,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বিচ্ছিন্ন ঘটনায় শেষ কুমিল্লার ভোট, চলছে গণনা

লাইক এবং শেয়ার করুন

কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে জাল ভোট, সংঘর্ষসহ নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ব্যবস্থায় এখন চলছে ভোট গণনার কাজ। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। শুরু থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের প্রচুর উপস্থিতি ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি কমতে থাকে। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলে পরে কয়েকটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে জাল ভোট, সংঘর্ষ ও কেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যালট বাক্সে অবৈধ সিল মারাকে কেন্দ্র করে নগরের সিটি কলেজ কেন্দ্রে ২১ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী মঞ্জুরুল রমিত ও বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী মাহবুবের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে প্রায় ১০ জন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে বিজিবি ও পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এসময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষের কারণে সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পরে বিএনপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু সিটি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, সিটি কলেজ কেন্দ্র ছাড়াও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ দখল করে নিয়েছে। তারা কেন্দ্রগুলোতে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পুলিশের সামনে কেন্দ্রে ঢুকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়েছে এবং মারধর করেছে। দুপুর পৌনে একটার দিকে ৭ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে প্রকাশে সিল মারতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এসময় প্রিসাইডিং অফিসার প্রিজাইডিং অফিসার মো. দিদারুল ইসলাম বাধা দিলে তাকে লাঞ্ছিত করা অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রটিতে ওই সময়ে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোটার জানান, ‘প্রিসাইডিং অফিসার তাদের দাবিতে সম্মত না হয়ে তাদের বের হয়ে যেতে বলেন। এসময় তারা প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। ঠিক এসময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভাই ও স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের ছেলে প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে একটি ফোন ধরিয়ে দেন। ফোনের কথপোকথনের পর প্রিসাইডিং অফিসার দিদারুল ইসলাম হতাশ হয়ে পড়েন আর তার টেবিল থেকে ব্যালট বই নিয়ে ইচ্ছেমতো সিল মারতে থাকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা।’

চৌয়ারা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে জাট ভোট দিতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নেইরা হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে জাট ভোট দেয়ার সময় দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুই জনই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার সমর্থক। তাদের কাছ থেকে নৌকা প্রতীকের জাল ভোট উদ্ধার করা হয়।

নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে রাস্তার পাশে ১০টি হাত বোমা উদ্ধার করে র‌্যাব-১১। পরে এগুলো র‌্যাবের বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট নিস্ক্রিয় করে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মর্ডান স্কুল কেন্দ্রে জাল ভোটের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছে। এ ঘটনায় সুমন নামে একজনকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ইসহাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মূল ফটক আটকে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নিয়ে একদল যুবক পুলিশের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই সিল মারে। সাংবাদিকরা কেন্দ্রে গেলে উপস্থিত যুবকেরা তাদের কেন্দ্র ত্যাগের জন্য চাপ দেয়। তাদের প্রতি সায় দেয় পুলিশও। পুরো কেন্দ্রে ২০-২৫ জন যুবকের উপস্থিতি দেখা যায়।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ