,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আইপিইউ সম্মেলন বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছে: স্পিকার

লাইক এবং শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৩৬তম সম্মেলন আয়োজন বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সংসদ ও সহযোগী সংস্থা থেকে আগত প্রতিনিধিদের এ মিলন মেলা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রে আইপিইউ অ্যাসেম্বলিতে আগত থাইল্যান্ড, পোল্যান্ড ও মঙ্গোলিয়ার ডেলিগেশন প্রধানরা স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। ডেলিগেশন প্রধানরা স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ১৩৬তম আইপিইউ অ্যাসেম্বলি, বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রম, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে আইপিইউ অ্যাসেম্বলির মতো বৃহৎ আয়োজন করতে পেরে গর্বিত। অ্যাসেম্বলিকালীন প্রতিনিধি দলের প্রত্যেক সদস্য ইভেন্টগুলো উপভোগ করবে এবং অ্যাসেম্বলি কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। থাইল্যান্ড ন্যাশনাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির প্রথম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও প্রতিনিধি দলের প্রধান সুরাচি লিয়েন বুনলার্টচাই সাক্ষাত করেন। এ সময় স্পিকার বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। বাংলাদেশে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এখন দৃশ্যমান।

এ সময় শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আমন্ত্রণ এবং পাটজাত দ্রব্য, তৈরি পোশাক শিল্প, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও চামড়া শিল্পে পিপিপি ও বিওটি পদ্ধতিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের সংবিধান নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন। এ সময় থাইল্যান্ড প্রতিনিধি দলের প্রধান থাইল্যান্ডের নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়টি স্পিকারকে অবহিত করে বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং উন্নয়ন অংশীদার।

স্পিকার বাংলাদেশের সংবিধানকে বিশ্বের অনন্য সংবিধান উল্লেখ করে বলেন, থাইল্যান্ড নতুন সংবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানকে অনুসরণ করতে পারে। পোল্যান্ড প্রতিনিধি দলের প্রধান সংসদ সদস্য এলজবিয়েটা ক্রুকের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, পোল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বি-পাক্ষিক চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। তিনি পাটজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য ও ওষুধ বাংলাদেশ থেকে আমদানির আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।

স্পিকার পোল্যান্ডের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। পোল্যান্ড প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, ১৩৬তম আইপিইউ অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দরভাবে আয়োজন করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ইউরোপের মধ্যে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্বাধীন দেশ হিসেবে পোল্যান্ড বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরবর্তী নির্বাচনে পোল্যান্ড একমাত্র প্রার্থী। এক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।

এ সময় স্পিকার প্রয়োজনীর সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। বাংলাদেশের জনসমষ্টির সিংহভাগ তথা শতকরা ৬৫ ভাগই তরুণ। এ জনশক্তিতে কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মঙ্গোলিয়ার ডেলিগেশন হেড, মঙ্গোলিয়া পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান মাইয়েগম্বো অ্যাংখ্বোল্ড স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গোলিয়া ডেলিগেশন প্রধান বাংলাদেশ ও মঙ্গোলিয়া সংসদীয় প্রতিনিধি পর্যায়ে সম্পর্কোন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ভাব বিনিময় ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে তিন দেশের প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

–যমুনানিউজ

লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ