,

AD
নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দিনে দিনে বন্ধ হয়ে হস্তচালিত তাতঁ শিল্প

লাইক এবং শেয়ার করুন

আদিত্ব্য কামাল বিশেষ প্রতিনিধি  # ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কাচাঁ মালের উর্ধ্বগতি আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে হস্তচালিত ছোট-বড় তাঁত কারখানাগুলো । আর যেগুলো চালু আছে সেগুলোও চলছে কোন রকমে।তাই জীবনের তাগিতে এ শিল্পের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তারা চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়।

তবে, ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাঁত পল্লী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের একসময় দিন-রাত চলত অসংখ্য কারখানা। কিন্তুু সময়ের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে অনেকগুলো হস্তচালিত তাঁত কারখানা। বাঞ্চারামপুর রুপকদী ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ছিল হস্তচালিত তাতঁ কারখানা। তখন ঐসব এলাকায় দিন-রাত তাঁতের খট খট শব্দে মুখর থাকলেও এখন শুধুই সুনসান নীরব। যন্ত্র চালিত পাওয়ার লুমের আধিক্য এবং রং সুতার দাম বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দিন দিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হস্তচালিত তাঁত কারখানা গুলো।

কয়েকজন তাতঁ শ্রমিকরা জানান, এখন বাঞ্ছারামপুরে বিভিন্ন ইউনিয়নের সবমোট পাঁচ থেকে সাতশ তাতিঁ আছেন। বর্তমানে কাজ খুবই কম আবার অন্যদিকে মহাজনদের বেচা-কেনা কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের তারা আগের মত কাজ দিতে পারছেন না। তবে বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্বল্প পরিসরে কিছু কারখানা চালু থাকলেও বেড়ে চলেছে লোকসানের বোঝা। আর এখনো যারা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছেন তারা রয়েছেন চরম বিপাকে ও মানবতর জীবন যাপন করছেন। একজন তাত মালিক জানান, কাচাঁ মাল কেনা আর শ্রমিকের মজুরি দিয়ে সব খরচ মিলিয়ে দেখা যায় যে, প্রতি এক থান লুঙ্গি ও শাড়ি তৈরী করার পর বাজারে দোকান দার কাছে বিক্রি করতে গেলে প্রতি থানে একশ থেকে দুইশত টাকার মত লোকসান হচ্ছে।তাই লোকসানের বুঝা দিনে দিনে বেড়ে যাওয়াই বাঞ্ছারামপুর বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্ধ যাচ্ছে অসংখ্য হস্তচালিত তাতঁ কারখানা।

তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন অনেকেই। ঐতিহ্যবাহী এ তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানালেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত ওসমান। তিনি বলেন, সরকারের এ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করে অত্র অঞ্চলের এই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। বাঞ্ছারামপুরে তিনটি ইউনিয়নের সব চেয়ে বেশি হস্তচালিত তাতঁ কারখানা। আমরা কি কারণে তাতঁ কল গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তা মনিটরিং করার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছি। শুধু রুপকদী ইউনিয়নে তিনশ থেকে চারশত কারখানা ছিল। তাদের মূল সমস্যা কি তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


লাইক এবং শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

আরও অন্যান্য সংবাদ