,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

দক্ষিণ কাঁথির উপনির্বাচনে বামদের ভোট গেরুয়া শিবিরে, জয়ের ব্যবধান বাড়াল তৃণমূল

লাইক এবং শেয়ার করুন

সুকুমার মিত্র, কলকাতা # দক্ষ‌িণ কাঁথির উপনির্বাচনে বামেদের ভোট গেরুয়া শিবিরে। অন্যদিকে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়েছে বামেরা। বামেরা ঘুরে দাঁড়াবে আর কবে? সাধারণ ভোট থেকে উপনির্বাচনের ভোটের ফলাফল হতাশজনক শুধু নয় জামানত রাখাটাও তাদের পক্ষ‌ে কঠিন হয়ে পড়ছে। রাজ্যে বিজেপি যখন দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে উঠে আসছে তখনও তৃণমূল কংগ্রেসই বামেদের মূল শত্রু। আর এই তত্ত্বই বামেদের ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের তথা রাজ্যের সামনে বিপদ বিজেপি না তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেশী সেই বিষয়টি একবারের জন্য তাঁরা ভেবে দেখছেন না। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর টুইট করেছেন তাতেও আক্রমণ করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। আর এই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস আব্দুল মান্নানদের অবস্থা অনেকটা হয়েছে নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গের সামিল।

কেন বামেদের ২২ শতাংশ ভোট বিজেপিতে গেল? কেন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে যে গেরুয়া হাওয়া বইছে তার মধ্যে দুই শতাংশ ভোট বাড়াতে পারল? এই সব বিষয়ে কোনও মন্তব্য করলেন না। আগামি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দক্ষ‌িণ কাঁথিতে বিপুল ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি উঠে আসায় সিপিএম দলে নীচু ও মাঝারি গোছের নেতা, কর্মীরা বিজেপির সঙ্গে তলায় তলায় গাঁটছাড়া বেঁধে ফেলেছেন। অনেক আগাম হলেও এখনই বলে দেওয়া সম্ভব রাজ্যের অধিকাংশ পঞ্চায়েত আসনে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে যেমন থাকবে তেমনি বামেদের তুলনায় অনেক বেশী আসনে জয়ী হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মত রাজ্যে অতি দ্রুত বিজেপির শাখা প্রশাখা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রামনবমীতে অস্ত্র হাতে মিছিল রাজ্যের হিন্দু ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে সিপিএমের ভোটে বড় ধরনের থাবা বসাতে সক্ষ‌ম হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ‌ মানুষের ভোটকে একত্র করে নিজেদের প্রাপ্ত ভোটের হার আগের ভোটের তুলনায় বাড়াতে সক্ষ‌ম হয়েছে। রাজনৈতিক মহলদের মতে, রাজ্যে এখন প্রধানত দুটি শিবিরের লড়াই উগ্র হিন্দুত্বের অর্থাৎ গৈরিক বাহিনীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই। ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই প্রবনতা কমবে বাড়বে ছাড়া কমবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল সেই দিকেই যাবে। তাহলে লোকসভার ৪২টি আসনের সবকটি আসনেই বামেরা তৃতীয় স্থানে চলে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিজেপিকে টক্কর দিতে হবে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বলা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্মনিরপেক্ষ‌ অবস্থানের জন্য। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বলেই রেখেছেন যে, ‘এই ফল আগামি ভবিষ্যতের সংকেত। কাঁথিতে আমাদের কিছুই ছিল না। কিন্তু জনতা বিজেপিকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন।’

প্রসঙ্গত, দক্ষ‌িণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রত্যাশিতভাবেই জয়ী হয়েছেন। এখন রাজ্যে মন্ত্রিসভায় তাঁর ফিরে আসাটা শধু সময়ের অপেক্ষ‌া মাত্র। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর বলেছেন চন্দ্রিমাকে একটি ভাল দপ্তর দিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় নেওয়া হবে। তৃণমূল কংগ্রেস শুধু জয়ী হয়েছেন তাই নয় পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ঝুলিতে অন্তত দুই শতাংশ ভোট বাড়াতে সক্ষ‌ম হয়েছেন। মোট প্রদত্ত বৈধ ১ লক্ষ‌ ৭০ হাজার ৬২টি ভোটের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পেয়েছেন ৯৫হাজার ৩৬৯টি ভোট। বামফ্রন্টের সিপিআই প্রার্থীকে অনেক নীচে ঠেলে দিয়ে বিজেপি দ্বিতীয় স্থানে শুধু নয় বাম প্রার্থীর চেয়ে সাড়ে তিন গুণ ভোট পেয়েছেন। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পেয়েছেন মাত্র ২২৭০টি ভোট, এসইউসি পেয়েছে ১৪৭৬টি ভোট, নোটা-য় ভোট পড়েছে ১২৪১টি।

সিপিএম রাজ্য কমিটির প্রাক্তন সদস্য ও পূর্ব মেদিনীপুরের ডাকাবুকো নেতা লক্ষ‌ণ শেঠ ওই জেলায় সিপিএম সংগঠনের এক বিরাট অংশকে বিজেপিতে নিয়ে চলে যাওয়ায় বিজেপির ভোট বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। এই ভোটের ফলাফলের পর ‘নন্দীগ্রাম কাণ্ডের নায়ক’ লক্ষ‌ণ শেঠ-এর যে ভাবমূর্তি ক্ষ‌ুন্ন হয়েছিল তা বিজেপির কাঁধে হাত রেখে কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনতে সক্ষ‌ম হয়েছেন। এমনটা রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করলেও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব লক্ষ‌ণ শেঠের কোনও ইমেজ বা ভাবমূর্তি আছে এমনটা মনে করেন না শুধু নয় তার ভাবমূর্তি অদূর ভবিষ্যতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করেন না। তাহলে লক্ষ‌ণবাবুকে কেন বিজেপিতে নেওয়া হল? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির এক তরুণ নেতার মন্তব্য, ‘লক্ষ‌ণ শেঠকে দলে নেওয়ায় তাঁর অনুগামীদের যেমন পাওয়া গিয়েছে তেমনি আমরা অনেকগুলো বড় বড় সিপিএম পার্টি অফিস বিনা পয়সায় পেয়ে গিয়েছি। লাল ঝাণ্ডা ওড়া অফিসগুলিতে এখন গেরুয়া পতাকা উড়ছে।’ বিজেপি ইতিমধ্যে তমলুক লোকসভার উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। সেখানেও সিপিএম প্রার্থী তৃতীয় স্থানে। ফলে দক্ষ‌িণ কাঁথির ফলাফল কোনও অপ্রত্যাশিত ফল নয়। এমনটাই হবে প্রতিবেদক তিন সপ্তাহ আগেই এই পুর্বাভাস দিয়েছিলেন।

রাজনীতিতে ‘গো স্লো বাট স্টেডি’ কথাটি রয়েছে। রয়েছে মূল শত্রু নির্বাচন। এই দুটি কথা ভাবনা চিন্তায় না রেখে ভোটে অংশ গ্রহণ করলে যা হয় বামেদের ক্ষ‌েত্রে এই রাজ্যে তাই ঘটছে। ৩৪ বছরের ক্ষ‌মতা হারানোর পর দ্রুত ক্ষ‌মতায় ফিরতে চায় বামেরা। আর তাই তড়িঘড়ি ফর্মুলায় এগোতে গিয়ে হোচট খেতে হচ্ছে তাদের। এই উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে শিক্ষ‌া না নিয়ে সিপিএম তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধিতার লাইনেই পথ চলে তার মাসুল তাদের দিতে হবে নিদারুনভাবে। আর যার ফল ভোগ করতে হবে রাজ্যের সাধারণ মধ্যবিত্ত, গরিব, অসংগঠিত ক্ষ‌েত্রের শ্রমিক ও কৃষক ও কৃষিমজুরদের।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ