,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

মোবাইল প্রযুক্তি ।। মোবাইল দিয়েই শুরু করুন সাংবাদিকতা

লাইক এবং শেয়ার করুন

এস.কে.দোয়েল।। মোবাইল দিয়েই সাংবাদিকতা? কথাটা অবাক লাগলেও সত্যি সম্ভব। কম্পিউটার আর ল্যাপ্টপের স্থলে হাতের মুঠোয় মোবাইলটা দিয়েই সম্ভব গণমাধ্যমে যাবতীয় খবরাখবর পাঠানোর।  যেকোন মুহুর্তের ঘটে যাওয়া ঘটনাটি পাঠাতে পারবেন আপনার মোবাইল ফোনটা দিয়ে। আপনি যেকোনো সময়ে যেকোন স্থানে থাকুন কেন? চোখ-কান খোলা রেখে লক্ষ্য করুন, আপনার চারপাশে ঘটছে বিচিত্রসব ঘটনা। বাল্যবিবাহ, দূর্ঘটনা, ঘুষ-দুর্নীতি, ধর্ষণ-নির্যাতনসহ সামাজিক-অসামাজিক ঘটনা নিত্য নৈমিত্তিকই ঘটে যাচ্ছে। এইসব ঘটনা হাতের মুঠোবন্ধী করতে মোবাইলই দিতে পারে একমাত্র কাংখিত সুবিধা। তাই মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের যেকোন প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা দূর্গম স্থানে ঘটে যাওয়া তথ্যটি পাওয়া যাবে অতি সহজেই। এক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া তথ্যটি মুহুর্তে পৌছানো যাবে সকল মিডিয়ায়।

যারা গণমাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহী তাদের জন্য সুখবর মোবাইল দিয়ে শুরু করা যাবে সাংবাদিকতা। হাতে একটি অ্যান্ডুয়েড বা স্মার্টফোন থাকলেই সম্ভব হবে সাংবাদিকতা পেশায় অংশগ্রহণ করা। কেননা মোবাইলের ভয়েস কল থেকে শুরু করে অডিও, ভিডিও ও ইমেজ দূর্গম স্থান হতে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখনকার স্মার্টফোনগুলোতে মিলছে কম্পিউটারের মতো সুবিধা। অনেক স্মার্টফোনে উইনডোজ দেওয়া রয়েছে। আর ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। প্রতিমুহুর্তে মানুষ তথ্য আদান-প্রদান করছে এই যন্ত্রটির মাধ্যমে। আর ইন্টারনেটে জানছে গোটা দুনিয়ার খবরাখবর। এছাড়া সোস্যাল নেটওয়ার্ক (ফেসবুক, টুইটার, ভাইবার, বেশতো….) এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন নিউজ ও টিভি ভার্সন হওয়ায় শক্তিশালী এক নেটওয়ার্কে পরিণত হচ্ছে এই মোবাইল প্রযুক্তি।

সারাবিশ্বের ৪শ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তার মধ্যে বাংলাদেশের ১৬ কোটির জনসংখ্যার ১২ কোটির বেশি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। পিউ রিসার্চের এক জরিপ মতে, দেশে ৪ কোটি ২৭ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ১৫ শতাংশ মুঠোফোনে ইন্টারনেট বেশি ব্যবহার করেন ১৮-৩৫ বছর বয়সী মানুষ। ৮ শতাংশ ঘরে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। মাধ্যমিকের চেয়ে বেশি পড়াশোনা করেছেন, এমন মানুষই বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, ২৪ শতাংশ। আর প্রাপ্তবয়স্ক ইন্টারনেট গ্রাহকদের ৭৬ শতাংশই সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে। ৫৬ শতাংশ শিক্ষায়, ৪৮ শতাংশ ব্যক্তিগত সম্পর্কে, ৫০ শতাংশ অর্থনীতিতে, ৩৮ শতাংশ রাজনীতিতে এবং ২৯ শতাংশ নৈতিকতায় ইন্টারনেট ব্যবহার করে’। এক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান, সংরক্ষণসহ অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে এই মোবাইল ফোন।

মোবাইল জার্নালিজম (মোবাইল সাংবাদিকতা) হচ্ছে-একজন সাংবাদিক, যিনি স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের কাজ করে থাকেন, তাঁকেই ‘মোবাইল সাংবাদিক’ বা সংক্ষেপে মোজো বলা হয়। এক্ষেত্রে একটি স্মার্ট ফোন দিয়ে শুরু করা যেতে পারে সাংবাদিকতা। অবশ্য যারা গণমাধ্যমে কাজ করে আসছেন, তাদের মুষ্টিময় সাংবাদিকদের দেখা যাচ্ছে তারা কর্মক্ষেত্রে এখন ক্যামেরার স্থলে স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন ঘটনা, কনফারেন্স, মিডিয়া কনফারেন্সসহ বিভিন্ন ফাংশনের ইমেজ, ভিডিও, অডিও রেকর্ড সংগ্রহে ব্যবহৃত  করা হচ্ছে। স্মার্টফোন দ্বারা অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপস এর মাধ্যমে ছবি তোলা, ভিডিও বানানো, সামাজিক যোগাযোগ সাইট ভিজিট অথবা ইন্টারনেটে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান করা অতি সহজ।

আজ এই স্মার্টফোনের সাহায্যে গণমাধ্যমের সংবাদ জানার কাজ আগের চেয়ে অনেক সহজতর হয়েছে। তবে স্মার্টফোন এখন আর এসব কাজের মধ্যেই থেমে নেই। অনেক বড় বড় কাজই করা হচ্ছে স্মার্টফোন দিয়ে। পশ্চিমা বিশ্বের নামীদামি গণমাধ্যমের বার্তাকক্ষে সংবাদ পৌঁছে দিতে স্মার্টফোন নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। এই যেমন বিবিসি তাদের প্রযুক্তিবিষয়ক অনুষ্ঠান ক্লিকসহ বেশ কয়েকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পুরোটাই ধারণ ও সম্পাদনার কাজ করেছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে। গণমাধ্যমের গতি-প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অনেক উপকারী অ্যাপ। এখন অনেক গণমাধ্যমই তাদের ওয়েবসাইটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপ বানানো ও এর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।

মোবাইল দিয়ে সাংবাদিকতা শুরুর আগে আপনাকে ক্রয় করতে হবে একটি ভালো মানের স্মার্টফোন। এই স্মার্টফোনে রয়েছে হাই রেজ্যুলেশন ক্যামেরা। যেমন স্মার্টফোনে যেসব সুবিধাগুলো রয়েছে-
১) দ্রুত এডিটিং: এডিটিং-এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যামেরার তুলনায় স্মার্টফোন এগিয়ে আছে। সাধারণত ডিজিটাল ক্যামেরার ছবিগুলোকে কম্পিউটারে নিয়ে কোনও সফ্টওয়ারের সাহায্যে এডিট করতে হয়, কিন্তু স্মার্টফোনের অ্যাপস দিয়ে খুব দ্রুতই ছবি এডিট করা যায়।
২) দ্রুত শেয়ারিং: বর্তমান বিশ্বে তথ্য আদান প্রদানের দ্রুতগামিতা মানুষকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে। একটি ছবি তুলে তা সেকেন্ডের মধ্যে অন্য মাধ্যমে পাঠানোর জন্য স্মার্টফোনের জুড়ি নেই। কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরার ছবি এত  দ্রুত শেয়ার করা যায় না।
৩) উন্নত ডিসপ্লে: বিবিধ কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহারের ফলে এখন স্মার্ট ফোনের ডিসপ্লে অনেক উন্নত ও আধুনিক। সুতরাং এ ধরণের ডিসপ্লেতে ছবি এডিটিং ও নিখুঁতভাবে কালার ইফেক্ট ঠিক করা যায়। ডিজিটাল ক্যামেরার ডিসপ্লে ততোটা আধুনিক না হওয়ায় ছবি প্রথমে উন্নত কম্পিউটারে নিয়ে এডিট বা কালার সমন্বয় করা হয়।
৪) বহনযোগ্যতা: বহনযোগ্যতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যামেরার চেয়ে স্মার্টফোন অনেক এগিয়ে কারণ ফোন সবার পকেটেই থাকে কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরা আলাদা করে ব্যাগে বহন করতে হয়।
৫) সেলফি সুবিধা: বর্তমান প্রজন্ম যে সেলফি জ্বরে ভুগছে তার জন্য স্মার্টফোনই সেরা কারণ উভয় দিকে লেন্স থাকার কারণে স্মার্টফোনের মাধ্যমে সেলফি তোলা অনেক সহজ কিন্তু ডিজিটাল ক্যামেরায় এখনও সেলফি প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

কোন ধরণের স্মার্টফোন কিনবেন?
বাজারে এখন বিভিন্ন মডেল এর স্মার্টফোন পাওয়া যায়। কেনার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে এসব স্মার্ট ফোন। বর্তমানে স্মার্টফোনের বাজারে স্যামসাং, অ্যাপল, এইচটিসি, নকিয়া, ব্ল্যাকবেরির নতুন অনেক স্মার্টফোন রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনের মধ্যে থেকে একটি নির্দিষ্ট মডেল বাছাই করে নেওয়া বেশ কষ্টকর। কাজের ধরন ও  প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে স্মার্টফোন কেনা উচিত বলেই পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট সিনেটের প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, বাজারে স্মার্টফোনের নানা রকমফের থাকায় বেছে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। আইফোন, অ্যান্ড্রয়েডনির্ভর স্মার্টফোন, উইন্ডোজফোন বা ব্ল্যাকবেরির অপারেটিং সিস্টেম থেকে বেছে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন। তবে প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে আমাদের দেশে যারা মফস্বল সাংবাদিকতা করছেন তারা অনেকেই এখন ৬ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায় এমন স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন।

দেশে এখন শুধু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাই দুই কোটির ওপরে। আর ৩৫ বছরের নিচে তারুণ্যের সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। স্মার্টফোনের ভিত্তি করে নতুন গণমাধ্যম হিসেবে মোবাইল সাংবাদিকতার বিস্তৃতি ঘটাতে এই প্রতিবেদক উদ্যোগ গ্রহণ করেন-মোবাইল জার্নালিজম অব বাংলাদেশ’। ইতিমধ্যে তিনি মোবাইল জার্নালিজমের ওপর গবেষণার ভিত্তির ওপর ডকুমেন্টারি নির্মাণের হাত দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমের নতুন মিডিয়া হিসেবে মোবাইল জার্নালিজম গড়ার পূর্ণতা চান।

এস.কে.দোয়েল
উদ্যোক্তা-মোবাইল জার্নালিজম অব বাংলাদেশ
পঞ্চগড়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ