,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ভিক্ষুক যখন কোটিপতি

লাইক এবং শেয়ার করুন

সিনিয়র রিপোর্টার :

বাঘারপাড়ার করিমপুর গ্রামের জরিনা খাতুন প্রায় ৪০ বছর যাবৎ ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। দীর্ঘদিনের ভিক্ষা করা অর্থ থেকে তিলে তিলে জমানো অর্থ দিয়ে ক্রয় করেছেন করিমপুর মৌজার প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি। এছাড়া ১০/১২ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি বাড়ির এর কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ঘরের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে। জরিনা খাতুনের এই কোটিপতি হওয়াার গল্প এখন এলাকাবাসী মুখে মুখে। জরিনা খাতুনের নিকট তার জীবন এই গল্প জানতে চাইলে তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে বলতে থাকেন তার হৃদয়স্পর্শী জীবন কাহিনী। তার স্বামীর নাম ছিল দলিল উদ্দীন। তারা অন্য গ্রামের বাসিন্দা। জরিনা খাতুন হত দরিদ্র পিতা মহর সরদরের কন্যা। বিয়ের পর অর্থ কষ্টে অনাহারে ও অর্ধাহারে জীবন কেটেছে তার। একসময় স্বামীকে নিয়ে পিত্রালয়ে এসে পরের জায়গায় কুড়ে ঘর বেধে বসবাস শুরু করেন। তিন কন্যা ও এক ছেলে সন্তান হওয়ার পর হঠাৎ করে স্বামী মারা যাওয়ায় জরিনা খাতুনের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। সন্তানদের নিয়ে তিনি পড়ে যান তিনি মহা চিন্তায়। সংসারে একমাত্র উপার্জন ক্ষম স্বামীকে হারিয়ে হয়ে পড়েন অসহয়, উপায় অন্ত না পেয়ে নেমে পড়েন ভিক্ষাবৃত্তিতে।

প্রথম দিকে সারাদিন ভিক্ষা করে সন্তানদের মুখে দু‘বেলা খাবার দিতে পারতো না সে। বড় মেয়ে জুলাইখা দু‘বেল খাবারের বিনিময়ে পরের বাড়িতে কাজ করত। বর্ষাকালে ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ত। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সারা রাত ভিজে ভিজে রাত কাটাত হতো তার। এসব কথা বলতে বলতে জরিনা খাতুন কেঁদে বুক ভাসান। এর পর সাফল্যের কাহিনী বলতে বলতে মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তিনি জানান যে, ভিক্ষার চাল সব না খেয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অর্ধাহারে ও অনেক সময় অনাহারে থেকে কিছু কিছু সঞ্চয় করে এক সময় তা বিক্রয় করে প্রতিবেশী নওশের খাঁনের নিকট জমা রাখত। কিছু টাকা জমার পর কিচ’ জমি বন্ধক রেখেছিল।এব্যাপারে তিনি নওশের খাঁনের সহযোগীতার কথা কখনও ভুলবেন না বলে জানান।

এভাবেই তার সঞ্চয় শুরু হয়। পর্যাক্রমে মেয়েদের বিবাহ দেয় হয়। এতে সঞ্চয়ের বেশ কিছ’ টাকা খরচ হয়ে যায়। তার পর ও জরিনা খাতুন থেমে থাকেনি। ভিক্ষা ও সঞ্চয় একই সাথে চালিয়ে গেছেন। এক সময় জমি কেনা শুরু করেন। এভাবে প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়েননি। এ বছর দুইতলা বিশিষ্ট ভীত্ব দিয়ে ৪ রুমের ফ্লাট বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেছেন। যার কাজ ৭০ ভাগ ইতি মধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। নির্মানাধীন ঘরটি ছবি তুলতে চাইলে তিনি আনন্দে কেঁদে ফেলেন। জরিনা খাতুনের সাফল্যে এলাকাবাসী বিস্মিত।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ