,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে
An officer of Bangladesh Army mourns while carrying the coffin of a slain colleague during the funeral for the victims of Bangladesh Rifles (BDR) mutiny in Dhaka, Bangladesh, March 2, 2009. At least 73 people, including 57 army officers deputed at the paramilitary force, were killed in the two-day bloody revolt in Bangladesh capital on February 25-26, 2009. The uprising was first staged at the BDR Headquarters in Dhaka over low pay and poor condition, and it sparked off mutinous demonstrations in other establishments of the border force across the country. Some 3,500 border guards have been accused in some 40 cases in connection with the rebellion around the country and around 4,000 BDR soldiers were arrested and set to be tried on charge of the mayhem. Photo: Qamruzzaman

পিলখানার বিডিআর ট্রাজেডির ৮ম বার্ষিকী আজ

লাইক এবং শেয়ার করুন

আজ পিলখানা ট্রাজেডির ৮ম বার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিন ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নাটক মঞ্চস্থ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্ত্র প্রহরী দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে বাংলাদশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল।  ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশের র্দীঘ প্রায় ২০০ বছররে ঐতিহাসিক বিডিআর চেতনাকে ধ্বংস করেছে। প্রতিদিনের মতোই স্বাভাবিক একটি সকাল হয়েছিল। কিন্তু শেষ হয় রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধে। সেদিন পিলখানায় বিডিআর জওয়ানরা গুলাগুলি শুরু করলে শুধু পিলখানা নয়, সারা দেশের চিত্রই যেন পাল্টে যায়। পিলখানায় হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার দরবার হলে সৈনিকরা দরবারে যোগ দেন। যোগ দেন বিডিআরে প্রেষণে দায়িত্ব পালনকারী সেনা কর্মকর্তারাও। সকাল ৯টার দিকে কোরআন তেলাওয়াত ও তরজমার পর তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক শাকিল আহমেদ উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দরবার শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মঞ্চে ডিজির পাশের দিক দিয়ে ১৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহি মাইন স্টেজে উঠে ডিজির দিকে অস্ত্র তাক করে। এ সময় ৪৪ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহি কাজল তার পেছনে পেছনে আসে। কজন সেনা কর্মকর্তা সিপাহি মাইনকে ধরে ফেললে সে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর সিপাহি কাজল দরবার হলের গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। পিলখানা হত্যাযজ্ঞ মামলায় সাক্ষী নায়েক মো. মোতালেব মিয়া আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, তখন দরবারে বসা সৈনিকদের মধ্যে থেকে কিছুসংখ্যাক সৈনিক সমস্বরে জাগো বলে উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। এ আওয়াজ শুনে দরবারের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ডিএডি, জেসিও, এনসিও ও বিভিন্ন পদবির সৈনিক দাঁড়িয়ে যায়।

তখন ডিজি সবাইকে বলেন, ‘আপনারা সবাই বসুন, কেউ বাইরে যাবেন না, আমি আপনাদের সব কথা শুনব।’ ওই সময় দরবার হলের বাইরে গুলির শব্দ হলে উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সৈনিক উঠে বিভিন্ন দিকে জানালার কাচ ভেঙে যে যেদিকে পারে বের হয়ে যায়। সৈনিকরা যখন বের হয়ে যাচ্ছিল তখন ডিজি মাইকে বলেন, ‘সব পর্যায়ের অধিনায়করা যার যার ইউনিটে গিয়ে পরিস্থিতি ও সৈনিকদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করুন।’ মেজর মো. ইকবাল হাসান সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ডিজি সকাল ৯টার দিকে দরবার হলে যান। তিনি দরবারে আসার পরই অনুষ্ঠান শুরু হয়।

প্রথমে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত হয়। তারপর ডিজি সবার উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্যে তিনি বিডিআর সদস্যদের বিডিআর সপ্তাহের সফলতার কথা স্বীকার করেন এবং ডাল-ভাত কর্মসূচির ইতিপূর্বে যে লাভ হয়েছিল, তা আপনাদের র‌্যাংক অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় কিস্তিতে আপনারা টাকা পেয়েছেন। ‘নরম সুরে ফোর্সরা বলে, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কাছে আরো বেশ কিছু টাকা আছে, যা সরকারকে কিছু ফেরত দিতে হবে। অবশিষ্ট টাকা আপনাদের কল্যাণে খরচ করা হবে। এসব কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে একটা শব্দ হয়।

দরবার হলের পূর্ব-দক্ষিণ কর্নার থেকে অস্ত্র হাতে সিপাহি মাইন এবং তার পেছনে সিপাহি কাজলকে মঞ্চে ডিজির কাছে আসতে দেখা যায়। বিভিন্ন সূত্রমতে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কিছু সময় পরই হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। বিডিআরের তৎকালীন ডিজিসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে তারা। বিদ্রোহীদের হাতে ৯ জন বিডিআর জওয়ানসহ একজন সেনা সদস্যও নিহত হন। এ ছাড়া ছাত্র, দোকানি মিলিয়ে মারা যায় আরো সাতজন। সব মিলিয়ে হত্যার শিকার হন ৭৪ জন।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল পৌনে ৪টার দিকে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ডিএডি হাবিব, ডিএডি নাসির, ডিএডি রহিম, ডিএডি জলিল, সিপাহি সেলিম রেজা, সিপাহি মনির, সিপাহি মনিরুজ্জামান, হাবিলদার রফিকসহ ১২-১৪ জন বিডিআরের একটি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন বাসভবন যমুনায় আসেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী আলোচনার জন্য আগত বিডিআর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা আত্মসমর্পণ করো এবং অফিসার ও পরিবারদের এখনই ছেড়ে দিতে হবে। এখনই পিলখানায় ফোন করে অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দাও। তিনি তিন বাহিনীর প্রধানগণকে দেখিয়ে বলেন, তিন বাহিনীর প্রধানরা এখানে আছেন। তোমরা যদি আত্মসমর্পণ না করো, তাহলে তারা কঠিন অ্যাকশনে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার পর বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্যে পিলখানায় চলে যায়। বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার সময় পিলখানায় সেনা অফিসারদের হত্যার ব্যাপারে কোনো কিছুই বলেনি। অবশেষে বেশির ভাগ বিদ্রোহী বিডিআর সদস্য পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সেনা অভিযানের ঘোষণা শুনে বিকেলে সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়। যারা পিলখানায় ছিল তাদের পুলিশ সদস্যরা বিডিআর হাসপাতালে নিয়ে আটকে রাখেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ