,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সৌদিতে চাকরিচ্যুত বাংলাদেশিরা অন্যদের খাবার ভাগাভাগি করে বাঁচাচ্ছেন জীবন

লাইক এবং শেয়ার করুন

সৌদি আরবে চাকরিচ্যুত বাংলাদেশিরা খাদ্যাভাবে অন্যদের খাবার ভাগাভাগি করে খেয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন। চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকরাও রয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর আগ  পর্যন্ত দূতাবাস থেকে খাবার ও অন্যান্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষথেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খাবার সরবারহ না করায় তাদের মানবেতর জিবন যাপন করতে হচ্ছে। 
 
ভারতের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতীয় দূতাবাস তাদের শ্রমিকদের যে খাবার দিচ্ছে তা বাংলাদেশের অনেক শ্রমিক ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। সৌদি আরবে আটকা পড়া শ্রমিকদের একজন ফরিদপুরের মিজানুর রহমান। আঠারো বছর ধরে তিনি সেখানে কাজ করছেন। কিন্তু হঠাৎ করে কাজ হারানোয় এবার তার দিন কাটছে কোনও রকমে একবেলা খেয়ে। তিনি টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখন একবেলা খানা খাই। তিন বেলার খাবারের জায়গায় দিনের মধ্যে একবেলা খাই। ভারতের কিছু বড় বড় কোম্পানি আছে তারা সাহায্য করছে। তারা মূলত ভারতীয়দের সাহায্য করছে, সেখান থেকে আমরাও কিছু কিছু পাই।
 
তিনি অভিযোগ করেন, দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিবেন কিভাবে? দূতাবাসের কোনও কর্মকর্তা এসে দেখেন নি আমরা কি অবস্থায় আছি। খেয়ে আছি, নাকি না খেয়ে আছি, সেটা এসে কেউ দেখে নাই। শুধু বলে আসবো আসবো।
 
মিজানুর রহমান জানান, যেখানে তিনি কাজ করতেন সেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ফিলিপিন্স এবং শ্রীলংকার শ্রমিকরা কাজ করতো। একবছর আগে কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়। গত চারমাস ধরে খাওয়াও বন্ধ করে দেয়া হয় । ইসলামী দাওয়াত সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান রমজান মাসে খাবার দিয়েছিল। এরপর আরেকটি কোম্পানি কিছু চাল-ডাল দিয়ে যায়। পাকিস্তান এবং ভারতীয় কোম্পানি সাহায্য করেছে।
 
এখন করুণ অবস্থা কারও কাছে এক টাকাও নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, কারও আকামা নাই। আকামা ছাড়া গেটের বাইরে যাওয়া যায় না। গেটের বাইরে গেলেই পুলিশ আক্রমণ করে। একবার পুলিশ ধরলেই ২০হাজার টাকা জরিমানা করে। এখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনও মন্ত্রী বা বড় কোন বড় মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো একটা কিছু হবে। যদি কোনও প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে কাজ করতে পারি, তা বদলি হতেও ৭০/৮০ হাজার টাকা লাগে। মানুষ খেতেই পায় না এত টাকা কোথা থেকে দিব?
 
আরেকজন বাংলাদেশী শ্রমিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকার আব্দুল করিম জানান, ১৪০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক এখন এ অবস্থায় আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর পক্ষে তার একান্ত সচিব ইয়াসিন আদনান জানান, আমাদের কাছে বেকার হওয়ার নিয়মিত তথ্য রয়েছে কিন্তু দূতাবাস থেকে তাদের খাবার দেওয়া হচ্ছে এ ধরনের তথ্য নেই। 
 
গতকাল বিবিসি বাংলাকে সৌদি রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানান, একটি কোম্পানির ২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে। তাতে শ্রমবাজারের কোনো সমস্যা হবে না। ২০ বছর চাকরি করার পর একজন শ্রমিক সাময়িক বেকার হতে পারেন। আমরা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আদায়ের চেষ্টা করছি। আমরা তাদের খাবার সরবরাহ করছি ও তাদের কর্মস্থল পরিবর্তনের প্রস্তাবও করা হয়েছে। সৌদি আরবে অর্থনৈতিক মন্দার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অনেক শ্রমিক এখন বেকার রয়েছেন। 
 
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা যাতে চাকরি করতে পারেন বা দেশত্যাগ করতে পারেন সে লক্ষে বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শ্রমিক গত ৭ মাস যাবত বেকার রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৪৪ জন বাংলাদেশি।

লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ