,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আগামীকাল ঢাকা আসছেন নিশা দেশাই

লাইক এবং শেয়ার করুন

নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল তিন দিনের সফরে আগামীকাল ঢাকা আসছেন। এ সফরে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থী দমনে ঢাকা-ওয়াশিংটনের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। নিরাপত্তা ইস্যুর বাইরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মুক্তমতের চর্চায় বাধা, মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা, শিক্ষক ও ব্লগার খুনসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন নিশা দেশাই।

নিশা বিসওয়াল আগামীকাল বুধবার ঢাকায় এলেও সরকারের সঙ্গে তার আলোচনা হবে বৃহস্পতিবার। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন। সরকারের বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, নিশা বিসওয়াল বাংলাদেশে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এসব আলোচনার বেশিরভাগ অংশজুড়েই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নিশা দেশাই বিসওয়ালের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে নানা কারণে সবাই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার জুলহাজসহ সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার ঘটনা তদন্তে সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এবার সেই আগ্রহের কথা সরকারকে সরাসরি জানানো হতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এখান থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সে সম্পর্কে জানাও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, নিশা দেশাই ঢাকায় আসার আগে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সেখানে কাউন্টার টেররিজম বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনার জন্য নিশা দেশাইকে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিশা দেশাইর ঢাকা সফরসূচি হিসেবে দুটি তারিখ প্রস্তাব করা হয়েছিল। একটি ২ মে এবং অপরটি ৪ মে। শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনার ভিত্তিতে ৪ মে অর্থাৎ বুধবার তার ঢাকা সফরের দিন নির্ধারণ করে।

জানা গেছে, নিশা দেশাইর ঢাকা সফর নিয়ে এরই মধ্যে সরকার ও বিরোধীপক্ষের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ঢাকার অবস্থান ব্যাখ্যা করবে সরকার। অন্যদিকে বিএনপিও এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন নিরাপত্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই তার আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান রোধে মার্কিন সরকার ঢাকার সঙ্গে একাধিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তারপরও একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতেই নিশা দেশাই ঢাকা আসছেন।

যদিও এই সফরকে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে মনে করেন শাসকদল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। জানতে চাইলে তিনি এ প্রসঙ্গে সোমবার বলেন, ‘নিশা দেশাই এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশে সফর করেছেন। দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই তিনি সফরে এসেছেন। বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এবারের সফরও এর ব্যতিক্রম নয়।’ কাজী জাফর উল্লাহ আরও বলেন, ‘দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য প্রসঙ্গ উঠলে অবশ্যই সরকারও তার অবস্থান স্পষ্ট করবে।’

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ঘাটতি, মুক্তমতের চর্চায় বাধাসহ ঢাকার সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবেন নিশা দেশাই। মুক্তমতের চর্চাকারীদের একের পর এক জঘন্যভাবে হত্যার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে সরকারকে একাধিকবার বলেছে বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব আছে। কিন্তু ঢাকা বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি অস্বীকার করেছে। প্রথম থেকে জোরের সঙ্গে বলে আসছে যে বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদীদের হাতে একের পর এক ভিন্ন মতাবলম্বী হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে আন্তর্জাতিক মহলে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও এসব হত্যাকাণ্ডের খবর ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। বাংলাদেশে এর আগে ঘটে যাওয়া এ ধরনের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এত বেশি প্রতিক্রিয়া জানায়নি আন্তর্জাতিক মহল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী কোনো সংগঠনের যোগাযোগ আছে কিনা এ নিয়ে যখন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সরকারের বাদানুবাদ চলছে, তখন ফের একই ধরনের ঘটনা সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় বিসওয়ালের ঢাকা সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি ঘরানার শীর্ষ বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ সোমবার বলেন, ‘নিশা দেশাইর এই সফর রুটিন ওয়ার্কের অংশ হলেও এবারকার সফর তাৎপর্যপূর্ণ। একের পর এক হত্যাকাণ্ডসহ নানা ঘটনায় মর্কিন সরকার উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দেশে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে তা নিয়ে তারা অনেক বেশি সোচ্চার। এসব কারণে এই সফর খুবই গুরুত্ব বহন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ ধাক্কা না দিলে আমরা সোজা হয়ে হাঁটতে পারি না। নিশা দেশাই সেই ধাক্কা দিতে আসছেন কি না তা সময়ই বলবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান সোমবার বলেন, ‘সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলতেই মূলত নিশা দেশাই ঢাকা আসছেন। তবে তাদের এই অতিউৎসাহী মনোভাব আমি ভালো চোখে দেখছি না। এটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। জাতিসংঘ চার্টারের পরিপন্থী।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে আইএস আছে কী নেই- বিষয়টি নিশ্চিত হতে এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রয়োজনে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে।’

সূত্র জানায়, এ অবস্থায় আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোও এবার কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা ভাবছে। বিশেষ করে ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, শিক্ষক, হিজড়া, সমকামী ও বিদেশী নাগরিকদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসূত্র থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চায় পশ্চিমা দেশগুলো। বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট জুলহাজ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইএসের অস্তিত্ব নিয়ে জোরালো অভিযোগ আনেন। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতের এই অভিযোগের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) আবদুর রশিদ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সোচ্চার হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারে সরকারকে এখন আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ধরনের ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অগ্রগতি দেখানো গেলে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তা কমে আসবে। সরকার এই কাজটি দ্রুত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে আসেন মার্কিন এই সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিন দিনের ওই সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন পেশার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সবার কাছ থেকে তখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচনের তাগিদ দেন। কিন্তু তার উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। তবে ওই সফরকে ঘিরে তখন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর তিনি ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে আরও দু’দফায় ঢাকায় আসেন।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ