,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

গরুর মূত্রে সোনার অস্তিত্ব খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

লাইক এবং শেয়ার করুন

ভারতের কয়েকজন বিজ্ঞানী দাবী করছেন তাঁরা গোমূত্রে সোনার অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। গুজরাটের জুনাগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক গোমূত্র নিয়ে চার বছর ধরে গবেষণা করে সোনা ছাড়াও প্রায় ৪০০ রকমের যৌগ খুঁজে পেয়েছেন, যা ওষুধের কাজ করবে। গোমূত্রে সোনার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার খবরে প্রাণী বিজ্ঞানীরা অবাক হলেও বলছেন এটা একেবারে অসম্ভব নয়।

“আমরা গত চারবছর ধরে প্রায় ৪০০ ‘গির’ প্রজাতির গরুর ওপরে গবেষণা চালাই। বিভিন্ন বয়সের গরুদের মূত্রের নমুনা নেওয়া হয়েছে দিনের আর বছরের বিভিন্ন সময়ে। প্রতি লিটার গোমূত্রে তিন থেকে ১০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে আমাদের গবেষণায়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন গবেষনা দলের প্রধান বি এ গোলাকিয়া।

ড. গোলাকিয়া ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনলজির বিভাগীয় প্রধান। গোমূত্রে মিশে থাকা সোনা কিন্তু একটা লম্বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সোনার পাতে পরিণত করতে হবে। গবেষকরা বলছেন প্রতি লিটার গোমূত্রকে প্রথমে থিতোতে দিতে হবে, তারপরে সেটাকে শুকিয়ে পাউডার পাওয়া যাবে। সেই পাউডার ৯৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রাখলে সেটা পরিণত হবে সোনার পাতে। তবে এখন যা সোনার দাম, তাতে প্রতি লিটার গোমূত্র থেকে অনেক পরিশ্রম করে যে সোনা বেরবে, তার মূল্য হবে গোটা তিরিশেক টাকা।

ড. গোলাকিয়ার কথায়, “সোনার থেকে অনেক বেশী মূল্যবান অন্যান্য যে বহু যৌগ আমরা পেয়েছি, সেগুলো। যে ৩৮৮ টা যৌগ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে যেমন বয়স ধরে রাখার ওষধিগুণ সমৃদ্ধ যৌগ আছে, তেমনই হার্টের অসুখ সারানোর মতো যৌগও আছে। তবে সবথেকে বেশী পরিমানে যা পাওয়া গেছে, তা হল মানসিক রোগীদের সারিয়ে তোলার মতো যৌগ। এগুলোর দাম ওইটুকু সোনার দামের থেকে অনেক বেশী।“

গোমূত্রে সোনা থাকা কী অস্বাভাবিক? পশ্চিমবঙ্গের প্রাণীরোগ বিজ্ঞানী ও প্রাণী-মৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অসীম ভট্টাচার্য বলছিলেন, “ এটা একটা বিস্ময়কর খবর ঠিকই। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে বিচার করলে একেবারে অসম্ভব নয়।“ ড. ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করছিলেন, “গোরু বা মাছের শরীরে যেমন আর্সেনিকের বিষ বা টিন-শিসার বিষ ঢোকে জল বা অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে, সেটা তো প্রমানিত। তাই কোনও ভাবে ‘গির’ প্রজাতির ওই গরুগুলি যে ঘাষ খেয়েছে বা যেখানে চড়েছে, সেই মাটি বা খাবারের মধ্যে যদি কোনওভাবে সোনা কোনও ভাবে থেকে থাকে তাহলে এটা সম্ভব।

ওই মাটিতে সোনা সরাসরি নাও থাকতে পারে, কোনও একটা যৌগর মাধ্যমে খুব স্বল্প হারে তার উপস্থিতি থাকতে পারে, সেটাই গরুগুলির শরীরে প্রবেশ করেছে আর গোমূত্রের মাধ্যমে সেটা বেরিয়ে আসছে। জুনাগড় বিশ্ববিদ্যালয় যে অন্য দাবীটি করেছে গোমূত্রে বিভিন্ন রোগ সারানোর যৌগ পাওয়া গেছে বলে, তা নিয়ে বিতর্ক অনেক পুরণো। কোনও কোনও হিন্দু পুরাণে গোমূত্র সেবনের কথা লেখা রয়েছে।

বি জে পি র সর্বভারতীয় নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলী মনোহর যোশী নিজে নামকরা পদার্থবিজ্ঞানী। তিনিও গোমূত্রের রোগসারানোর ক্ষমতাসম্পন্ন বিভিন্ন যৌগের কথা মন্ত্রী থাকাকালীন বারে বারে উল্লেখ করেছেন।কিন্তু গোমূত্রে সোনা কীভাবে এল বা আদৌ তার মধ্যে মিশে থাকা যৌগগুলি কতটা রোগসারানোর উপযোগী, তা নিয়ে এখনও আরও গবেষণার যে প্রয়োজন রয়েছে, সেটা সকলেই স্বীকার করছেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ