,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

নেইমারের লালকার্ডে বার্সারও লালকার্ড

লাইক এবং শেয়ার করুন

বার্সার ত্রিফলার মধ্যে একজন নেইমার। কালরাত বার্সার জন্য দু:স্বপ্নের রাত হয়ে রইবে। কারণ এদিন বার্সার পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে লালকার্ড দেখে মাঠ থেকে বের হয়ে যান নেইমার। খেলার ৬৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের দিয়েগো লরেন্তেকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় লালকার্ড দেখে বহিষ্কার হন নেইমার।
আগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট হারানোয় শীর্ষে ওঠার সুযোগ ছিল বার্সেলোনার। কিন্তু মালাগার বিপক্ষে জ্বলে উঠতে পারলো না তারকাসমৃদ্ধ দলটি। উল্টো হারের তেতো স্বাদ নিয়েই ফিরতে হলো লুইস এনরিকের দলকে। আর এ নিয়ে শেষ তিন অ্যাওয়ে ম্যাচের দুটিতেই হারের স্বাদ পেল এনরিকের দল।

শনিবার রাতে লা লিগায় মালাগার মাঠে ২-০ গোলে হারে বার্সেলোনা। এই নিয়ে শেষ তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচের দুটিতে হারলো তারা। গত মাসে দিপোর্তিভো লা করুনার মাঠে ২-১ গোলে হেরেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এবারের লিগে এখন পর্যন্ত হওয়া ৩১ রাউন্ডে মাত্র দুটি ম্যাচেই গোল করতে ব্যর্থ বার্সেলোনা এবং দুটিই এই মালাগার বিপক্ষে। গত নভেম্বরে ঘরের মাঠে লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।

শীর্ষে ওঠার হাতছানিতে মাঠে নামা বার্সেলোনা ১৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে জর্দি আলবার লম্বা করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন সুয়ারেস। কিন্তু এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে পারেননি, দু-হাত উঁচু করে তার শট ঠেকিয়ে দেন কালোর্স কামেনি। মেসির নৈপুণ্যে ৩০তম মিনিটে আরেকটি দারুণ আক্রমণ করে বার্সেলোনা। এক জনকে কাটিয়ে দুজনের মধ্যে দিয়ে অসাধারণ পাস দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক; কিন্তু ধীরগতির আন্দ্রে গোমেস শট নিতেই পারলেন না!

দুই মিনিট পর খেলার ধারার বিপরীতে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় মালাগা। নিজেদের সীমানা থেকে হুয়ান কার্লোসের লম্বা উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ডি-বক্সে ঢুকে নীচু শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার সাবেক স্ট্রাইকার সান্দ্রো। ৫৮তম মিনিটে আরেকটি গোল খেতে বসেছিল বার্সেলোনা। বাঁ-দিক থেকে সান্দ্রোর বাড়ানো আড়াআড়ি পাস ফাঁকায় পেয়েও গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে বসেন মিডফিল্ডার হুয়ানপি। সাত মিনিট পর বড় ধাক্কাটি খায় অতিথিরা। দিয়েগো লরেন্তেকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নেইমার।

৭২তম মিনিটে দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে বল জালে পাঠিয়েছিলেন মালাগার পেনারান্দা। কিন্তু অফসাইডের বাঁশি বেজে ওঠে। অবশ্য টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় অফসাইড ছিলেন না ভেনেজুয়েলার এই মিডফিল্ডার। ছয় মিনিট পর সার্জিও রবের্তো ফাউলের শিকার হলে ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। তবে পেনাল্টির আবেদন করে বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। এবারও টিভি রিপ্লেতেও দেখা যায়, ডি-বক্সের ঠিক ভিতরেই ফাউলটি হয়েছিল।

৮৯তম মিনিটে সুয়ারেসের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন ক্যামেরুনের গোলরক্ষক কামেনি। আর নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহুর্তে জোনাথন রদ্রিগেস ব্যবধান দ্বিগুণ করলে হার নিশ্চিত হয়ে যায় বার্সেলোনার। স্বদেশি মিডফিল্ডার পাবলো ফোর্নালসের পাস পেয়ে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন জোনাথন। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি-ইনিয়েস্তা-সুয়ারেজরা।

বার্সা-মালাগা ম্যাচের আগে সান্তিয়াগো ‍বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ মাদ্রিদ ডার্বি ১-১ গোলের ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়। ঘরের মাঠে পেপের হেডে এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট হাতছাড়া করে রিয়াল মাদ্রিদ। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদকে সমতায় ফেরান অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান।

শীর্ষে ওঠার সুযোগ হারানো বার্সেলোনার লিগে এটি চতুর্থ হার। ৩১ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে তারা। পয়েন্ট টেবিলে এক ম্যাচ হাতে রেখে তিন পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের (সবশেষ ২০১১-১২) পথে ছুটছে রিয়াল। ৩১ ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অ্যাথলেটিকো। ১ পয়েন্ট কম নিয়ে চতুর্থ স্থানে সেভিয়া।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ