,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে
First President of India

ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষ এর অবসান হোক ।। শান্তনু দত্ত চৌধুরী

লাইক এবং শেয়ার করুন

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গেই আমি একমত নই।তা নিয়ে আমারও সমালোচনা আছে।কিন্তু যে কোনো সমালোচনা হতে হবে যুক্তিনিষ্ঠ ও শালীন।যে পোস্টটি করা হয়েছে একটু মনোনিবেশ করলেই দেখা যাবে মমতা দেবীকে সামনে রেখে একটি ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারই এদের উদ্দ্যেশ্য। ইমাম ও মোয়াজ্জিমরা ভাতা চাননি।এমনকি তাঁরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলেও যাননি।বহু ইমাম ভাতার জন্য আবেদনও করেননি।

অনুরূপভাবে দুর্গা পুজোতে রাজ্যজুড়ে পুরস্কার চালু করা ,রেড রোডে বিসর্জন শোভাযাত্রার সরকারি ব্যাবস্থা করার জন্যও হিন্দুরা দাবি জানাননি।উনি করলেন। একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এগুলি সরকারের কাজ নয়।সরকার অবশ্যই দেখবে যাতে প্রতিটি মানুষ স্বাধীন ভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে।কিন্তু সরকার কোনো ধর্মীয় কার্যকলাপ করবেনা।এখন এই শৃঙ্খলা কি কেন্দ্র কি রাজ্য সরকার কেউই মানেনা।

এবার রামনবমিতে বিজেপি ও আরএসএস-এর ডাকে অস্ত্র নিয়ে মিছিল!কে কবে এই রাজ্যে শুনেছে যে রাজনৈতিক দল ধর্মীয় মিছিলের ডাক দিয়ে নারী ও শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে হিন্দিভাষী মানুষরা ভক্তির সঙ্গে রামনবমিতে উপবাস করেন,তুলসিদাসের রামচরিতমানস শোনেন, গরিব মানুষদের খাওয়ান। তাঁদের তো কখনো অস্ত্র নিয়ে ঘুরতে দেখিনি।এই সব জিনিস আমদানি হয়েছে গোবলয় থেকে।ধর্মের নামে , রামচন্দ্রের তথাকথিত জন্মভূমি উদ্ধারের নামে রথযাত্রা, বাবরি মসজিদ ভাঙা,সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো ও বিভাজন ঘটিয়ে হিন্দুত্ববাদী ভোট ব্যাঙ্ক তৈরী।এই হীন কৌশল এরা এবার পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করতে নেমেছে।

এবার ‘মহরম’ প্রসঙ্গ।এটি মুসলমানদের মধ্যে মূলত ‘শিয়া’ সম্প্রদায়ের মানুষজন পালন করেন।শোকের পরব।কারবালার প্রান্তরে এজিদের বর্বর বাহিনীর হাতে হাসান ও হোসেনের আত্মবলিদানকে স্মরণ করা হয় এই পর্বে।ছেলেরা ওই অসম যুদ্ধ স্মরণ করে ‘সাজানো লড়াই’ করে। মহরমের দিন শহীদদের স্মরণে সুসজ্জিত ‘তাজিয়া দুলদুল’ বার করা হয়।

আমাদের প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদের আত্মকথা পড়ুন।তাতে তিনি লিখেছেন তাঁদের গ্রামে বর্ণ হিন্দুরা মসজিদ বানিয়ে মৌলবী এনে রেখেছিলো, বালকদের হাতেখড়ি ও প্রাথমিক পাঠ দেবেন বলে। মুসলমানরা দরিদ্র তাই তাঁদের মসজিদ বানানোর ক্ষমতা ছিলোনা।এমনকি মহরমের তাজিয়া দুলদুল হিন্দু মুসলমান একসঙ্গেই বার করতো।বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদের হাতে খড়ি দিয়েছিলেন গ্রামের বৃদ্ধ মৌলবী সাহেব।

আমি যে অঞ্চলে থাকি, সেই চেতলা হাটে, সেখানেও মহরমে মেলা বসে,তাজিয়া বের হয়।হিন্দুরা যোগ দেয়।মহরম ভীতি প্রদর্শনের জন্য নয়,শোক পালনের জন্য।ইতিহাসকে বিকৃত করা সংঘ পরিবারের অন্যতম রণকৌশল।কোনো রাজনৈতিক দল কখনো মহরম-এর মিছিল ডেকেছে নাকি?
এজিদের বর্বর বাহিনী একদা হাসান হোসেনকে নির্মম ভাবে হনন করেছিল।বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ মীর মোশারফ হোসেন রচিত ‘বিষাদ সিন্ধু’সেই কাহিনীকে অমর করে রেখেছে।আপনারা কি জানেননা যে পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে উগ্র ধর্মান্ধ সুন্নীরা মাঝে মধ্যেই মহরমের সময় শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ চালায়।এই দায়িত্ব কি এখন আমাদের দেশে দিলীপ ঘোষ ও তাঁর দল গ্রহণ করছে?

সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে দেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষকে সেই দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুধ্যে খেপিয়ে তোলে।জার্মানিতে এইভাবে হিটলার ইহুদিদের বিরুধ্যে অভিযান চালিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল।৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করেছিল। এই সব কিছুর পিছনেই আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে বিভক্ত করে বৃহৎ কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থ রক্ষা।নরেন্দ্র মোদির অর্থনীতি দেখলেই সেটা বোঝা যাবে।আদানি আম্বানীদের পোয়া বারো।সব কা সাথ সব কা বিকাশের আড়ালে এই দেশ পরিণত হচ্ছে আর একটি ধর্মান্ধ হিন্দু পাকিস্তানে।সতর্ক হোন। আপনি অনুগ্রহ করে এটি সবাইকে পাঠান।ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষ এর অবসান হোক।যুক্তিবাদ ও সহনশীলতার আলো ছড়িয়ে পড়ুক।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ