৭ই নভেম্বরকে জিয় কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং ৭ই নভেম্বরের সরকারী ছুটি বাতিল করে ১৫ই আগষ্ট শোক দিবস হিসেবে সরকারী ছুটি ঘোষণা করে। এই প্রতিহিংসামূলক আচরনের জন্যই বি,এন,পি ১৫ই আগষ্ট কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করে।

শেখ হাসিনা, তার দল ও সমর্থক গোষ্টি অব্যাহতভাবে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষ অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশী সুখে , শান্তিতে ও নিরাপদে আছে। যদি তাই সত্য হয় তবে বিরোধী দল তথা বি,এন,পিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার পরিবর্তে মামলা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র শক্তি ও দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের দিয়ে হামলা করে চরম প্রতিহিংসার পথ কেন বেছে নেওয়া হয়েছে ?  কথিত এত উন্নয়ন ও ভালো কাজের জন্য দেশের জনগন নিশ্চয়ই চাইবে আওয়ামী লীগই যাতে ক্ষমতায় থাকে, তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে ( এখনই হউক বা ২০১৯ সালেই হউক ) বি,এন,পিসহ সকল দল যাতে অংশগ্রহন করতে পারে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনপ্রিয়তা যাচাই করতে ভয় বা বাধা কোথায় ?  জিয়া ও বি,এন,পি’র বিরুদ্ধে এখন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী মহল থেকে যে অভিযোগ ও সমালোচনা করা হচ্ছে জনগনের রায়েই তা নির্দ্ধারিত হয়ে যাবে।

কোন কূটকৌশল, ষড়যন্ত্র বা প্রতিহিংসা দিয়ে নয় রাজনৈতিকভাবে এবং গনরায়ের মাধ্যমেই তার ফয়সালা হয়ে যাবে। এই সৎ সাহস কি বঙ্গবন্ধু কন্যার আছে ?  যিনি মূখে বলেন ক্ষমতা বা প্রধানমন্ত্রীত্ব তার কাছে বড় বিষয় নয়, দেশ ও জনগনের স্বার্থে তিনি যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছেন, যদি এমন মনোভাব সতিই পোষণ করেন তবে কি একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য নির্বাচনকালীন মাত্র তিন মাসের জন্য গদির স্বার্থ ত্যাগ করে ক্ষমতা থেকে সরে থেকে নির্বাচন দিয়ে জাতির কাছে মূখে নয় প্রকৃত অর্থে বঙ্গবন্ধু কন্যার পরিচয় দেওয়ার সৎ সাহস দেখিয়ে নজীর স্থাপন করে যেতে পারবেন ?


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ