,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

একটি মহল সব সময় সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করছে

লাইক এবং শেয়ার করুন

একটি মহল বিচার বিভাগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝাচ্ছে, সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। শনিবার (১৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য নবনির্মিত বহুতল আবাসিক ভবন উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সঙ্গে দূরুত্ব সৃষ্টির জন্য কেউ কেউ চেষ্টা করছে। এতে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিচার বিভাগের অনেক সংকট থাকা সত্তে¡ও বিচারিক কাজ এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

এ সময় তিনি উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আশা করি বিচার বিভাগকে আপনি আপন করে দেখবেন। বিচার বিভাগকে ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেয়ার পরও তা থেমে গেছে। কেন থেমে গেল সেটি আপনাকে দেখার অনুরোধ করবো।’দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বিচারক স্বল্পতা, অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কাক্সিক্ষত পর্যায়ে না যাওয়া এবং সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে একটি মহলের অপচেষ্টার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে কোনো ইস্যুই অবহিত করা হয়নি। সম্পূর্ণ ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের কাছে সত্য গোপন করে সিদ্ধান্তগুলো হাসিল করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করা হলে ভুল বোঝাবুঝি হতো না।’

স্বাধীনতা পরবর্তী যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বিচার বিভাগ সবচেয়ে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেল হত্যা মামলাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত মামলা, সন্ত্রাস, বিরূপ পরিবেশ রক্ষা, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা নিরসনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ ভূমিকা রেখেছে। যা রাষ্ট্রের অন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পালন করেনি। ফলে বিচার বিভাগের মাঝে রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গের ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই।’  প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মামলাজট। জনসংখ্যার অনুপাতে বাংলাদেশে বিচারকের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য। ভারতে ১০ লক্ষ মানুষের জন্য ১৮ জন বিচারক রয়েছে, অথচ বাংলাদেশে মাত্র ১০ জন। তদুপরি এই অল্পসংখ্যক বিচারকের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুযোগ নাই।’

রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় ১ দশমিক ৫ একর জমিতে বিচারপতিদের জন্য ২০ তলা এই ভবনটি নির্মিত হয়েছে। এতে ৭৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের মে মাসে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে একশত চুয়াত্তর কোটি টাকা । 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এম শহিদউল্লাহ খন্দকার।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ