,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

যে কারণে ট্রাম্পকে বেছে নিলেন মার্কিনরা

লাইক এবং শেয়ার করুন

অনেক জরিপের ফল ও বিশ্লেষকদের আভাস উল্টে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন জনগণ আগামী চার বছর তাঁদের শাসনকর্তা হিসেবে তাঁর হাতেই দায়িত্ব সঁপে দিয়েছেন। কেন মার্কিনরা তাঁকেই বেছে নিলেন—তা নিয়ে চলছে নানা বিচার-বিশ্লেষণ।

মোটা দাগে যে কারণগুলোর কথা বলা যায়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডেমোক্র্যাটদের টানা শাসন নিয়ে একঘেয়েমি, যুক্তরাষ্ট্রকে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে দেখার স্বপ্ন, উজ্জীবিত শ্বেতাঙ্গ দল, ইসলামফোবিয়াকে কাজে লাগানো, তরুণ ও হিস্পানিকসহ মার্কিনদের মনের কথাটি বুঝতে পারা। বলা যায়, মার্কিনরা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। এবার যদি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জয়ী হতেন, তাহলে এটা টানা তৃতীয়বারে পৌঁছাত। রাষ্ট্র ও শাসনক্ষমতায় চলে আসত একঘেয়েমি। এটা থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন অনেক মার্কিন ভোটার। তাঁদের ভোট গেছে তাই ট্রাম্পের পক্ষে।

ট্রাম্প মার্কিনদের শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমেরিকা উইল বি গ্রেট অ্যাগেইন।’ শ্বেতাঙ্গ মার্কিনদের বেশির ভাগ তাঁর কথা বিশ্বাস করেছেন, আস্থা রেখেছেন। বহুত্ববাদের ধারণার ওপর যে আমেরিকা প্রতিষ্ঠিত, নানা ঘটনা ও কারণে এই ধারণার ওপর আস্থা রাখতে পারছিলেন না অনেকে। মনের ভেতর সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভের, ভোটের মাধ্যমে তারই প্রকাশ ঘটিয়েছেন। প্রত্যাখ্যান করেছেন হিলারিকে।

এবারের নির্বাচনে শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের নীরব ভোটবিপ্লব ঘটেছে। ডেমোক্র্যাটরা তো বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি-ই, প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রাথমিক বাছাইপর্বে অনেক রিপাবলিকান নেতাও বিষয়টি আমলে নেননি। কিন্তু তিনি যে সঠিক পথেই হাঁটছেন, ১৬ প্রার্থীকে পেছনে ফেলে রিপাবলিক পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়ে সে বার্তা আগেই দিয়েছিলেন। এই বার্তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বুঝতে না পারলেও সেটি বুঝে নিজের ভেতর ধারণ করেছিলেন অনেক মার্কিন। বলা হচ্ছিল, কম শিক্ষিত ও কর্মজীবী শ্বেতাঙ্গ ছাড়া ট্রাম্পের পক্ষে আর কেউ নেই।

ফলাফলে দেখা গেল, সব শ্রেণির শ্বেতাঙ্গদের ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। শ্বেতাঙ্গদের নীরব ভোট নিয়ে ধারণা করতে পারেনি মার্কিন গণমাধ্যম। বেশির ভাগ গণমাধ্যম ট্রাম্পের বিপক্ষে ছিল পুরো সময়টায়। তিনি প্রকাশ্যে গণমাধ্যমকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন। পরোয়া করেননি কারও। শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমকে ভুল প্রমাণ করে ছেড়েছেন তিনি। কংগ্রেস, সিনেট ও হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকানদের এখন একচেটিয়া আধিপত্য।

ট্রাম্প বেশ খোলাখুলিভাবে অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সমস্যার জন্য তিনি অভিবাসীদের দায়ী করেছেন। চাকরির বাজারে মার্কিনদের সুযোগ যে তাদের কারণে সংকুচিত হচ্ছে—তরুণ ভোটারদের সে কথা প্রভাবিত করেছে। তাঁদের অনেকের ভোট গেছে ট্রাম্পের পক্ষে। ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদেরা জনগণের মনের কথা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে এর নিষ্ঠুর জবাব দিয়েছেন।

জঙ্গিবাদ ও ইসলাম ধর্মের নামে যারা তাণ্ডব করছে, তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার মুসলমানরা প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন হিলারির পক্ষে। আর মার্কিন শ্বেতাঙ্গরা তাদের নিজস্ব ভীতি নিয়ে পাল্টা ঐক্য করেছে। ভোট দিয়েছে ট্রাম্পের পক্ষে। ফলে ব্যবসা থেকে রাজনীতির ময়দানে আসার মাত্র ১৭ মাসের মাথায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের উদাসীনতাও ট্রাম্পের জয়ে ভূমিকা রেখেছে। হিলারির পক্ষে কৃষ্ণাঙ্গরা উন্মাদনা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যায়নি। হিস্পানিকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। হিস্পানিক অভিবাসীরা হিলারির পক্ষে ভোট দিলেও নিরাশ করেনি ট্রাম্পকে। হিস্পানিকদের একচেটিয়া ভোট পাননি হিলারি। ডেমোক্র্যাট তরুণ ভোটাররা চাঞ্চল্য নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাননি। নারীরাও হিলারির পক্ষে হামলে পড়েননি একজন নারীকে প্রথমবারের মতো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে। অভিবাসীদের ভোটও এককাট্টা হয়ে পাননি হিলারি।

আগে যত বিতর্কিত মন্তব্যই করুন না কেন; নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব মানুষের প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। বিভক্তির ক্ষত সারাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, তিনি আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। এখন দেখার বিষয়, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র কতটা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ