,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সু-সম্পর্ক চাই, কিন্তু অন্যায় মেনে নিতে পারি না : প্রধানমন্ত্রী

লাইক এবং শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা শান্তি চাই।  প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমরা সু-সম্পর্ক চাই। কিন্তু কোনো অন্যায় আমরা মেনে নিতে পারি না।  রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে হবে।  তাণ্ডব বন্ধ করতে হবে।’ মঙ্গলবার সকালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় আমারা আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি। স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। ঘরবাড়ি হারিয়ে আপনারা যারা এখানে এসেছেন তারা সাময়িক আশ্রয় পাবেন।  আমরা আপনাদের পাশে থাকব। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে।  পরে সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম ও মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে একদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমদসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কক্সবাজারের উখিয়ায় এসে পৌঁছান। আজ শেখ হাসিনা উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আরও কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন।  কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবিরের কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি। এরপর সার্কিট হাউজে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।  নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে আজ বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এটাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যেন আলোর দিশা দেখছেন মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।  সংকট উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই অভিভাবক ভাবছেন তারা।  অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয় বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা।

বালুখালী ক্যাম্পে অবস্থানকারী নুরুল বশর (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কাজ করবেন বলে বিশ্বাস করি।  আমরা নিজ দেশে যেতে চাই।’ গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর এখন পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশের তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন-পুরাতন মিলে বাংলাদেশে ৭ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ