,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

সোস্যাল মিডিয়ায় লাগামহীন প্রচার হিন্দুত্ববাদীদের, নীরব পুলিশ প্রশাসন

লাইক এবং শেয়ার করুন

সুকুমার মিত্র, কলকাতা # সোস্যাল মিডিয়ায় হিন্দুত্ববাদীদের আধিপত্য পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রীতির ভারসাম্য বিনষ্ট করতে পারে। সংগঠিতভাবে বিভিন্ন ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে দ্রুত পোস্ট করাই শুধু নয়, ঘটনা ঘটেইনি এমন চাঞ্চল্যকর, স্পর্শকাতর সমস্ত বিষয় নিয়ে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। লাগামহীন অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তা বাজারে চালানো হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কর্দয্য ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ফেসবুক গ্রুপ, এসএমএস, ফেসবুক পেজ ছাড়াও এখন হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এই সব প্রচারের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য কেউ লিখলে তাঁর উপর আক্রমণাত্মকভাবে সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কোনও সুস্থ মানসিকতার ব্যক্তির পক্ষেখ ওই সব ভাষা বলা বা লেখা সম্ভবপর নয়। আক্রমণের টার্গেট করা হয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিমদের। গোহত্যা, বিক্রি বন্ধের দাবিও তোলা হচ্ছে। ইসলাম ধর্ম ও সন্ত্রাসবাদকে এক করে প্রচার করা এই সব সোস্যাল মিডিয়ার অ্যাডমিনদের কাজ। সাইবার ক্রাইম আমাদের দেশে আইটি অ্যাক্ট অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধও বটে। আইন আছে কিন্তু তার প্রয়োগ কোথায়? বহাল তবিয়তে এইসব সোস্যাল মিডিয়ায় যারা পোস্ট দেন তাদের কোনও শাস্তি হয় না। আর এই সুযোগে আরও উৎসাহী হয়ে সোস্যাল মিডিয়াকে কব্জা করে ফেলেছে হিন্দুত্ববাদী মৌলবাদীরা। বিপরীতে মুসলিম মৌলবাদীদের প্রচারও নেই এমনটা নয়।

কিন্তু প্রচারের ধরন দেখে মনে হয় এদের একটা বড় অংশ হিন্দুত্ববাদীদের নির্দেশে প্রচার করছেন আরবি, উর্দু নাম নিয়ে। এদের নাম, ঠিকানা অনেক ক্ষেরত্রে দেওয়া থাকে না। থাকলেও তা বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। আর এই সব পোস্ট দেখে কিছু সেকুল্যার বলে পরিচিত ব্যক্তি মুসলিম মৌলবাদীদের আক্রমণ করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন। তাঁদের অবস্থান দেশের গেরুয়াবাহিনীকেই মদত দিচ্ছে। এই ধারনার পিছনেও ইসলাম আর জঙ্গী বা সন্ত্রাসকে সমার্থক করে ফেলার মানসিকতা কাজ করছে। একটা লিংক RSS-এর গ্রুপ থেকে তুলে ধরা হল কী অশ্লীল ভাষায় এক মুসলিম নেতা (কৃত্রিম) মুসলমানদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ ও হুমকি দিচ্ছে। ধৈর্য্য ধরে দেখুন বা শুনুন। দেশীয় আইনে এইসব প্রচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও তা খাতায় কলমেই রয়ে গিয়েছে।

সাধারণ মামুলি ঘটনা নিয়ে পুলিশের তৎপরতা অনেক সময় বিস্ময় লাগে অথচ উগ্র সাম্প্রদায়িক এক তরফা হিন্দুত্ববাদীদের প্রচার নিয়ে নীরব থাকে পুলিশ বা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। সোস্যাল মিডিয়ায় এক তরফা হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে ব্যবহার করছেন তার মোকাবিলা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে কতটা হবে তা বলা মুস্কিল। কিন্তু যারা এই ধরনের প্রচারে উদ্বিগ্ন, আসুন আমরা সকলে মিলে একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করি, পাশাপাশি হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে সুস্থ ভাবনা চিন্তা ছড়িয়ে দিই। এটা আমাদের নাগরিক হিসেবে কর্তব্য। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আমাদের সংবিধান অনুমোদন করে না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির অনেকেই ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করে চলেছেন। সংঘ পরিবারের হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার ডাক একটা সেকুল্যার রাষ্ট্রে কীভাবে চলে? সংবিধান লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির কোনও বিধান নেই? প্রশ্নটা সহজ হলেও আজ এই দেশে এর উত্তর দেওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এই যখন পরিস্থিতি তখন সুক্ষ্মে কুটকচালি নিয়ে, আর এই রাজ্যের ক্ষেেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলকে সর্বভারতীয় স্তরে সোনিয়া গান্ধি ও রাহুল গান্ধিদের বিরুদ্ধে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধি, ইন্দিরা গান্ধি বা রাজীব গান্ধির মত এঁদের পরিস্থিতি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ