,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

বরিশালকে হারিয়ে শীর্ষে মাহমুদউল্লাহর খুলনা

লাইক এবং শেয়ার করুন

বিপিএলের চতুর্থ আসরে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনার বিপক্ষে রান করতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে দলগুলোকে। শনিবার চট্টগ্রাম পর্বের একমাত্র ম্যাচেও সেই চিত্র দেখা গেল। বরিশাল বুলসের বিপক্ষে ১৫১ রানের মাঝারি মানের সংগ্রহ নিয়েও জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বরিশালকে ২২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করল খুলনা।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে খুলনাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বরিশালের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। শুরুর চাপ সামলে মাহমুদউল্লাহ ও রিকি ওয়েসেলসের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় খুলনা। সেটির পেছনে ছুটতে গিয়ে নির্ধারিত ওভারের তিন বল বাকি থাকতেই ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় বরিশালের ইনিংস।

বিপিএলের চতুর্থ আসরে এটি খুলনার টানা চতুর্থ জয়। ছয় ম্যাচে পাঁচ জয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসকে টপকে টেবিলের শীর্ষে ওঠে এসেছে মাহমুদউল্লাহর দল। অন্যদিকে বরিশালের এটি টানা দ্বিতীয় হার। প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করার পর টানা তিনটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল মুশফিকের দল। এরপর টানা দুই হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দক্ষিণবঙ্গের দলটি।

বরিশালের হয়ে মুশফিক ২৩ বলে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন। শাহরিয়ার নাফিস ২৮ রান করলেও ২৫ বল খেলেন; যেটি টি-টুয়েন্টির সঙ্গে বড্ড বেমানান। খুলনার হয়ে শফিউল ইসলাম সর্বোচ্চ চারটিটি উইকেট নেন। জুনায়েদ খান ও মোশাররফ হোসেন রুবেল নেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন মাহমুদউল্লাহ, ও কেভন কুপার। জয়ের জন্য ১৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফজল মাহমুদের উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে বরিশাল বুলস। এরপর দলীয় ২৫ রানের মাথায় জীবন মেন্ডিস আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় খুলনা।

শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর অনেকটাই ধীর হয়ে যায় বরিশালের রান তোলার গতি। ফলে রান-রেটের চাহিদাও তর তর করে বাড়তে থাকে। রান রেট বাড়াতে মারতে গিয়ে দলীয় ৪৫ রানের মাথায় শামসুর রহমান ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলে বেশ বিপাকে পড়ে যায় বরিশাল।

১০ ওভারে ৫০ রান করা বরিশালের জয়ের জন্য শেষ ৬০ বলে ১০২ রান দরকার ছিল। নাফিস ও মুশফিকের ব্যাটে আশার আলোই দেখতে শুরু করে দঙ্গিণবঙ্গের দলটি। এই দুজন ৩০ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়লে ম্যাচে ফিরে আসে বরিশাল। জয়ের জন্য ৭ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৬ ওভারে ৬৪ রান দরকার ছিল বরিশালের। তবে ১৪তম ওভারে মুশফিকের দলকে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে দেন মোশাররফ হোসেন। একই ওভারে নাফিস ও থিসারা পেরেরাকে আউট করে খুলনাকে ম্যাচের লাগাম এনে দেন তিনি।

১৬তম ওভারে মুশফিককে ক্যাচ আউট করে বরিশালকে আরো বিপদের মুখে ঠেলে দেন শফিউল। এরপর ১৭তম ওভারে আঁটসাট বোলিং করে খুলনাকে চালকের আসনে রাখেন জুনায়েদ। ফলে জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে ৪৬ রান দরকার পড়ে বরিশালের। কেভন কুপারের করা ১৮তম ওভার থেকে ১৪ রান নিয়ে ব্যবধান ১২ বলে ৩২-এ নামিয়ে আনেন এমরিত ও রুম্মান রইস। তবে জুনায়েদের করা ১৯তম ওভারে এমরিত বাউন্ডারি লাইনের কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরলে বরিশালের শেষ আশাটুকুও মিইয়ে যায়। ওই ওভার থেকে মাত্র ৭ রান আসায় শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২৫ রান প্রয়োজন ছিল মুশফিকের দলের।

শফিউলের করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে রইস বোল্ড হয়ে ফিরলে উৎসবের মঞ্চ পুরোপুরি তৈরি হয় খুলনার। তৃতীয় বলে তাইজুলকে ক্যাচ আউট করে খুলনাকে উৎসবের রঙে রাঙান শফিউল। এর আগে খুলনাকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ ও ওয়েসেলস। মাহমুদউল্লাহ ২৬ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪৪ রান করেন। ওয়েসেলসের ২৯ বলে ৪০ রানের ইনিংসটি ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো। এছাড়া আরিফুল হকের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে মূল্যবান ২৬ রান।

বরিশাল বুলসের সফলতম বোলার তাইজুল ইসলাম। ৪ ওভারের স্পেলে ১৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন রুম্মান রইস, রায়াদ এমরিত ও থিসারা পেরেরা। প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার নিজেদের সপ্তম ম্যাচে দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের মুখোমুখি হবে খুলনা। দুই দলের মধ্যকার প্রথম লেগে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছিল রংপুর। অন্যদিকে দিনের দ্বিতীয ম্যাচে বরিশাল খেলবে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে। প্রথম লেগে চিটাগংয়ের বিপক্ষে জিতলেও এবার তামিমদের শহরেই খেলতে হবে মুশফিকদের।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ