AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ভাড়া নেই, স্ত্রীর লাশ কাঁধে ১০ কিমি হাঁটলেন স্বামী

লাইক এবং শেয়ার করুন

নগ্ন পা, শরীরে ময়লা শার্ট। হেঁটে চলেছেন দানা মাঝি। কাঁধে স্ত্রীর লাশ। বাবার সঙ্গে অঝোরে কেঁদে কিশোরী মেয়েও হাঁটছে।

অসহায় এক স্বামী এভাবে ১০ কিলোমিটার প্রিয়তমার মরদেহ নিয়ে হাঁটার পর গণমাধ্যমের নজরে পড়েন। পরে একটি গাড়ির ব্যবস্থা হলে মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরেন দানা মাঝি।

তিনি ইচ্ছে করে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে হাঁটেননি। টাকার অভাবে গাড়ি ভাড়া করার সামর্থ নেই। বিনা পয়সায় সরকারি হাসপাতালও গাড়ি দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ওই পথ পাড়ি দেন ভারতের দরিদ্রতম উড়িষ্যা রাজ্যের ভওয়ানি পাটনার দানা মাঝি।

বৃহস্পতিবার ভারতের এনডিটিভি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রাম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে জেলার কালানদী হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে যক্ষা রোগে মারা যান ৪২ বছর বয়সী দানা মাঝির স্ত্রী।

তিনি নিজের অসামর্থের কথা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে মৃতদেহটি বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা চেয়ে বসলে তা দিতে পারেননি দানা মাঝি।

কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীর মৃতদেহ কাঁধে তুলে হাঁটা শুরু করেন তিনি। বাবার সঙ্গে কাঁদতে কাঁদতে চলতে থাকে ১২ বছরের মেয়েও।

ভওয়ানিপাটনা জেলা হাসপাতাল থেকে দানা মাঝির মেলঘরায় বাড়ির দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। পায়ে হেঁটে ১০ কিলোমিটার যাওয়ার পর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের নজরে পড়েন তিনি।

তাদের উদ্যোগে একটি গাড়ির ব্যবস্থা হয়। সেই গাড়িতেই প্রিয়তমার মরদেহ নিয়ে বাড়ি পৌঁছান দানা মাঝি।

যে সাংবাদিক গাড়ির ব্যবস্থা করেন, তাকে মাঝি বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজের অসামর্থের কথা বলেছি। তাদের অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করেননি।’

ভারতের দরিদ্র রাজ্যগুলোর মধ্যে উড়িষ্যা অন্যতম। সেখানে চিকিৎসা সেবা পাওয়া বেশ কঠিন। তবে দুস্থ পরিবারগুলোর কথা ভেবে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘‌মহাপ্রয়াণ’ প্রকল্প চালু করেছিল উড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক।

তাতে বিনা খরচে সরকারি হাসপাতাল থেকে গাড়ি পাঠিয়ে মৃতদেহ পৌঁছে দেয়ার হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

৩৭টি সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সও দেয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন ব্যবহারে প্রশ্ন উঠছে।

এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিধানসভা সদস্য কালিকেশ সিং দেও।

হরিশচন্দ্র যোজনার আওতায় ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক বরুনদা দে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ