,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে বিটিআরসি

লাইক এবং শেয়ার করুন

দেশের প্রথম বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দ করা তরঙ্গ বাতিল ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এর আগে বিকেলে বিটিআরসির কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে রাজধানীর মহাখালীতে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে যায়।

সিটিসেলের কাছে সংস্থাটির পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা। আদালতে নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবারের মধ্যে পরিশোধ করতে হতো ৩১৮ কোটি টাকা। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তারা দিয়েছে ১৩০ কোটি টাকা। আর এনবিআরকে দিয়েছে ১৪ কোটি টাকা।

এমন সব তথ্য জানিয়ে তারানা বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা না মানায় সিটিসেলের তরঙ্গ বাতিল করা হয়েছে।’

এর আগে  বিটিআরসি পাওনা টাকা পরিশোধের শর্তে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটিসেলকে কার্যক্রম চালানোর সময় দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে)সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ।

বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহাসিব হোসেন বলেন, বিটিআরসির পাওনা ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর মধ্যে প্রথম মাসে পুরো টাকার দুই ভাগ(দুই তৃতীয়াংশ) ও পরবর্তী মাসে বাকি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

আদালতে সিটিসেলের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অপরদিকে বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, খন্দকার রেজা-ই রাকিব ও মাহাসিব হোসেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও মাহাসিব হোসেন বলেন, ‘টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে সিটিসেল তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে। একইসঙ্গে ১৭ অগাস্টের পর থেকে প্রতিদিন বিটিআরসি আরো ১৮ লাখ টাকা করে পাওনা হচ্ছে। প্রতিদিনের এই টাকা অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। টাকা না পেলে বিটিআরসি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে বলেও জানানো হয়।’

এর আগে ২২ আগস্ট বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের হাইকোর্টের একক কোম্পানি বেঞ্চ ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটিসেলের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত ১৭ আগস্ট বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় সিটিসেলের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় বিটিআরসি। এ বিষয়ে জবাব দিতে সিটিসেলকে ৩০ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। সিটিসেলের গ্রাহকদের বিকল্প সেবা বেছে নেয়ার জন্য ৩১ জুলাই নোটিশ জারি করে বিটিআরসি। নোটিশে ১৬ আগস্টের মধ্যে গ্রাহকদের বিকল্প সেবা বেছে নেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়। সময়সীমা পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার পর্যন্ত বাড়ায় বিটিআরসি।

এর আগে গত বছর সিটিসেলের অন্যতম অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক তাদের ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার মার্কিন ডলারের পাওনার জন্য একটি মামলা করে। সেই মামলার শুনানিকালে ১৭ আগস্ট হাইকোর্টের একই বেঞ্চে সিটিসেলের কাছে পাওনা ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা দাবি করে বিটিআরসি। ওই মামলায় ৪ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ