,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ইউনূসের প্রশংসা করায় মুহিতের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

লাইক এবং শেয়ার করুন

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ অবদান রেখেছে- এমন বক্তব্য দেয়ায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য কমায় না, যারা এই ঋণের ব্যবসা করে তাদের লাভ হয়। আর অর্থমন্ত্রী এসব বিবেচনায় না নিয়ে এমন একজনের প্রশংসা করেছেন যার কারণে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল হয়ে গেছে।

শনিবার রাজধানীতে মহিলা আওয়ামী লীগের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দারিদ্র্যের হার ৬০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২২ শতাংশ করেছে। এটা আরও কমাবে। যদি ক্ষুদ্র ঋণ দারিদ্র্য বিমোচন করতো, তাহলে কেন এই হার এক সময় ৬০ শতাংশ ছিল।

গত বৃস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ এ সময় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনুসেরও প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, ‘ দেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রথম হত দরিদ্রের মাঝে ক্ষুদ্রঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে। এরপর থেকে অনেক সংস্থা ও এনজিও এ খাতে এসেছে। তারা হত দরিদ্রের মাঝে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের কারণে দেশে দারিদ্র্যের হার অনেক কমেছে।’

এমন বক্তব্য দেয়ায় অর্থমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অনেকেই ক্রেডিট নেন। কদিন আগে আমাদের অর্থমন্ত্রী খুব ক্ষুদ্রঋণের প্রশংসা করে বললেন যে, ক্ষুদ্রঋণের জন্য নাকি দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন যদি তার জন্যই হতো, তাহলে আর ৬০ ভাগের মতো দারিদ্র্য থাকে কেন কীভাবে আর এটা ২২ ভাগে নেমে এসেছে কবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অর্থমন্ত্রীকেই বলবো, ওনি তিনি যদি হিসাব নেন, দারিদ্র যে ২২ ভাগে নেমে এসেছে, সেটা কাদের আমলে? আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ… যেটা মাননীয় অর্থমন্ত্রীও কর্মসূচি দিয়েছেন আবার কিবরিয়া সাহেব যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তাকে দিয়েও আমি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সালে যেসব কর্মসূচি নিয়েছিলাম, তারই ফলাফলে আজকে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুদ্রঋণে দারিদ্র্য লালন পালন হয়। আর যারা ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করেন, তারা সম্পদশালী হয়, তারা ধনশালী হয়। কারণ, সপ্তাহে সপ্তাহে উচ্চহারে সুদ; ওই গরিবের মেয়েরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে টাকা কামাই করে সে টাকা সুদ হিসেবে চলে যায়। সে কোনোমতে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু দারিদ্র্যের হাত থেকে উঠে আসতে পারে না। যারা এই ব্যবসা করে, তারা চায়ও না এরা দারিদ্র্য থেকে উঠে আসুক। কারণ দারিদ্র্য থেকে উঠে আসলে তাদের ব্যবসাই চলে যাবে। তারা কাকে নিয়ে ব্যবসা করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার দুঃখ লাগে সেদিন তিনি (অর্থমন্ত্রী) এমন একজনের প্রশংসা করে ফেললেন, যার কারণে আমার পদ্মাসেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিলো ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। …অথচ তিনি তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।’ পদ্মাসেতুর কাজ শুরুর আগে আগে ২০১০ সালে দুর্নীতির চক্রান্তের অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক আর ২০১০ সালের ৩০ জুন ঋণচুক্তি বাতিল করে। প্রধানমন্ত্রী তখন থেকেই বলে আসছেন, ড. ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ায় বিশ্বব্যাংক এই অভিযোগ তুলেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে সে সময় এ বিষয়ে একাধিকবার চাপও দিয়েছিল।

অবশ্য বিশ্বব্যাংকের অভিযোগর বিষয়ে কানাডার একটি আদালতে করা মামলা সম্প্রতি খারিজ হয়ে গেছে। আর বিচারক বিশ্বব্যাংকের অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ ও ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মাসেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি-কানাডার কোর্ট সেটা রায় দিয়েছে এবং আজকে প্রমাণিত যে চ্যালেঞ্জ আমি নিয়েছিলাম, সেটা সঠিক।’

দীর্ঘ বক্তব্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নানা প্রকল্পের বর্ণনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল কাজটা হচ্ছে গ্রামে টাকা দেয়া। সেখানে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে সে দিকে লক্ষ্য রেখে নানা কর্মসূচি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি বলেই আজকে বাংলাদেশে পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরেই দারিদ্র্যের হার কমতে শুরু করেছে। মাঝখানে বিএনপি আসার পর পাঁচ বছর এবং তত্ত্বাবধায়কের দুই বছর-এই সাত বছর দারিদ্র্যবিমোচন থমকে ছিল। পরে ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকারে আসি তখনও দারিদ্র্যের হার আমরা পেয়েছিলাম ৫০ ভাগের কাছাকাছি। সেখান থেকে আট বছরের মধ্যে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২২ ভাগে নিয়ে এসেছি। এবং আমরা আরও কমাবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কোনো মানুষ দরিদ্র্য থাকবে না। দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে এসেছি জনগণের জন্য। নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য না, ব্যবসা করার জন্য না। দারিদ্র্য হ্রাস পেলে ব্যবসা করে বড়লোক হওয়ার জন্য বিত্তশালী হওয়ার জন্য আসি নাই। এসেছি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে। এসেছি জনগণের সেবা করতে, জনগণের কল্যাণ করতে, জনগণকে সুন্দর জীবন দিতে। যার কারণে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হচ্ছে।’

<

p style=”text-align: right;”>–ঢাকাটাইমস


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ