,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে
Abuse

প্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, শালিসে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

লাইক এবং শেয়ার করুন

এম নজরুল ইসলাম, বগুড়া:

বগুড়ার আদমদীঘিতে সম্পর্কীয় নাতনি বাক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সাথে অনৈতিক মেলামেশায় গর্ভধারণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে জৈনক হাকিম নামের এক ব্যক্তি। দালাল লাগিয়ে গর্ভপাতের মাধ্যমে ভ্রæন হত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হবার পর গত শনিবার রাতে ওই গ্রামে শালিস বৈঠক বসিয়ে আপোষ-মিমাংসা করে দিয়েছে এলাকার কয়েক জন গ্রাম্য মাতব্বর।

জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার সদরের উজ্জলতা গ্রামের ক্ষুদ্র মৎস্যপোনা ব্যবসায়ী শাহজাহান আলীর বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে (১৮) এর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে দাদা সম্পর্কীয় প্রতিবেশী আব্দুল হাকিম (৪৩)। এক পর্যায়ে কিশোরী মেয়েটি অন্তঃসত্ত¡া ও হয়ে পড়ে। কিশোরীর মা মনোয়ারা বেগম মাস খানেক পুর্বে তার মেয়ের অবস্থা বুঝতে পারে। পরে কে তার এই সর্বনাশ করেছে তা- মেয়ের ইশারা ভাষায় চিহ্নিত করেন। পরে পরিবারের লোকজন ঘটনাটি আব্দুল হাকিমকে জানালে প্রথমে অস্বিকার করলেও পরে স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

এনিয়ে কানাকানি চলার এক সময় প্রতিবেশী জনৈক কিনা মিয়া নামের এক ব্যক্তির পরামর্শ চায় ওই কিশোরীর পরিবার। কিনা মিয়া গর্ভপাত করানোর পরামর্শ দেয়। কিশোরীর মা মনোয়ারা বেগম ঘটনাটি তার স্বামী শাহজাহানকে ফোনে অবহিত করলে, তিনি বাড়িতে না ফেরা পর্যন্ত কোন কিছু না করার জন্য স্ত্রীকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রতিবেশী কিনা মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম তড়িঘড়ি করে চলতি মাসের প্রথম দিকে ওই কিশোরীকে উপজেলার মুরইল বাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের নিকট গিয়ে গর্ভপাত করায়।

 

 

এর পর পুরো ঘটনা এক কান দুই কান করতে করতে প্রায় সারা গ্রামে জানাজানি হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক হলে উভয় পরিবার গ্রামের মাতব্বরদের সরনাপন্ন হয়। এর প্রেক্ষিতে গ্রাম্য মাতব্বরা থানা পুলিশকে না জানিয়ে গত শনিবার রাতে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শালিস বৈঠক বসায়। শালিসে সমবেত হয় গ্রামের সব বয়সের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। শালিসে নরপশু আব্দুল হাকিম ও গর্ভপাতে সহায়তাকারি নাসিমা বেগম তাদের দোষ স্বীকার করে।

 

 

তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গ্রামের কয়েকজন মাতব্বরা আব্দুল হাকিমকে শালিসেই উত্তম-মাধ্যম দেওয়া ও নগদ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা এবং গর্ভপাত করানোর দায়ে প্রতিবেশী কিনা মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগমের ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদানের সিদ্ধান্ত দেয়। এর প্রেক্ষিতে আব্দুল হাকিম তাৎক্ষনিক ভাবে ৫০ হাজার প্রদান করে। অবশিষ্ট ২০ হাজার টাকার প্রদানের জন্য ১০ দিনের সময় নিয়েছে। পক্ষান্তরে নাসিমা বেগম চার আনা ওজনের সোনার কানের দুল দিয়ে তার জরিমানা পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবন্ধী কিশোরীর বাবা শাহজাহান আলী ও হাকিমের একমাত্র ছেলে রায়হান আলী সহ গ্রামবাসী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এদিকে এই মাতব্বরদের মধ্যে জৈনক তাসের আলীর সাথে রবিবার সরেজমিন আলাপ কালে তিনি শালিস-বৈঠক করার ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

 

আদমদীঘি থানার ওসি শওকত কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরী অন্তসত্বা ও গ্রাম্য শালিসের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ভিকটিমের সাথেও কথা বলেছি। স্থানীয়রাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ওসি শওকত কবির বলেন, এঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও অন্যান্য সংবাদ