,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সরব তসলিমা

লাইক এবং শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে সবসময়ই সরব বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বাইরে অবস্থান করলেও দেশের পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে নিয়মিতই পোস্ট দিচ্ছেন তিনি।
 
বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম সম্পর্কে বিতর্কিত পোস্টও প্রকাশ করছেন তসলিমা নাসরিন। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলা নিয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধেও সরব থেকেছেন। জঙ্গি সৃষ্টি হওয়ার কারণ হিসেবে বিভিন্ন পোস্টে ইসলাম ধর্মকেই দায়ী করেছেন।
 
এছাড়া নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের কান ধরে উঠবস করার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদের ভাষাকে স্বাগত জানিয়েছেন। চট্টগ্রামে এসপি বাবুলের স্ত্রী মিতু হত্যার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে মিতুকে ‘হিজাবী নারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তসলিমা।
 
নিজস্ব পোস্ট দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত লেখা ও তার মন্তব্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদও ফেসবুকে শেয়ার করছেন তিনি।
 
তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক টাইমলাইনে সর্বশেষ বাংলাট্রিবিউনে প্রকাশিত তার একটি লেখা শেয়ার করা হয় ১৭ জুলাই। লেখাটির শিরোনাম ‘ভাইরা বোনদের বাঁচায় নাকি মারে?’। লেখাটি শেয়ার করে তসলিমা লিখেন, “কান্দিল বালোচকে মেরে ফেলেছে তার ভাই। কেন মেরেছে… পড়ুন।”
 
বাংলাট্রিবিউনে প্রকাশিত এ লেখায় তসলিমা নাসরিন লিখেন, “কান্দিল বালোচ আমেরিকার কিম কারদাশিয়ানের মতোই। শরীর দেখিয়ে নাম করেছে। কিম যা ক’রে কোটি টাকা রোজগার করে  আমেরিকায়, একই জিনিস করে কান্দিলকে খুন হয়ে যেতে হয় পাকিস্তানে। কান্দিল বালোচের সাত লাখ ফেসবুক ফলোয়ার আর  তেতাল্লিশ হাজার টুইটার ফলোয়ার ছিল। তার জনপ্রিয়তা ছিল, হোক না সে সস্তা জনপ্রিয়তা। সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করলে কি তার বাঁচার অধিকার থাকে না?”
 
তিনি লিখেন, “মেয়েরা তাদের শরীর দেখালে, শরীর নিয়ে কিছু লিখলে, শরীরের ছবি আঁকলে লোকে বলবেই মেয়েরা এসব করেছে ‘সস্তা জনপ্রিয়তার’ জন্য। একই কাজ করলে পুরুষকে কিন্তু এই দোষ দেওয়া হয় না। ‘সস্তা জনপ্রিয়তা’– এই শব্দদ্বয় মেয়েদের দোষ দিতে গেলেই মূলত ব্যবহার করা হয়।”
 
লেখার শেষ অংশে তসলিমা উল্লেখ করেন, “সমাজে কান্দিল বালোচের মতো সহস্র নারী দরকার, যারা সমাজের পুঁতিগন্ধময় পুরুষতন্ত্রকে মোটেও পুছবে না। এবং যা ইচ্ছে করে তাই করে বেড়াবে।”
 
একই দিন দ্যা ইকোনোমিক টাইমসে প্রকাশিত তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন তসলিমা। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘There’s no equality under any religion, says Taslima Nasreen’। অর্থাৎ তিনি বলেছেন, কোনো ধর্মেই সমতা নেই।
 
তার শেয়ার করা এ প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন রণবির ভট্টাচার্য। তিনি লিখেন, “সব ধর্মই ঘুরে ফিরে অবাস্তব কৈফিয়ত তৈরি করে কেন নারীর অবমাননা করা উচিত। শুনতে খারাপ লাগলেও সত্যি!”
 
ফ্যাকস এফ আজিম সুইট নামের এক ব্যবহারকারী তসলিমা নাসরিনকে প্রশ্ন করে মন্তব্য করেছেন, “একটা কথা জানতে ইচ্ছে করে আপনার কাছ থেকে, ধর্ম কি আসলেই এতটাই খারাপ? নাকি যারা ধর্মের অপব্যবহার করছে / করে তারা খারাপ! পৃথিবীর কোন ধর্মই কি ভালো নেই?”
 
তসলিমা নাসরিন এর জবাব না দিলেও তার অন্য এক ভক্ত শোভন রহমান লিখেন, “ধর্ম মানেই অন্ধত্ব। অন্ধত্ব আপাত দৃষ্টিতে অনেকের কাছেই ভালো মনে হতে পারে, যে হ্যাঁ এটা মানুষকে কন্ট্রোল করছে, খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখছে, ধর্মের ভয়ে মানুষ খারাপ কাজ করছে না। কিন্তু, এই এক ধর্মান্ধতার কারণেই পৃথিবীর ইতিহাসে যত মানুষের জীবন গিয়েছে, অন্য কোনো কারণে তা যায় নি।”
 
তসলিমার জবাব না পেয়ে প্রশ্নকর্তা লিখেন, “হুম, বুঝলাম। কিন্তু আর একজনের কাছ থেকেও আশা করেছিলাম উত্তর।”
 
১৪ জুলাই ‘জাকির নায়েকের বাকস্বাধীনতা’ শিরোনামে বিডি প্রতিদিনে প্রকাশিত তার একটি লেখা শেয়ার করেন তসলিমা। এতে তিনি লিখেন, “জাকির নায়েকের ভাষণ আমি শুনেছি। তিনি মূলত কোরআন থেকেই উদ্ধৃতি দেন। কোরআনকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের, উদারতা-মানবতার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করেন। ইসলামে পুরুষের জন্য বহুবিবাহ, বহুগামিতা, বধূ নির্যাতন, ক্রীতদাসী-সঙ্গমের অনুমতি আছে, এসবকেও নানা যুক্তি দাঁড় করিয়ে তিনি মেনে নেন। জাকির নায়েকের চেয়েও হাজার গুণে ভয়ঙ্কর মোল্লা-মৌলানা আছেন, ভাষণ দিচ্ছেন বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায়, মসজিদে মাদ্রাসায়, ওয়াজ মাহফিলে, ইসলামী জলসায়।”
 
তার শেয়ার করা এ লেখায় ফেসবুকে মন্তব্য করেন দিপু মন্ডল। তিনি লিখেন, “সেই প্রশ্নটা আমারও, যেখানে সকলে শুনল, কিন্তু জঙ্গি হল দুজন, ভবিষ্যতে যে আর ঝুড়ি থেকে বিড়াল বের হবে না তারও কোনো গ্যারিন্টি নেই, তাই বলছি উদ্দেশ্য কোনোদিন ১০০% সফল একদিনে হয় না,ধীরে ধীরে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই প্রধান লক্ষ থাকে, তাহলে ওই ২০ কোটি মানুষ এতদিনে জঙ্গি হত, তার মধ্যে কিছু মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়ে সেই পথ অনুসরণ করেন। উদ্দেশ্য এর কিছু মাত্র এখনো সফল, এটাই একটু আশার বানী সারা বিশ্বে মনুষ্য সমাজের কাছে…., না হলে সমগ্র পৃথিবীকে এতদিনে ইসলামের কালো চাদরে মুড়ে দিত।”
 
ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত লেখালেখি করায় দেশের বাইরে কাটাতে হচ্ছে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। তিনি ১৯৮২ সালে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন। ১৯৮৬ তে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তার বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়। পরে ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়।
 
যৌন স্বাধীনতায় বিশ্বাসী তসলিমার কোনো সন্তান নেই।
 
১৯৯৪ সালের মে মাসে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলাম ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর ফলে দেশে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। দেশ জুড়ে তার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি রোয়ানা জারি করা হয়।
 
গ্রেফতার এড়াতে পরবর্তী দুই মাসে লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ