,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

মোদি বিরোধী মুখ মমতাই, বাংলা থেকে দিল্লি দখলের ডাক

লাইক এবং শেয়ার করুন

সুকুমার মিত্র, কলকাতা # বাংলা থেকে দিল্লি দখলের ডাক মমতার। দেশের অধিকাংশ আঞ্চলিক দলই মোদি বিরোধী মুখ হিসেবে মমতাকে পছন্দ করছে। সাংগঠনিক নির্বাচন থেকেই আজ শুক্রবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশল কি হবে তা ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী ও দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে লাগাতার প্রচার কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশও তিনি দেবেন। কোনও আত্মসন্তুষ্টি নয়, বিজেপিকে ঠেকাতে আগামি পঞ্চায়েত নির্বাচনকে তিনি পাখির চোখ হিসেবে দেখছেন তা তিনি এদিনের সভায় স্পষ্ট করে দেবেন। ২০১৯ –এর লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আগামি পঞ্চায়েত নির্বাচনকে তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে কর্মীদের নির্দেশ দেবেন।

তৃণমূলের মধ্যে ইতিউতি যাঁরা কোনও রকম দল বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এদিন ফের চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচিত হওয়ার পর সেই সমস্ত নেতাদের তিনি যে রেয়াত করবেন না তা দলীয় স্তরে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর পিছনে কারণ সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ গড়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও বেশি সময় দিতে হবে। রাজ্যে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দেশজুড়ে আঞ্চলিক দলগুলিকে এক ছাতার তলায় আনার জন্য মমতাই এখন দেশে মোদি বিরোধী রাজনীতির প্রধান মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। উত্তর থেকে দক্ষিেণ, পূব থেকে পশ্চিম সর্বত্র আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে রাজ্যের হাতে অধিক ক্ষ‌মতার দাবি, কেন্দ্রের বঞ্চনার মত ইস্যুকে তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।

বিশেষ করে নারদ স্টিং অপারেশনে শুধু কে.ডি. সিং নয় দলের আরও দু-একজন নেতা জড়িয়ে রয়েছেন এমন খবর নেত্রীর কাছে পৌঁছেছে। তবে তাঁদের নাম উল্লেখ না করে ইংগিতে তা বুঝিয়ে দেবেন তৃণমূল নেত্রী। অদূর ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেবেন এমনটাই মনে করছে তৃণমূলের অন্দরমহল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর রাজ্যে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে ভোটের হার বাড়ানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের পথে দলীয় নেতৃত্বকে চলতে হবে এমন কড়া হুশিয়ারিও তিনি দিয়ে রাখবেন। এক কথায় কোনও ধরনের উপদলীয় সংঘাতকে তিনি রেয়াত করবেন না। নেত্রী পূব আকাশে মেঘের মতই রাজ্যে গেরুয়া বাহিনীর উত্থানকে তিনি প্রধান বিপদের কারণ হিসেবে দেখছেন। তাই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে উড়িষার নবীন পট্টনায়ক, বিহারের লালুপ্রসাদ যাদব, নীতিশ কুমার, উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, মহারাষ্ট্র, কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটকের আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্বটি তিনি দ্রুত সেরে ফেলতে চান। অন্যদিকে গেরুয়াবাহিনীকে রুখতে নীতিশ সনিয়ার সহমত পোষণ ও নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে মমতার ঘনিষ্টতায় কপালে ভাঁজ পড়েছে মোদি-অমিতশাহ জুটির।

এছাড়া আঞ্চলিক দলগুলির সমন্বয়ের ক্ষেেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বজন গ্রাহ্যতাকে কেউ অস্বীকার করেন না। তৃণমূল নেত্রীর সর্বভারতীয় রাজনীতির সমীকরণে যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমনটাই নাকি মনে করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধিও। সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী থেকে সব অংশের মানুষের মধ্যে মমতার গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বাড়ছে। এর পাশাপাশি দেশের মহিলাদের মধ্যেও তাঁর বিশেষ একটি জায়গা রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন।

সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতার উঠে আসাটা নরেন্দ্র মোদি মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না। বিজেপির সাবেক নেতাদের কোণঠাসা করে মোদি যেভাবে দলকে পরিচালনা করছেন তা এল. কে. আদবানি, মুরলী মনোহর যোশি, রাম জেঠমালানিরা ভালভাবে দেখছেন না। আর তাই এঁদের মধ্য থেকে আদবানিকে রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যোগ্য বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। আর সেই কারণেই কফিন থেকে ২৫ বছর পর ফের তুলে আনা হল বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মামলাটিকে। দেশের শীর্ষ আদালত দুই বছর সময় সীমার মধ্যে তা নিষ্পত্তি করার রায় দেওয়ায় লালকৃষ্ণ আদবানির রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা বিশ বাঁও জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। আর এইসবই মোদি-অমিত শাহ, কৈলাশ বিজয় বর্গী, সিদ্ধার্থনাথ সিং, দিলীপ ঘোষেদের গভীর ষড়যন্ত্রের একটা অংশ বলে সংঘ পরিবারের অন্দর মহলের একাংশ মনে করছেন।

সংখ্যালঘু মুসলিম, দলিতদের মধ্যে মমতার জনপ্রিয়তা যে রয়েছে সেটা মেনেই সংঘ পরিবারের একাংশ মনে করছেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনার পর ওড়িষার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের পুলিশ প্রশাসন তৎপর হওয়াকে ভাল চোখে দেখছে না বিজেপি। বিশেষ করে পুজোয় মমতাকে বাধা দেওয়ার ঘটনার পর মমতা যেভাবে দাবি করেছেন ‘আমি প্রকৃত হিন্দু, ওরা হিন্দুর কুলাংগার।’ সাধারণ হিন্দু জনতার মধ্যে মমতা এক বিশাল জায়গা করে নিতে সক্ষ‌ম হয়েছেন। হিন্দুত্বের তাসের বিরোধিতা করতে বিজেপিকে ‘হিন্দুর কুলাংগার’ বলে অভিহিত করার মধ্যে তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক বিচক্ষ‌ণতার অনেকেই তারিফ করতে শুরু করেছেন। মমতার মুখে ‘জয় জগন্নাথ’ স্লোগান উড়িষার মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ